কাজা নামাজ এবং রোজার কাফফারা আদায় সংক্রান্ত প্রশ্ন।
Salah-Prayer · Hanafi
Question
২) এই মহিলারি আবার নামাজ কাজা আছে তার ম্যাচিউরড হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ২০০০ ওয়াক্ত নামাজ। বিয়ে হয় ২০২০ সালে তার পর থেকে কাজা নেই। এই কাজা গুলো বিয়ের পুর্বের। উনি বাচা সামলানোর কারনে নামাজও আদায় করতে পারছে না। বাড়িতে অন্য কোন মানুষ নেই। জামাই, স্ত্রী আর বাচ্চা ছাড়া। যার কারনে বাচ্চা সামলিয়ে কাজা নামাজ আদায় করতে পারছে না। এই নামাজের কাজা আদায় না করে জরিমানা(টাকা) দিয়ে মাফ পাওয়ার উপায় আছে কি?
২ টা প্রশ্নের জন্যই জরিমানা সিস্টেম জানাবেন অথবা কি উপায় অবলম্বন করতে হবে তা জানাবেন।
প্রশ্ন বুঝতে না পারলে আমাকে কল দিয়েন 01746469788 (sharuar)
Answer
উত্তরের সূচনা
প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত: (১) রমজানের ছুটে যাওয়া প্রায় ৬০টি রোজার কাজা আদায় না করে জরিমানা (ফিদয়া) দেওয়ার বৈধতা, (২) বালেগ হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০০০ ওয়াক্ত নামাজের কাজা আদায় না করে টাকা দিয়ে মাফ চাওয়ার বিধান। উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নিচে কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে সমাধান পেশ করা হলো।
১) রোজার কাজা ও জরিমানা
শরিয়তের বিধান:
রমজানের ফরজ রোজা হায়েজ (মাসিক) বা অন্য কোনো ওজর কারণে ছুটে গেলে তা কাজা করা আবশ্যক (ফরজ)। কেউ যদি ওই রোজাগুলো কাজা না করে তবে সে গুনাহগার হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব কাজা করতে হবে। কোনোভাবেই শুধু টাকা (ফিদয়া) দিয়ে রোজার কাজা মাফ হয় না, যতক্ষণ না ব্যক্তি কাজা করার সামর্থ্য রাখে।
ফিদয়া কখন দিতে হয়?
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি স্থায়ীভাবে রোজা রাখতে অক্ষম হয় (যেমন বার্ধক্যে উপনীত, দুরারোগ্য ব্যাধি), তবে সে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে ফিদয়া (একটি ফিতরার পরিমাণ) দিতে পারে। কিন্তু অস্থায়ী অক্ষমতার (যেমন বাচ্চার যত্ন, দুধপান করানো ইত্যাদি) কারণে রোজা রাখতে না পারলে কাজা করতেই হবে; ফিদয়া যথেষ্ট নয়।
প্রশ্নোক্ত মহিলার অবস্থা:
মহিলার বয়স ২১ বছর, তার দুইটি ছোট ছোট বাচ্চা। বাচ্চার যত্নের কারণে তিনি রোজা রাখতে পারছেন না। এটি একটি অস্থায়ী অবস্থা; ভবিষ্যতে বাচ্চা বড় হলে তিনি রোজা রাখতে সক্ষম হবেন। সুতরাং তাকে অবশ্যই ছুটে যাওয়া রোজাগুলোর কাজা করতে হবে। ফিদয়া দিয়ে মাফ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পরামর্শ:
১. এখন থেকে ধীরে ধীরে কাজা শুরু করুন। সুযোগ বুঝে একদিন পর একদিন বা সপ্তাহে কয়েকটি রোজা রাখতে পারেন। স্বামীকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করুন।
২. যদি বাচ্চার দুধপান করানোর কারণে রোজা রাখলে বাচ্চার ক্ষতি হয়, তাহলে শুধু সেই দিনগুলোর জন্য রোজা না রেখে পরবর্তীতে কাজা করুন। তবে পুরো রমজানের সব রোজা শুধু এই ওজরে ছাড়া জায়েজ নয়; বরং সম্ভব হলে অন্য মাসে বা শীতের ছোট দিনে কাজা করুন।
