নফল রোজা রেখে ভেঙে ফেললে পরবর্তীতে কি কাযা করা ওয়াজিব হবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
উত্তর Summary
- নফল রোজা ভাঙার বিধান: আরাফার দিনের নফল রোজা ভেঙে ফেললে তা পুনরায় (ক্বাযা) করা ওয়াজিব।
- হস্তমৈথুনের কারণে কাফফারা: নফল রোজা ভাঙার কারণে কোনো কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) ওয়াজিব হয় না। শুধু তওবা করা আবশ্যক।
- গুনাহ: হস্তমৈথুন একটি কবিরা গুনাহ; কাজেই আপনাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
১. নফল রোজা ভাঙলে কি ক্বাযা ওয়াজিব?
হানাফি মাযহাবের জুমহুর (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ) এর মতানুযায়ী, নফল রোজা শুরু করার পর তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙলে তার ক্বাযা ওয়াজিব নয়। তবে ইমাম মুহাম্মদ এর মতে ক্বাযা ওয়াজিব। ফতোয়া ফাতাওয়া ইমাম মুহাম্মদ রাহ এর মতের ওপর।
হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (২/৩৯৫): "وَ لَا یَجِبُ قَضَاءُ النَّفْلِ عِنْدَنَا خِلَافًا لِمُحَمَّدٍ" (আমাদের মতে নফলের ক্বাযা ওয়াজিব নয়, ইমাম মুহাম্মদের বিপরীতে)।
২. হস্তমৈথুনের জন্য কাফফারা?
হানাফি মাযহাবে কাফফারা শুধুমাত্র রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে ভাঙলেই ওয়াজিব হয়। হস্তমৈথুনের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে (রমজানেও) কাফফারা ওয়াজিব নয়; বরং শুধু ক্বাযা ওয়াজিব। আর নফল রোজায় তো ক্বাযাও ওয়াজিব নয়, তাই কাফফারা তো দূরের কথা।
রেফারেন্স:
- শরহু মা‘আনিল আসার: ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের মতে, হস্তমৈথুনে কাফফারা নেই।
- ফতোয়া আলমগীরী (১/২০৪): "الاستمناء يفطر ولا كفارة فيه" (হস্তমৈথুনে রোজা ভাঙে, কিন্তু কাফফারা নেই)।
৩. করণীয় কী?
- তওবা করুন: হস্তমৈথুনের গুনাহ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং ভবিষ্যতে এ কাজ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন।
- নফল রোজা পূরণ করুন: যদিও ওয়াজিব নয়, উত্তম হলো একটি নফল রোজা রেখে ক্ষতিপূরণ করুন (বিশেষত আরাফার দিনের ফজিলতের কারণে)।
- ইচ্ছাকৃত গুনাহ থেকে বিরত থাকুন: রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করলে রোজার সওয়াব নষ্ট হয় এবং গুনাহ বেড়ে যায়।
সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | বিধান | |------|-------| | নফল রোজা ভাঙার ক্বাযা | ওয়াজিব (ইমাম মুহাম্মদের মতানুসারে) | | কাফফারা | প্রযোজ্য নয় | | হস্তমৈথুনের গুনাহ | কবিরা গুনাহ; তওবা ওয়াজিব |
উৎস: রদ্দুল মুহতার, ফতোয়া উসমানী, আল-হিদায়া, ফতোয়া আলমগীরী, বেহেশতি জেওর।