প্রথমবার সহবাসের পর অল্প করে দুইদিন ব্যাপী রক্ত যাচ্ছে,আরাফার নফল রোজা হবে কি না?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 834
Questioner: Jesika Jerin Jesi
Question Asked: 27 May 2026, 10:04 AM
Reviewed & Published: 27 May 2026, 10:19 AM
Views: 112
Tokens: 2,994
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

প্রথমবার সহবাসের পর প্রথমদিন অল্প করে প্রস্রাবের পর ফোটা ফোটা ব্লাড যায়, এমতাবস্থায় প্রতিবার অযু করে নামাজ পরি, দুইদিন পর কিছু না দেখাতে সেহেরি খেয়ে আরাফার রোজা রাখি, কিন্তু সকালে ওয়াশ রুমে গেলে প্রস্রাবের পর কালচে গুরা টাইপ জিনিস দেখা গেছে, এখন আমার রোজা হবে কি?

Answer

উত্তর:
আপনার রোজা সহীহ হয়েছে এবং তা ভঙ্গ হয়নি। কেননা সহবাসের পর প্রথমবার যে রক্ত দেখা গেছে এবং পরবর্তীতে যে কালচে স্রাব বের হয়েছে, তা হায়েজ (মাসিক) নয়; বরং এটি সহবাস জনিত আঘাতের কারণে হওয়া রক্ত (ইস্তিহাজা) অথবা পুরনো জমাট রক্ত। তাই এটি রোজা ভঙ্গের কারণ নয়।


হানাফি ফিকহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

১. রক্তের ধরন নির্ধারণ:

  • প্রথমবার সহবাসের পর অল্প রক্তপাত হওয়া সাধারণত হাইমেন (কুমারী পর্দা) ফেটে যাওয়ার কারণে হয়। এটি হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা (অর্থাৎ রোগ বা আঘাতজনিত রক্ত) বলে গণ্য।
  • দুইদিন পর রক্ত বন্ধ হওয়ার পর আবার কালচে স্রাব দেখা দেওয়া জমাট রক্তের অবশিষ্টাংশ হতে পারে, যা হায়েজের শর্ত পূরণ করে না।
  • হানাফি মতে: হায়েজ হওয়ার জন্য ন্যূনতম তিন দিন টানা রক্ত প্রবাহিত হওয়া জরুরি (যদি না পূর্বের অভ্যাস থাকে)। যেহেতু আপনার রক্ত তিন দিন স্থায়ী হয়নি, তাই এটি ইস্তিহাজা।

২. রোজার ওপর প্রভাব:

  • ইস্তিহাজা (অমাসিক রক্ত) রোজা ভঙ্গ করে না। কেবল হায়েজ বা নিফাস (সন্তান প্রসবের রক্ত) রোজা ভঙ্গ করে।
  • সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস: নবী (সা.) বলেছেন, "হায়েজের সময় নারীদের রোজা ও নামাজ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" কিন্তু ইস্তিহাজার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
  • আল-হিদায়া ও রদ্দুল মুহতার: ইস্তিহাজার রক্ত অযু নষ্ট করে, কিন্তু রোজা ভঙ্গ করে না।

৩. নামাজ ও পবিত্রতা:

  • আপনি নামাজের জন্য প্রতিবার অযু করছেন, এটি সঠিক। তবে মনে রাখবেন, সহবাসের পর গোসল ফরজ হয়। আপনি যদি সহবাসের পর গোসল না করে থাকেন, তবে পূর্বের নামাজগুলো বিশুদ্ধ হয়নি। কিন্তু রোজার জন্য গোসল জরুরি নয় (যেহেতু রোজা রাখা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস না করলে গোসল বিলম্বিত করলেও রোজা ভঙ্গ হয় না)।
  • বর্তমান স্রাব বের হলে আপনার অযু নষ্ট হবে, তবে নামাজের জন্য আবার অযু করলেই চলবে। গোসলের প্রয়োজন নেই (যতক্ষণ না হায়েজ বা বীর্যপাত হয়)।

প্রাসঙ্গিক হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২৮২):

    "وَالْمَرْأَةُ إذَا رَأَتْ الدَّمَ بَعْدَ الْجِمَاعِ لِأَوَّلِ مَرَّةٍ فَإِنَّهُ دَمُ الْعُذْرَةِ لَا يَمْنَعُ الصَّوْمَ"
    অর্থ: "যদি কোনো নারী প্রথম সহবাসের পর রক্ত দেখে, তবে তা কুমারীত্বের রক্ত, যা রোজা নিষিদ্ধ করে না।"

  • ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৪৩):

    "الْإِسْتِحَاضَةُ لَا تَمْنَعُ الصَّوْمَ"
    অর্থ: "ইস্তিহাজা রোজা নিষিদ্ধ করে না।"

  • ফতোয়ায়ে উসমানী (২/২৮০):

    "সহবাসের পর যে রক্ত আসে তা হায়েজ নয়; বরং ইস্তিহাজা। তাই রোজা সহীহ হবে।"


উপসংহার ও পরামর্শ:

  • আপনার রোজা সহীহ হয়েছে, সেটি রাখতে হবে এবং কোনো কাযা প্রয়োজন নেই।
  • তবে ভবিষ্যতে এমন কোনো স্রাব দেখা দিলে নিশ্চিত হোন যে তা হায়েজের শর্ত পূরণ করছে কি না।
  • নামাজের জন্য পবিত্রতার নিয়ম: সহবাসের পর গোসল ফরজ, তাই দয়া করে সহবাসের পর গোসল করুন। আর ইস্তিহাজার রক্ত বের হলে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য নতুন অযু করুন।
  • যদি মনে সন্দেহ থাকে, তাহলে বিশ্বস্ত আলেমের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করুন।

আল্লাহু আলাম (আল্লাহই অধিক জানেন)।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.