৩. দোয়া করুন আল্লাহ যেন তওফিক দেন। গুনাহ থেকে তওবা করতে থাকুন।
সারসংক্ষেপ:
- টাকা দিয়ে রোজার কাজা মাফ হয় না।
- বিলম্বে হলেও কাজা অবশ্যই আদায় করতে হবে।
হ্যাঁ যদি আপনি এমন অসুস্থ হন যে কাজা আদায় করতে পারছেন না এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যদি আপনি সুস্থ না হন, সে ক্ষেত্রে আপনি ফিদইয়াহ আদায় করতে পারবেন অথবা মারা গেলে ফিদইয়াহ আদায়ের ওসিয়ত করে যেতে পারবেন।
২) নামাজের কাজা ও জরিমানা
শরিয়তের বিধান:
যে ব্যক্তি বালেগ হওয়ার পর থেকে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিয়েছে, তার ওপর সেসব নামাজের কাজা করা ফরজ। কোরআন-হাদিসে নামাজের কাজার গুরুত্ব অপরিসীম। না পড়ে থাকা নামাজের কোনো ফিদয়া বা জরিমানা ইসলামে নেই। অর্থাৎ, টাকা দিয়ে নামাজ মাফ করা যায় না।
প্রশ্নোক্ত মহিলার অবস্থা:
তিনি বালেগ হওয়ার পর থেকে বিয়ে পর্যন্ত (প্রায় ২০০০ ওয়াক্ত) নামাজ কাজা রেখেছেন। বর্তমানে বাচ্চার যত্নের কারণে নিয়মিত নামাজ পড়তে কষ্ট হচ্ছে, কাজা তো দূরের কথা। তবে এটি একটি অস্থায়ী অবস্থা। বাচ্চা বড় হলে বা স্বামীর সাহায্যে তিনি ধীরে ধীরে কাজা আদায় করতে পারেন।
উপায় ও পরামর্শ:
১. তওবা ও ইস্তেগফার: প্রথমেই নামাজ ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ থেকে তওবা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল।
২. কাজা আদায়ের পরিকল্পনা: প্রতিদিন ফরজ নামাজের সাথে সাথে কিছু কাজা নামাজ পড়ার অভ্যাস করুন। যেমন: প্রতিটি ফরজের পর ২ রাকাত করে কাজা, তাহলে দ্রুত সংখ্যা কমবে। (বিশেষ করে ছোট বাচ্চা থাকলে সুযোগ নিন যখন বাচ্চা ঘুমায় বা স্বামী দেখে রাখে।)
৩. স্বামীর সহযোগিতা: স্বামীকে বোঝান যে নামাজ পড়ার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। তিনি বাচ্চা দেখে রাখলে মহিলা দ্রুত নামাজ শেষ করতে পারেন।
৪. ফিজিক্যাল অক্ষমতার নিয়ম: যদি সত্যিই কোনোভাবেই নামাজ পড়তে না পারেন (যেমন গুরুতর অসুস্থতা), তবে শায়িত অবস্থায় ইশারায় পড়বেন। কিন্তু বাচ্চার যত্ন কোনোভাবেই নামাজ না পড়ার বৈধ ওজর নয়; বরং এটি অস্থায়ী ব্যস্ততা মাত্র।
৫. ফাতাওয়া ও ফিকহি বক্তব্য: হানাফি ফিকহের কিতাবে (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া) স্পষ্ট যে, নামাজের কোনো ফিদয়া বা কাফফারা নেই। কাজা হলেই কেবল দায়িত্ব শেষ হয়। (১/৫২৫, ২/৭৩)
সারসংক্ষেপ:
- টাকা দিয়ে নামাজের কাজা মাফ হয় না।
- কাজা আদায় করা ফরজ; যত দেরিই হোক, শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।
- বাচ্চার ব্যস্ততা অস্থায়ী; সুযোগ খুঁজে ধীরে ধীরে কাজা করুন।
- তওবা ও ইস্তেগফারের সাথে কাজার সংকল্প রাখুন।
হ্যাঁ যদি কাজা আদায় না করেই আপনি মারা যান, সেক্ষেত্রে জীবদ্দশায় ফিদইয়াহ আদায়ের ওসিয়ত করে যেতে পারবেন।
প্রতিটি নামাজের ফিদইয়াহ হলো একটি সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা গরিব মিসকিনকে দান করা।