স্থানীয় তারিখ হিসেবে কি জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ধরে আরাফার রোযা রাখা যাবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
ওনারা কি কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত হবেন যেমন দুআ কবুলের জন্য লিস্ট বানিয়ে কাল চাইতে বলেছি কাল কি দোআ কবুল হবে নাকি আজকেই দোআ কবুলের দিন ছিল??
Answer
উত্তর:
আপনি ভারতের তারিখ অনুযায়ী লোকদের ৯ জিলহজের রোজা রাখতে বলেছেন—এটি সঠিক হয়েছে যদি ভারতের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সেই দিনটি প্রকৃতপক্ষে ৯ জিলহজ হয়। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, আরাফার দিনের রোজা ও দোয়া কবুলের বিষয়টি স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
হানাফি ফিকহের দলিল:
-
ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তকি উসমানি):
“আরাফার রোজা ও দোয়ার ফজিলত প্রাপ্তির জন্য নিজ দেশের চাঁদ দেখা অনুযায়ী ৯ জিলহজ পালন করাই সুন্নত। যদি সৌদি আরবের সঙ্গে পার্থক্য হয়, তবুও স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী আমল করলে সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে কেউ যদি সৌদি আরবের তারিখ অনুসরণ করে, তাও জায়েয এবং সওয়াবের ব্যাপারে আশা রাখা যায়।”
(ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪৬২) -
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
“আরাফার দিন হলো স্থানীয় চাঁদ দেখা অনুযায়ী ৯ জিলহজ। এ দিনটিতেই রোজা রাখা ও দোয়া করা উচিত।”
(রদ্দুল মুহতার, ২/৩৭৫) -
ইমদাদুল ফাতাওয়া (হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভি):
“যে এলাকায় চাঁদ দেখা গেছে, সে এলাকার জন্যই আরাফার দিন নির্ধারিত হবে। অন্য এলাকার তারিখ অনুযায়ী আমল করলে ফজিলত কম হতে পারে, তবে বঞ্চিত হবে না।”
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৪) -
ফাতাওয়া আলমগীরী:
“আরাফার রোজা স্থানীয় চাঁদের হিসাবে ৯ জিলহজে রাখতে হবে।”
(ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১৯৫)
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর:
যারা আপনার নির্দেশ অনুযায়ী রোজা রেখেছেন এবং দোয়ার জন্য লিস্ট তৈরি করেছেন, তারা কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত হবেন না, ইনশাআল্লাহ। কারণ:
- যদি ভারতের চাঁদ দেখা অনুযায়ী সেই দিনটি ৯ জিলহজ হয়, তাহলে তাদের রোজা ও দোয়া আরাফার দিনের পূর্ণ ফজিলত প্রাপ্ত হবে।
- যদি (কোনো কারণে) প্রকৃত আরাফার দিন ভিন্ন হয়, তবুও তাদের রোজা নফল রোজা হিসেবে গণ্য হবে এবং দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে দোয়া করার সওয়াব পাবেন।
উল্লেখ্য: আরাফার দিনের দোয়া কবুলের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে—
“আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।”
(সহিহ মুসলিম, ১৩৪৮)
এখন আপনার এলাকায় যদি প্রকৃত আরাফার দিন (সৌদি আরবের তারিখ) অন্য দিন হয়, তবে আপনারা সে দিনও দোয়া করতে পারেন। তবে যারা আপনার নির্দেশনা মেনে রোজা রেখেছেন, তারা গুনাহগার হবেন না বরং সওয়াব পাবেন।
সতর্কতামূলক পরামর্শ:
ভবিষ্যতে আরাফার দিন নির্ধারণে স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুসরণ করা উত্তম। যদি দেশভেদে তারিখ ভিন্ন হয়, তাহলে উভয় দিন রোজা রাখা ও দোয়া করা অধিক সতর্কতা।
সারসংক্ষেপ:
- আপনি ঠিকই করেছেন লোকদের ভারতীয় তারিখ অনুযায়ী রোজা রাখতে বলে।
- তাদের দোয়া ও রোজা আল্লাহর কাছে কবুল হবে, ইনশাআল্লাহ।
- আরাফার দিনের মূল ফজিলত স্থানীয় চাঁদ দেখা অনুযায়ী প্রযোজ্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।