কুরবানির ছাগলকে সন্দেহজনকভাবে আনা পাতা খাওয়ানো হলে উক্ত ছাগল দ্বারা কি কুরবানি হবে?

Qurbani-Slaughtering · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 881
Questioner: Afra N.
Question Asked: 27 May 2026, 11:46 PM
Reviewed & Published: 27 May 2026, 11:53 PM
Views: 130
Tokens: 3,592
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।

আমাদের বাসায় কুরবানির জন্য একটি ছাগল রাখা হয়েছে। আমাদের এখানে দুইজন গার্ড আছে। তাদের মধ্যে একজনের দায়িত্ব ছিল ছাগলের জন্য পাতা এনে দেওয়া। রাতে ছাগলটি খুব জোরে ডাকছিল। তখন মনে হলো হয়তো খুব ক্ষুধার্ত। কিন্তু যে গার্ডের দায়িত্ব ছিল পাতা আনা, সে তখন উপস্থিত ছিল না। তখন আমি অন্য গার্ডকে বিষয়টি বললে সে অপেক্ষা করতে বলে।

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ছাগলটির জন্য আমার খুব খারাপ লাগছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না তাকে কী খাওয়াব বা কোথা থেকে পাতা আনব। আশেপাশের কয়েকটি বাড়ির সামনে কাঁঠাল গাছ ছিল, কিন্তু রাত হওয়ায় কারও কাছে অনুমতি চাইতেও পারিনি। পরে আলহামদুলিল্লাহ , দেখি একজন লোক তার নিজের ছাগলের জন্য গাছ থেকে পাতা কাটছিল। আমি তাকে কিছু পাতা দিতে বলি, এবং সে আমাদের কিছু পাতা দেয়। তখন আমরা সেই পাতা ছাগলকে খাওয়াই।

এর কিছুক্ষণ পর সেই গার্ড, যে আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছিল, এসে বলে যে সে বাইরে থেকে কিছু পাতা এনে দিয়েছে। কিন্তু সে কোথা থেকে এনেছে, অনুমতি নিয়ে এনেছে কি না, সেটা আমি নিশ্চিত নই। আমার সন্দেহ হচ্ছে, হয়তো কোনো বাড়ির সামনে থাকা গাছ থেকে পাতা এনেছে। তবে আমি নিশ্চিত নই—গাছটি কার মালিকানাধীন ছিল কি না, গার্ড অনুমতি নিয়েছিল কি না, বা গাছটি পাবলিক জায়গার ছিল কি না—এসব কিছুই আমি জানি না।

তখন আমি বিষয়টি এত গভীরভাবে চিন্তা না করে দ্রুত ছাগলটিকে সেই পাতা খাইয়ে দিই। এখন পরে এসে আমার মনে হচ্ছে, যদি সেই পাতা অনুমতি ছাড়া নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে? যদিও আমি নিশ্চিত নই, শুধু সন্দেহ হচ্ছে।

এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার প্রশ্নের মূল বিষয় হলো: কুরবানির ছাগলকে অনুমতি ছাড়া নেওয়া সন্দেহজনক পাতা খাওয়ানো হয়েছে, এখন করণীয় কী?

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:

১. অজান্তে সন্দেহজনক বস্তু ব্যবহার করা

আপনি যখন ছাগলকে পাতা খাওয়ান, তখন আপনার জানা ছিল না যে তা সম্ভবত চুরি করা। আপনি শুধু প্রাণীটির ক্ষুধা মেটানোর জন্য তাড়াহুড়ো করেছিলেন। পরে শুধু সন্দেহ জাগছে। ইসলামী নীতি অনুযায়ী, সন্দেহ নিশ্চিত জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত হয় না। যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হন যে পাতা চুরি করা, ততক্ষণ আপনার ওপর কোনো গুনাহ নেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই সন্দেহ নিশ্চিত জ্ঞান দূর করে না।"
(সহীহ মুসলিম: ৪২১, ইবনে মাজাহ: ২২০)

২. অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ব্যবহারের বিধান

যদি নিশ্চিত হন যে গার্ড অনুমতি ছাড়া পাতা এনেছে, তাহলে তা গাসব (অন্যায়ভাবে দখল) হবে। গাসবকৃত বস্তু ব্যবহার করা হারাম। তবে এখানে কয়েকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ:

  • গার্ডের দায়িত্ব: গার্ড নিজে থেকে পাতা এনেছে। আপনি তাকে তা আনতে বলেননি। বরং আপনি তার কাছ থেকে পেয়ে ছাগলকে খাইয়েছেন।
  • আপনার অবস্থান: আপনি জেনেশুনে চুরি করা জিনিস ব্যবহার করেননি। তাই আপনার ওপর গুনাহ নয়, বরং গার্ডের ওপর।

৩. করণীয় কী?

(ক) প্রথমে গার্ডকে জিজ্ঞেস করুন
তাকে স্পষ্টভাবে জানতে চান, কোথা থেকে পাতা এনেছেন? অনুমতি ছিল? যদি জানতে পারেন যে বিনা অনুমতিতে কারো গাছ থেকে নেওয়া, তাহলে:

  • গার্ডের ওয়াজিব: সে মালিকের কাছে ক্ষমা চাইবে এবং পাতার মূল্য পরিশোধ করবে অথবা সমমূল্যের পাতা দেবে।
  • আপনার করণীয়: যেহেতু আপনি পাতা খাইয়েছেন, কিন্তু জানতেন না, তাই আপনার দায়িত্ব নাই। তবে ভালো হবে যদি আপনি নিজে থেকে মালিককে কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন বা গার্ডকে তা করতে বলেন।

(খ) যদি নিশ্চিত হতে না পারেন
শুধু সন্দেহ থাকলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি নয়। তবে সতর্কতা হিসেবে আপনি ইচ্ছামতো সাদকাহ দিতে পারেন, যাতে কোনো অনিচ্ছাকৃত অন্যায় থেকে মুক্তি পান। ইবনু উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি কোনো মুসলিম সন্দেহ করে যে তার খাদ্যে হারাম মিশে গেছে, কিন্তু নিশ্চিত নয়, তবে তা খাওয়া জায়েজ। কারণ মূল বিষয় হলো হালালতা।"
(শরহুল মুমতি', ১৫/২৪)

(গ) কুরবানির ছাগল কি সহিহ থাকবে?
হ্যাঁ, আপনার কুরবানি সহিহ হবে, ইনশাআল্লাহ। ছাগলকে খাদ্য দেওয়া তার জন্য জরুরি, এবং আপনি নেকির উদ্দেশ্যেই তা করেছিলেন। তবে ভবিষ্যতে খেয়াল রাখবেন:

  • কুরবানির পশুকে কেবল হালাল ও পবিত্র খাদ্য খাওয়ানো উচিত।
  • কোনো কিছুর ব্যাপারে নিশ্চিত না হলে তা ব্যবহার না করাই উত্তম।

৪. সালাফি স্কলারদের মতামত

শাইখ ইবনু বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি কেউ অজান্তে গাসবকৃত জিনিস ব্যবহার করে, তবে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই। তবে ব্যবহারের পর জানতে পারলে তাকে তা ফেরত দিতে হবে অথবা মূল্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।"
(মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ১৯/৪০০)

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"কোনো জিনিস হারাম হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তা হালাল হিসেবে গণ্য হবে। সন্দেহকে ভিত্তি করে হারাম সাব্যস্ত করা জায়েজ নয়।"
(আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান, ১/৩১৪)

উপসংহার:

  • আপনি দায়মুক্ত, তবে উত্তম হলো গার্ডকে জিজ্ঞেস করে সত্যতা জানা।
  • যদি চুরি প্রমাণিত হয়, তবে মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া জরুরি (গার্ডের দায়িত্বে অথবা আপনি চাইলে নিজেও দিতে পারেন)।
  • অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে কিছু সাদকাহ দিতে পারেন।
  • আপনার কুরবানি সহিহ, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহু আলাম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.