সূরা ফুরকান ৭৪ নং আয়াত পড়ার পরেও বিবাহিত জীবনে কষ্ট কেন? দোয়া কবুল না হওয়ার অর্থ কী?

Family Life · Hanafi

Questioner: Ayesha0987
Question Asked: 04 Jun 2026, 10:09 AM
Reviewed & Published: 04 Jun 2026, 10:11 AM
Views: 57
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
সুরা ফুরকান এর ৭৪নং আয়াত পড়লে নাকি চক্ষুশীতল্কারী জীবন সংগি পাওয়া যায়।হুজুর আমি বিয়ের আগে অগনিত বার পড়েছি বিয়ের জন্য দুয়া করেছি।কিন্তু বিয়ের পর আমি সুখী হতে পারিনি।আমার স্বামী আমার প্রতি যত্নশীল না,আমার খোজ খবর নেয়না।নামায ঠিক মিতো পড়ে না।আমাকে চেহারা নিয়ে খোটা দেয়।হুজুর বিয়ের আগে ইস্তেখারা করেছি তাও কেনো আমার বিবাহিত জীবন এমন? অগনিত বা ইস্তেগফার ও করেছিলাম যাতে বিয়ের জীবন সুখের হয়।আমার দুয়া গুলা কি কবুল হয়নি???এতো কান্না এতো দুয়া সব কি বিফলে গেলো?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, কুরআনের প্রতিটি আয়াতই বরকতময় এবং নির্দিষ্ট ফজিলতের জন্য পড়া যায়। সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াতটি দোয়া হিসেবে পড়া হয় যাতে আল্লাহ তাআলা পত্নী ও সন্তানদের মাধ্যমে চক্ষুশীতলতা দান করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এই আয়াত পড়লেই অবশ্যই আদর্শ জীবনসঙ্গী পাওয়া যাবে বা সংসারে কোনো সমস্যা হবে না। বরং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি পরিবারকে শান্তিময় এবং পরকালের পথে সহায়ক করেন।

দোয়া কবুল হওয়া মানে কি সব সময় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া? ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, দোয়া কবুল হওয়ার তিনটি রূপ রয়েছে: ১. দোয়ার বিনিময়ে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া। ২. দোয়ার বিনিময়ে ভবিষ্যতে কোনো বিপদ দূর হওয়া। ৩. দোয়ার বিনিময়ে আখিরাতে সওয়াব সঞ্চিত হওয়া। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুসলিম ব্যক্তি যে দোয়াই করে, আল্লাহ তা কবুল করেন; হয় তা দুনিয়াতে দ্রুত পূরণ করেন, না হয় তা আখিরাতের জন্য জমা রাখেন, অথবা এর বিনিময়ে তার কোনো কষ্ট দূর করে দেন।" (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১১১৩৩)

অতএব, আপনার দোয়া বিফলে যায়নি। বরং হয়তো আল্লাহ তা আপনার জন্য আখিরাতে জমা রেখেছেন, অথবা এর বিনিময়ে আপনার থেকে কোনো বড় বিপদ দূর করেছেন।

ইস্তেখারা করেও কেন বিবাহিত জীবন কষ্টকর হলো? ইস্তেখারা মানে আল্লাহর কাছে ভালো-মন্দ বুঝার জন্য দোয়া করা। কিন্তু ইস্তেখারার ফল সব সময় প্রত্যাশিতভাবে না-ও আসতে পারে। কখনো কখনো ভালো সিদ্ধান্তের পরও মানুষের আচরণ পরিবর্তন হতে পারে। ইস্তেখারা করলে যদি ভালো মনে হয়, কিন্তু পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দেয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে ইস্তেখারা ভুল হয়েছে। বরং আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য যে পরিণতি নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে কল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে। যেমন—এই কষ্ট আপনাকে ধৈর্য ও আখিরাতের সওয়াবের মাধ্যমে উন্নত করছে। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন: "কখনো বান্দার জন্য বিপদ দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতে বড় কল্যাণ বয়ে আনে।"

আপনার স্বামীর প্রতি করণীয়: ১. ধৈর্য ধারণ করুন। আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ আছেন।" (সূরা বাকারা: ১৫৩) ২. স্বামীর সাথে নম্রভাবে কথা বলুন, তার নামাজ ও দ্বীনী বিষয়ে উৎসাহ দিন। তবে জোর করবেন না, বরং দোয়া করুন। ৩. নিজের ইবাদত ও দোয়া অব্যাহত রাখুন। বিশেষত শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে তার হেদায়েতের জন্য দোয়া করুন। ৪. স্বামীর আচরণ নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। আপনার দায়িত্ব হলো দোয়া ও চেষ্টা করা, ফল আল্লাহর হাতে।

উপদেশ: আপনার কষ্ট ও অশ্রু আল্লাহর কাছে মূল্যবান। তিনি কখনো বান্দার কান্না ও দোয়া বিফলে দেন না। বরং তা আপনার জন্য সওয়াবের কারণ হবে। সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত পড়া চালিয়ে যান, পাশাপাশি স্বামীর জন্য কল্যাণের দোয়া করুন। আশা করি, একদিন আল্লাহ আপনার সংসারে শান্তি দেবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও শান্তি দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.