একটি জমির ভাড়া আসে মাসে ৩৮,০০০ টাকা এর মত। সেটা দিয়ে আমার পরিবার চলে। এখন আমার কি কুরবানি ওয়াজিব?
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
আমার বাবা মারা গেছেন গত বছর। আমি বিবাহিত এবং গৃহিণী। আমরা দুই ভাই এক বোন। আমাদের সম্পত্তি বলতে একটা জমি যেটার মূল্য অনুযায়ী আমি ৩০-৪০ লাখ টাকা পাই ভাগে। কিন্তু সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া এবং যা এখনো ভাগ হয়নি। ভাড়া আসে মাসে ৩৮০০০ এর মত। সেটা দিয়ে আমার নিজেদের পরিবার চলে। এছাড়া আমার কোন ইনকাম নেই। আমার উপর কি কোরবানি ওয়াজিব?
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টন না হলেও আপনি প্রায় আপনার বাবার সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশর মালিক। (পিতার সম্পত্তিতে পুত্ররা ২ ভাগ, কন্যা ১ ভাগ পায়, যদি আপনার মা জীবিত থাকেন, তাহলে তিনি অষ্টমাংশর মালিক) । আপনি উল্লেখ করেছেন জমির মূল্য ৩০-৪০ লাখ টাকা। উক্ত জমির ভাড়া দ্বারা সংসার চলে। ভাড়া বাবৎ যা পান, সাংসারিক খরচে চলে যায়, তাই এই জমি প্রয়োজনীয় জমি হিসেবে বিবেচিত হবে। এই জমি ছাড়া আর কোনো সম্পদ না থাকলে আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না।
ইসলামী শরী‘আতে কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ:
১. মুসলিম, ২. সুস্থ মস্তিষ্ক, ৩. প্রাপ্তবয়স্ক, ৪. মুকীম (মুসাফির নয়), ৫. নিজের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া (চায় মালে নামী হোক বা গায়রে নামী) – তবে কুরবানীর জন্য এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়; বরং ১০, ১১, ১২ জিলহজ্জ তারিখে নেসাবের মালিক থাকলেই ওয়াজিব হয়। এবং মালে নামী (স্বর্ণ,রূপা,নগদ টাকা, ব্যবসায়িক পণ্য) হওয়া শর্ত নয়। গায়রে নামী মালও যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলেও কুরবানি ওয়াজিব হবে।
আপনার ক্ষেত্রে:
আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।**
কিতাবের দলিল:
১. রদ্দুল মুহতার (২/২৮৬):
"وَمَنْ مَلَكَ نِصَابًا فَاضِلًا عَنْ حَاجَتِهِ الْأَصْلِيَّةِ يَوْمَ الْأَضْحَى فَعَلَيْهِ الْأُضْحِيَّةُ"
অর্থ: “যে ব্যক্তি যিলহজ্জের দিন নিজ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।”
২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/২৯২):
"الْأُضْحِيَّةُ وَاجِبَةٌ عَلَى كُلِّ مَنْ كَانَ مُوسِرًا وَالْمُوسِرُ هُوَ مَنْ يَمْلِكُ نِصَابًا فَاضِلًا عَنْ حَاجَتِهِ الْأَصْلِيَّةِ"
অর্থ: “কুরবানী ওয়াজিব প্রত্যেক সচ্ছল ব্যক্তির উপর, আর সচ্ছল ঐ ব্যক্তি যে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাবের মালিক হয়।”
৩. বেহেশতী যেওর (আশরাফ আলী থানভী, কুরবানীর অধ্যায়):
স্ত্রী-পুরুষ সবার জন্য কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত একই।
উপসংহার:
আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।