নানুর বাড়ি এবং দাদুর বাড়ি দুইটাই কসর সমপরিমাণ দুরত্বে। এখন নানুর বাড়িতে যাওয়ার পথে দাদুর বাড়িতে এক ঘন্টার জন্য থামলে কি নানুর বাড়ীতে কসর করতে হবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 939
Questioner: No name
Question Asked: 29 May 2026, 03:14 PM
Reviewed & Published: 29 May 2026, 03:23 PM
Views: 135
Tokens: 2,562
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

উস্তাজ আমরা ঢাকাতে থাকি। নানুর বাড়ি এবং দাদুর বাড়ি দুইটাই কসর এর দুরত্ব। এখন নানুর বাড়িতে যাবো ইন্ন শা আল্লহ ৫-৬ দিনের জন্য। কিন্তু পথিমধ্যে যদি দাদুর বাড়িতে থেকে থেমে এক ঘন্টার জন্য একটু দেখা করি তাহলে কি নানু বাড়িতে যেয়ে সালাত কসর করতে হবে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নটি হলো: আপনি ঢাকায় থাকেন। নানুর বাড়ি এবং দাদুর বাড়ি উভয়ই কসরের দূরত্বে (প্রায় ৭৮ কিমি বা তার বেশি) অবস্থিত। আপনি নানুর বাড়িতে ৫-৬ দিনের জন্য যেতে চান। কিন্তু পথিমধ্যে দাদুর বাড়িতে এক ঘণ্টার জন্য দেখা করতে থামবেন। তাহলে নানুর বাড়িতে পৌঁছে কি সালাত কসর করতে হবে?

উত্তর:

হ্যাঁ, আপনাকে নানুর বাড়িতে পৌঁছে সালাত কসর করতে হবে। কারণ:

  1. নানুর বাড়ি আপনার মূল বসবাসস্থল (ঢাকা) থেকে কসরের দূরত্বে অবস্থিত।
  2. আপনি সেখানে ১৫ দিনের কম (৫-৬ দিন) থাকার ইচ্ছা করেছেন, তাই আপনি সফরের অবস্থায় থাকবেন।
  3. পথিমধ্যে দাদুর বাড়িতে এক ঘণ্টা থামা আপনার সফরের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে না। দাদুর বাড়ি আপনার মূল বসবাসস্থল নয়, এটি একটি আত্মীয়ের বাড়ি মাত্র। তাই সেখানে অল্প সময় অবস্থান করলে আপনার সফর শেষ হয় না এবং আপনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন।

**কিন্তু যদি দাদার বাড়ী আপনার ওয়াতানে আসলি হয়, অর্থাৎ সেখানে আপনার বাবা এবং আপনারা মাঝেমধ্যে গিয়ে থাকেন, এবং সেখানে থাকার মত ব্যবস্থাও থাকে, তাহলে দাদুর বাড়ীতে নামার সাথে সাথেই আপনারা মুকিম হয়ে যাবেন। এবং তখন আপনার নানুর বাড়ীতে আপনারা মুকিম থাকবেন।

হানাফি ফিকহের বিধান:

  • যে ব্যক্তি নিজ শহর থেকে ৭৮ কিমি (প্রায় ৪৮ মাইল) বা তার বেশি দূরত্বের কোনো স্থানে যাওয়ার ইচ্ছা করে এবং সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে, তিনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন এবং চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ সালাত দুই রাকাত পড়বেন। (রদ্দুল মুহতার, ২/১২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৩৮)
  • পথিমধ্যে কোনো স্থানে অল্প সময়ের (যেমন এক ঘণ্টা) জন্য থামলে সফর ভঙ্গ হয় না, যতক্ষণ না সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করা হয়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১০৪; ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪০২)
  • দাদুর বাড়ি যদি আপনার নিজের বসবাসের স্থান (ওয়াতনে আসলি) না হয়, তবে সেখানে থামলেও আপনি মুসাফিরই থাকবেন। ওয়াতনে আসলি সেই স্থান যেখানে আপনি স্থায়ীভাবে বসবাস করেন বা জন্মস্থান। (আল-হিদায়া, ১/১৪৫; কিতাবুল আসল, ১/২৩০)

সারসংক্ষেপ:

  • নানুর বাড়িতে পৌঁছে আপনি মুসাফির হিসেবে চার রাকাত ফরজ সালাত দুই রাকাত পড়বেন।
  • দাদুর বাড়িতে এক ঘণ্টা থামার কারণে কোনো পরিবর্তন হবে না, কারণ এটি আপনার ওয়াতনে আসলি নয় এবং আপনি সেখানে অবস্থানের নিয়ত করছেন না।
  • ৫-৬ দিনের জন্য নানুর বাড়িতে অবস্থান করলেও তা ১৫ দিনের কম হওয়ায় কসরই করতে হবে।

সতর্কতা: দাদুর বাড়িতে যদি আপনি নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং সেটিকে নিজের দ্বিতীয় আবাস বানিয়ে ফেলেন, তাহলে সেটি আপনার ওয়াতনে সাকনি (অস্থায়ী আবাস) গণ্য হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শুধু একবারের জন্য এক ঘণ্টা থামা তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি দাদুর বাড়ি ঢাকা থেকে কসরের দূরত্বের মধ্যে হয় এবং আপনি সেখানে থেমে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর নানুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন, তাহলে আপনার সফর ঢাকা থেকে শুরু হয়েছে এবং নানুর বাড়ি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তাই নানুর বাড়িতে পৌঁছার পর কসর করবেন।

আল্লাহু আলাম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.