হজ্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
১*** কোন মহিলার কাছে যদি ১৩ থেকে ১৪ ভরি গোল্ড + অতিরিক্ত নগত অল্প কিছু থাকে তাহলে কি তার উপর হজ্ব ফরজ হবে? ঐ মহিলার হামরামের কাছে যদি হজ্ব করার মতন সামর্থ না থাকে সে ক্ষেত্রে করনীয় কি?
২**কোনো মহিলার বসতবাড়ি আছে, অল্প কিছু ফসলি জমি আছে যেগুলোর ফসল পরিবারের ভরনপোষণ এ খরচ হয় এবং ১ভরি স্বর্ণের ব্যাবহারিত অলংকার আছে এছাড়া তার অতিরিক্ত কোনো টাকা পয়সা নেই, তাহল কি ঐ মহিলার উপর হজ্ব ফরজ হবে?
Answer
উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত প্রামাণ্য কিতাবসমূহ: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, বেহেশতী জেওর, ফাতাওয়া আলমগীরী, হিদায়া, শরহু মা‘আনিল আছার, উসুলুশ শাশী।
প্রশ্ন ১: কোনো মহিলার কাছে ১৩-১৪ ভরি স্বর্ণ (গহনা) ও অল্প নগদ টাকা থাকলে, তার উপর হজ্ব ফরজ হবে কি? যদি তার মাহরাম (যার সাথে হজ্বে যাওয়া বৈধ) না থাকে, তবে করণীয় কী?
উত্তর:
🔹 হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্ত:
হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য ইসতিতা‘আত (সামর্থ্য) শর্ত। ইসলামী শরীয়তে ইসতিতা‘আতের অর্থ হলো- নিজের মৌলিক প্রয়োজন (বাসস্থান, আসবাবপত্র, ব্যবহার্য পোশাক-আভরণ) পূরণের পর হজ্বের সফরের খরচ ও পরিবারের ভরণপোষণের (সফরকালীন) জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকা। মহিলার জন্য অতিরিক্ত শর্ত হলো মাহরামের উপস্থিতি।
🔹 স্বর্ণের ক্ষেত্রে হানাফী ফিকহের নীতি:
ব্যবহার্য স্বর্ণালংকার (যা মহিলা নিয়মিত পরিধান করে বা সামাজিক প্রয়োজনে রাখে) মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। তাই তা বিক্রি করে হজ্ব করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যদি স্বর্ণের পরিমাণ প্রচলিত রীতি ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়, তাহলে সেটি সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তা বিক্রি করে হজ্ব করা ওয়াজিব হতে পারে।
উল্লিখিত অবস্থায় ১৩-১৪ ভরি স্বর্ণ যদি তার ব্যক্তিগত ব্যবহার্য গহনা হয় (যা তিনি মাঝে মাঝে পরেন) এবং এটি তার সামাজিক মর্যাদা ও প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে তা মৌলিক প্রয়োজন বলে গণ্য হবে। ফলে তাকে তা বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে না। অল্প নগদ টাকা হজ্বের খরচের জন্য যথেষ্ট নয়।
🔹 মাহরাম না থাকলে:
মহিলার জন্য হজ্ব ফরজ হতে হলে মাহরাম পুরুষের সঙ্গী থাকা আবশ্যক। যদি তার কোনো মাহরাম (স্বামী, পিতা, ভাই, পুত্র ইত্যাদি) না থাকে অথবা থাকলেও তার সাথে হজ্বে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তার উপর হজ্ব ফরজ হবে না। যতদিন মাহরামের ব্যবস্থা না হবে, ততদিন হজ্ব ফরজ নয়; বরং এটি তার উপর দায়িত্ব হিসেবে বহাল থাকবে (অর্থাৎ পরে সামর্থ্য ও মাহরাম হলে আদায় করতে হবে)।
📖 প্রমাণ:
- হাদীস: "কোনো মহিলা যেন মাহরাম ব্যতীত সফর না করে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১০৮৮)
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): "মহিলার জন্য হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্ত হলো তার সাথে মাহরাম থাকা। যদি না থাকে, তবে ফরজ নয়।" (২/৪৬৭)
- ফাতাওয়া আলমগীরী: "মহিলা যদি মাহরাম না পায়, তবে তার উপর হজ্ব ফরজ নয়।" (১/২৩৩)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): "ব্যবহার্য স্বর্ণালংকার হজ্বের সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (২/২২৭)
সিদ্ধান্ত: উক্ত মহিলার উপর হজ্ব ফরজ হচ্ছে না। কারণ: (ক) ব্যবহার্য স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে বাধ্য নয়, (খ) নগদ অর্থ অপ্রতুল, (গ) মাহরামের ব্যবস্থা নেই। তবে ভবিষ্যতে যদি মাহরাম পাওয়া যায় এবং অন্যান্য সামর্থ্য থাকে, তবে হজ্ব আদায় করা আবশ্যক হবে।
প্রশ্ন ২: কোনো মহিলার বসতবাড়ি, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প ফসলি জমি, ১ ভরি ব্যবহার্য স্বর্ণালংকার আছে; অতিরিক্ত কোনো টাকা-পয়সা নেই। তাহলে কি তার উপর হজ্ব ফরজ হবে?
উত্তর:
🔹 হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ শর্ত:
হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে হবে। বসতবাড়ি, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি (যার ফসল পরিবারের খরচে চলে যায়), এবং ব্যবহার্য স্বর্ণালংকার (যা তিনি পরিধান করেন) সবই মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।
🔹 জমির অবস্থা:
যদি ফসলি জমির উৎপাদন শুধু পরিবারের ভরণপোষণে চলে যায় এবং তা থেকে হজ্বের খরচের জন্য কোনো উদ্বৃত্ত না থাকে, তাহলে তা সামর্থ্যের মধ্যে গণ্য হবে না।
🔹 স্বর্ণালংকার:
১ ভরি স্বর্ণ যদি ব্যবহার্য হয়, তবে তা মৌলিক প্রয়োজন। ফলে তা বিক্রি করে হজ্ব করার বাধ্যবাধকতা নেই।
📖 প্রমাণ:
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): "হজ্বের সামর্থ্য বলতে সেই সম্পদ বুঝায় যা মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত। ব্যবহার্য গহনা, বাসস্থান, প্রয়োজনীয় জমি ইত্যাদি মৌলিক প্রয়োজন।" (৩/৪৫)
- বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): "যে নারীর কাছে ব্যবহার্য গহনা ছাড়া আর কিছু না থাকে, তার উপর হজ্ব ফরজ নয়।" (হজ্ব অধ্যায়)
সিদ্ধান্ত: উক্ত মহিলার উপর হজ্ব ফরজ হবে না। কারণ তার কাছে হজ্বের খরচ বহনের মতো কোনো অতিরিক্ত সম্পদ নেই।