কুরবানীর সাথে কি আকীকা করা যাবে?
Qurbani-Slaughtering · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর: কুরবানীর সাথে আকীকা দেওয়া জায়েজ নয়। বরং এ দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ইবাদত, প্রতিটিরই নিজস্ব বিধান ও সময় রয়েছে। একই পশুতে উভয় ইবাদতের নিয়ত করা বৈধ নয়। নিম্নে কুরআন, সহীহ হাদীস ও সালাফে সালেহীনের ফতোয়ার আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
দলিল ও যুক্তি:
১. কুরবানীর বিধান:
কুরবানী হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নির্দিষ্ট পশু জবেহ করা, যা শুধুমাত্র ১০, ১১, ১২ জিলহজ্জ তারিখে করা যায়। আল্লাহ বলেন:
"অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন।" (সূরা আল-কাওসার: ২)
এটি নির্দিষ্ট সময় ও নিয়তে আবদ্ধ।
২. আকীকার বিধান:
আকীকা হলো সন্তানের জন্মের ৭ম দিনে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পশু জবেহ করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"প্রত্যেক সন্তান তার আকীকার সাথে বন্ধক থাকে; তাই তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবেহ করো, তার মাথা মুণ্ডন করো এবং তার নাম রাখো।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৮৩৮; সহীহ)
৩. দুটি ইবাদতের পার্থক্য:
- কুরবানী নির্দিষ্ট সময়ে (জিলহজ্জের ১০-১২ তারিখ) এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে (ঈদের শুকরিয়া ও তাকওয়া) করা হয়।
- আকীকা সন্তানের জন্মের ৭ম দিনে (অথবা পরে) এবং সন্তানের সুস্থতা ও দুনিয়া-আখিরাতে কল্যাণের জন্য করা হয়।
- একই পশু দিয়ে উভয়ের নিয়ত করলে ইবাদতের স্বতন্ত্রতা বিনষ্ট হয় এবং কোনো একটি ইবাদতই পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় হয় না।
সালাফে সালেহীনের ফতোয়া:
১. শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহিমাহুল্লাহ):
তিনি বলেন: "কুরবানী ও আকীকা একত্র করা জায়েজ নয়, কারণ এ দুটি ভিন্ন ইবাদত এবং ভিন্ন কারণে করা হয়।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৬/৩০৫)
২. শায়খ ইবনু বায (রহিমাহুল্লাহ):
তিনি বলেন: "একটি পশু দিয়ে কুরবানী ও আকীকা উভয়ই আদায় করা সম্ভব নয়। বরং প্রতিটি ইবাদতের জন্য পৃথক পশু জবেহ করতে হবে।" (মাজমূ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১৮/৩৪)
৩. শায়খ মুহাম্মদ ইবনু উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ):
তিনি বলেন: "একটি পশুতে কুরবানী ও আকীকার নিয়ত করা বৈধ নয়। যদি কেউ এমনটি করে, তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না এবং আকীকাও আদায় হবে না।" (শারহুল মুমতি', ৭/৫০০)
৪. শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ):
তিনি বলেন: "একই পশু দিয়ে কুরবানী ও আকীকা দেওয়া জায়েজ নয়, কারণ প্রতিটি ইবাদতের জন্য আলাদা পশু নির্ধারিত।" (আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান, ১/২৪)
৫. শায়খ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ):
তিনি বলেন: "কুরবানী ও আকীকার একত্রীকরণ বিদআত, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো তা করেননি।" (সিলসিলা সহীহা, ১/২৪)
ব্যতিক্রম ও সতর্কতা:
কেউ যদি কুরবানীর দিনে আকীকা দিতে চান, তাহলে আলাদা পশু জবেহ করবেন। তবে এমনটি করা মাকরূহ, কারণ আকীকার উত্তম সময় হলো শিশুর জন্মের ৭ম দিন, আর কুরবানীর সময় জিলহজ্জের ১০-১২ তারিখ। তবুও যদি আকীকা দেন, তাহলে কুরবানীর পশু থেকে আলাদা পশু ব্যবহার করবেন।
সারসংক্ষেপ:
- কুরবানী ও আকীকা একত্রে দেওয়া জায়েজ নয়।
- প্রতিটি ইবাদতের জন্য পৃথক পশু জবেহ করতে হবে।
- এক পশুতে উভয়ের নিয়ত করলে কোনো ইবাদতই সহীহ হবে না।
- সালাফে সালেহীনের সকলেই একমত যে, একত্রীকরণ অনুমোদিত নয়।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।