ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করি উনি কি আমাকে তালাক দিছে? উনি উত্তরে বলে, হ্যা, তোর মাথায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তো। এদ্বারা কি তালাক পতিত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 871
Questioner: ruhani binte
Question Asked: 27 May 2026, 07:22 PM
Reviewed & Published: 27 May 2026, 07:29 PM
Views: 90
Tokens: 2,473
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন তিনি আলাদা থাকার কথা বলেন।বলেন যে উনি আলাদা বাসায় থাকবেন আমি আলাদা কিন্তু খরচ দিয়ে দিবেন এবং মাঝে মাঝে দেখা করবেন।তখন আমি বলছি থাকেন খালি।উনি আবার আমাকে বলছে তুই দেখতে চাস পারি কিনা? ঠিক এই কথাই থাকলো। উনি আরো বলেন এক বেডি তার জামাইকে বলছে তুই বাদাইম্মা কি তালাক দিবি।পরে তালাক দিয়া দিছি।আমি উনার এই ব্যাপারটা ক্লিয়ার না বুঝায়।উনাকে জিজ্ঞাসা করি উনি কি আমাকে তালাক দিছে নাকি।উনি উত্তরে বলে হ্যা তোর মাথায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তো। আল্লাহ মাফ করুক। আমি উনাকে বার বার জিজ্ঞাসা করি উনি কি আমাকে তালাক দেওয়ার কথা বলেছে।উনি বলেছে আল্লাহ মাফ করুক।আমি এমন কিছু বলিনি। আরো বলেছে তুই চাস আমি এমন কিছু বলি।তোর তো নিজের জামাই ভালালাগে না।

এখন আমার প্রশ্ন আমার স্বামী হ্যা এবং দিয়া দিছি এসব কথায় তালাক হবে কি??

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতি এবং স্বামীর কথাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, স্বামী দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং পরবর্তীতে তালাকের নিয়ত অস্বীকার করেছেন। ইসলামী ফিকহের আলোকে তালাকের জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা (নিয়ত) ও দ্ব্যর্থহীন বাক্য প্রয়োজন। হানাফি মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে এখানে তালাক সংঘটিত হয়নি:

১. "হ্যা" এবং "দিয়া দিছি" কথাগুলো প্রসঙ্গগতভাবে তালাকের জন্য স্পষ্ট নয়:

  • স্বামী পূর্বে বলেন, "এক বেডি তার জামাইকে বলছে তুই বাদাইম্মা কি তালাক দিবি। পরে তালাক দিয়া দিছি।" এখানে তিনি অন্যের ঘটনা বর্ণনা করছেন, নিজের তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন না।
  • তাঁর "হ্যা" বলা (যখন স্ত্রী জিজ্ঞেস করেন "আমাকে তালাক দিছে নাকি?") একটি অস্পষ্ট উত্তর। তিনি সাথে সাথে বলেন, "আল্লাহ মাফ করুক, আমি এমন কিছু বলিনি।" এটি স্পষ্ট করে যে তাঁর নিয়ত তালাকের ছিল না।

২. স্বামীর পরবর্তী অবস্থান:

  • স্বামী বারবার অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, "আমি এমন কিছু বলিনি", "তুই চাস আমি এমন কিছু বলি"। এটি তাঁর তালাকের ইচ্ছার অভাব প্রমাণ করে।
  • হানাফি ফিকহে (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার) উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে এবং পরে বলে "আমার তালাকের নিয়ত ছিল না", তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় যে তিনি স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

৩. গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও ফিকহি নীতি:

  • হাদিসে এসেছে, "প্রত্যেক কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (বুখারি, মুসলিম)
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তালাকের জন্য স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বাক্য আবশ্যক। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরি)

সুতরাং, প্রশ্নে বর্ণিত "হ্যা" এবং "দিয়া দিছি" কথায় তালাক হয়নি। তবে স্বামী যদি ভবিষ্যতে স্পষ্টভাবে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি গণ্য হবে। আপনারা উভয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করুন এবং ঝগড়া এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে পরিবারের সিনিয়র সদস্য বা স্থানীয় আলেমের সাহায্য নিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.