সৌদির তারিখ হিসেবে আরাফার দিন হবে? না স্থানীয় তারিখ হিসেবে আরাফার দিন গণ্য হবে?

Hajj and Umrah · Hanafi

Questioner: Sabiha Sanjida
Question Asked: 26 May 2026, 05:32 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 06:07 PM
Views: 116
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আরাফার দিন জিলহজ্জ মাসের কোনদিন হবে? সৌদির তারিখ হিসেবে আরাফার দিন হবে? না স্থানীয় তারিখ হিসেবে আরাফার দিন গণ্য হবে?

Answer

উত্তর:
আরাফার দিন হলো জিলহজ মাসের ৯ তারিখ। এটি হজের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দিন, যেদিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। যারা হজে যান না তাদের জন্যও এই দিনটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, বিশেষত এই দিনে রোজা রাখা সুন্নত এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আপনার অবস্থান স্থলে যেদিন জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ হবে, সেই দিন আপনার জন্য আরাফার দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। এবং সেই দিন আপনি আরাফার রোযা রাখবেন।


কুরআন ও হাদিসের আলোকে আরাফার দিনের গুরুত্ব:

  • সূরা আল-মায়েদা (৫:৩): "...আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (এই আয়াতটি আরাফার দিনে নাযিল হয়েছিল।)
  • হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "আরাফার দিনের চেয়ে অধিক সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার আর কোনো দিন নেই।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪৮)
  • রোজার ফজিলত: "আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মোচন করে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

হানাফি ফিকহের দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (২/২৭১): আরাফার দিন জিলহজের ৯ তারিখ, এবং এই দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)।
  • ফতোয়া আলমগিরি (১/১৯৫): আরাফার রোজা রাখা সুন্নত, তবে যদি কারও রোজা রাখার কারণে হজের কাজে দুর্বলতা আসে, তবে তা না রাখাই উত্তম।
  • ইমদাদুল ফতোয়া (২/১৫৭): আরাফার দিনের রোজা হজে যাওয়া ব্যক্তি ও না-যাওয়া ব্যক্তি উভয়ের জন্যই ফজিলতপূর্ণ, তবে হাজির জন্য ইহরাম অবস্থায় রোজা রাখা মাকরুহ।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: আরাফার দিন কি শুধু হাজির জন্য নির্দিষ্ট?
উত্তর: না, যারা হজে যাননি তারাও এই দিন রোজা রাখতে পারেন এবং এতে বিপুল সওয়াব লাভ করেন। তবে হাজিরা ইহরাম অবস্থায় থাকায় তাদের জন্য রোজা রাখা মাকরুহ।

প্রশ্ন: আরাফার দিনের রোজা কিভাবে রাখবেন?
উত্তর: ফজরের আগে সাহরি খেয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনসম্পর্ক থেকে বিরত থাকবেন। নিয়ত করতে পারেন: "আমি আরাফার দিনের সুন্নত রোজা রাখার নিয়ত করছি।"



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.