ইহরাম অবস্থায় মেয়েদের বেনি করা ও চুলৈ তেল দেওয়া যাবে কিনা?
Hajj and Umrah · Default · Questioner: Super Admin · 10 May 2026 · 3 views
This answer is according to the ‘Default’ school of thought.
This answer was reviewed and published by Sheikh Admin.
Question
ইহরাম অবস্থায় মেয়েদের বেনি করা ও চুলৈ তেল দেওয়া যাবে কিনা?
বিভিন্ন মাযহাব থেকে লেখ
বিভিন্ন মাযহাব থেকে লেখ
Answer
ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য মাথার চুল বেনি করা (ব্রেইড করা) এবং চুলে তেল দেওয়া সম্পর্কে বিভিন্ন মাযহাবের মতামত নিম্নরূপ। সাধারণত, কুরআন ও সহিহ হাদিসে সরাসরি এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা প্রযোজ্য। নিচে প্রধান চার মাযহাবের (হানাফি, মালিকি, শাফিই, হাম্বলি) গ্রহণযোগ্য মতামত উল্লেখ করা হলো।
১. হানাফি মাযহাব
- চুলে তেল দেওয়া: সুগন্ধিবিহীন (আতর বা সুগন্ধিমুক্ত) তেল ব্যবহার করা জায়েজ। তবে কিছু হানাফি আলেম একে মাকরুহ (অপছন্দনীয়) বলেছেন, কারণ তেলের কারণে চুলে ময়লা জমতে পারে বা পোকামাকড় আকৃষ্ট হতে পারে। তবে সাধারণত অনুমোদিত।
- বেনি করা: ইহরাম অবস্থায় চুল বেনি করা জায়েজ। যদি বেনি আগে থেকে করা থাকে তবে তা খোলার প্রয়োজন নেই। বেনি করার সময় চুল ভেঙে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে তার জন্য দম (ক্ষতিপূরণ) দিতে হবে না, কারণ এটি ইচ্ছাকৃত নয়।
২. মালিকি মাযহাব
- চুলে তেল দেওয়া: সুগন্ধিহীন তেল ব্যবহার করা জায়েজ, তবে উত্তম হলো না দেওয়া। যদি তেলে সামান্য সুগন্ধও থাকে তবে তা নিষিদ্ধ।
- বেনি করা: ইহরামের আগে বেনি করা সুন্নত এবং ইহরাম অবস্থায় তা রেখে দেওয়া জায়েজ। ইহরামের মধ্যে নতুন করে বেনি করাও জায়েজ, তবে মাকরুহ বলা হয়েছে, কারণ তাতে চুল ভাঙার ঝুঁকি থাকে। বেনি করার সময় যদি চুল ভেঙে ফেলে তবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. শাফিই মাযহাব
- চুলে তেল দেওয়া: সুগন্ধিবিহীন তেল ব্যবহার করা জায়েজ এবং তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সুগন্ধিযুক্ত তেল নিষিদ্ধ।
- বেনি করা: ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য চুল বেনি করা জায়েজ। আসলে ইহরামের আগে বেনি করে রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়), যাতে চুল এলোমেলো না থাকে। ইহরামের মধ্যে বেনি করলে কোনো ক্ষতি নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে যাতে চুল না ভাঙে।
৪. হাম্বলি মাযহাব
- চুলে তেল দেওয়া: তেল সুগন্ধিহীন হলে জায়েজ। তবে ইহরামের অবস্থায় তেল দেওয়ার কারণে যদি চুলে কিছু জিনিস লেগে যায় (যেমন ময়লা) তবে তা ধুয়ে ফেলা ভালো।
- বেনি করা: মহিলাদের জন্য ইহরামের আগে বা পরে চুল বেনি করা জায়েজ। বেনি করার ফলে চুলের কোনো ক্ষতি হলে (যেমন চুল ভেঙে গেলে) ইচ্ছাকৃতভাবে না করলে দম ওয়াজিব নয়।
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (সকল মাযহাবের ঐক্যমত ও পার্থক্য)
- সুগন্ধি নিষিদ্ধ: যেকোনো মাযহাবে ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত তেল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই শুধুমাত্র সুগন্ধিহীন (আতরহীন) তেল ব্যবহারের অনুমতি আছে।
- বেনি করা জায়েজ: অধিকাংশ মাযহাবে মহিলাদের চুল বেনি করা জায়েজ। বরং ইহরামের আগে বেনি করে রাখা উত্তম, যাতে ইহরামে চুল পরিচ্ছন্ন থাকে। তবে বেনি করার সময় যাতে চুল না ভাঙে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
- মালিকি মাযহাবে কিছুটা কঠোরতা: মালিকি মতে ইহরামের মধ্যে নতুন করে বেনি করা মাকরুহ, অন্যদের মধ্যে তা জায়েজ।
- ক্ষতিপূরণ: কোনো মাযহাবেই ইচ্ছাকৃতভাবে চুল না ভাঙলে দম (ক্ষতিপূরণ) ওয়াজিব হয় না। তবে যদি অসতর্কতায় চুল ভেঙে যায় তবে হানাফি ও হাম্বলি মত অনুযায়ী সাধারণত দম ওয়াজিব নয়, শাফিই ও মালিকিতে কিছু ক্ষেত্রে কাফফারার প্রয়োজন হতে পারে।
পরামর্শ: ইহরাম অবস্থায় মহিলারা সুগন্ধিহীন তেল ব্যবহার করতে পারেন এবং চুল বেনি করতে পারেন। তবে সুন্নত হলো ইহরাম বাঁধার আগে চুল বেনি করে নেওয়া এবং তাতে তেল দেয়া যদি প্রয়োজন হয়। কোনো অবস্থাতেই সুগন্ধিযুক্ত তেল বা পারফিউম লাগানো যাবে না।