কোনো ব্যবসায় এজেন্ট হয়ে মালিকের অনুমতি নিয়ে পণ্যর ছবি-ভিডিও ব্যবহার এবং দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা কি জায়েজ হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 8029
Questioner: Sabikun 0143
Question Asked: 05 Nov 2026, 11:58 PM
Reviewed & Published: 06 Nov 2026, 12:07 AM
Views: 58
Tokens: 4,859
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একটা পেইজের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের প্রোডাক্ট রিসেলিং করি। তারা আমায় ছবি ভিডিও দিয়ে থাকে সেগুলো আমি আমার মত করে কিছু দাম বাড়িয়ে আমার লাভের জন্য আমার পেইজে আপলোড করে বিক্রি করি তারপর অর্ডার আসলে সেই অর্ডার বিস্তারিত তাদের কাছে পাঠিয়ে দেই। তখন তারা এই পার্সেল প্যাকিং করে ক্রেতার কাছে পাঠিয়ে দেয়া।এখানে ক্রেতা তার চাহিদা মতো পন্য পেয়ে যায়।কিন্তু আমি যে আরেকজনের ছবি ভিডিও পোস্ট করছি তাতে কি আমার গুনাহ হবে?যারা ছবি ভিডিও দেয় তারা আমাকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এবং নিজের লাভ অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে রাখারও অনুমতি দিয়েছল।মুলত এখানে আমি পন্যের মালিকের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছি। যেইটা আবার ক্রেতা জানে না।এখন এইভাবে ব্যবসা করাটা কি আমার গুনাহ হবে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

সমাধান

আপনার বর্ণিত ব্যবসায়ের পদ্ধতিটির ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত (সংক্ষেপে):

এভাবে ব্যবসা করা এবং তাদের দেওয়া ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে হালাল ও জায়েয; এতে আপনার কোনো প্রকার গোনাহ হবে না।


২. বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও প্রামাণ্য দলীলাদি:

ক. অনুমতি নিয়ে ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করার হুকুম:

  • মালিকের অনুমতি (ইযনে ছরীহ): অন্যের তৈরি ছবি, ভিডিও বা কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা মেধা-স্বত্ব বা অধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত হলেও, যেহেতু মূল কোম্পানি বা পণ্যের মালিক আপনাকে তাদের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করার স্পষ্ট অনুমতি (ইযন) দিয়েছে, তাই তাদের অনুমতি সাপেক্ষে তা পেজে আপলোড করা সম্পূর্ণ শরীআতসম্মত ও বৈধ। এতে অধিকার হরণ বা গোনাহের কোনো সুযোগ নেই।

খ. প্রতিনিধি (উকিল বা সামসার) হিসেবে লাভ রেখে বিক্রির হুকুম:

  • ওকালাত ও সামসারাহ: ফিকহে হানাফী ও আধুনিক ইসলামী ফিকহের দৃষ্টিতে এই ব্যবসায় আপনার ভূমিকা হলো মূল কোম্পানির 'উকিল' (وکيل - অফিশিয়াল প্রতিনিধি) বা 'সামসার' (سمسار - মধ্যস্থতাকারী/এজেন্ট)।
  • দাম বাড়িয়ে লাভ রাখা: কোম্পানি যখন আপনাকে পণ্য বিক্রয়ের দায়িত্ব দিয়েছে এবং পাইকারি দামের উপর নিজের পছন্দমতো দাম বাড়িয়ে লাভ রাখার স্পষ্ট অধিকার দিয়েছে, তখন বাড়তি টাকা আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালাল লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে।
  • হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ফতোয়া: প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হযরত ইবনে সীরীন (রহ.) এ ধরনের বেচাকেনাকে সম্পূর্ণ হালাল ঘোষণা করে বলেছেন:

    «لاَ بَأْسَ أَنْ يَقُولَ: بَعْ هَذَا الثَّوْبَ فَمَا زَادَ عَلَى كَذَا وَكَذَا فَهُوَ لَكَ» (অর্থ: "পণ্যদাতা যদি প্রতিনিধিকে বলে—'তুমি এই কাপড়টি এই নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করো, এর চেয়ে অতিরিক্ত যত দামে বিক্রি করতে পারবে তা তোমার'—তবে এতে কোনো শরঈ বাধা নেই; তা সম্পূর্ণ জায়েয।") (সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইজারা; বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ ২/২৬৭)।

গ. ক্রেতা মধ্যস্থতার বিষয় না জানার ফিকহী মাসআলা:

  • আপনি যে কোম্পানির মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন তা ক্রেতা না জানলেও ব্যবসায় কোনো সমস্যা নেই।
  • শরীআতে অনলাইন কেনাবেচা সহীহ হওয়ার মূল শর্ত হলো—পণ্য ও মূল্যের চুক্তি বা ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়া এবং বিবরণ অনুযায়ী ক্রেতার কাছে সঠিক পণ্য পৌঁছানো। যেহেতু ক্রেতা তার চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী সঠিক পণ্য পেয়ে যাচ্ছে এবং কোনো প্রকার প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি হচ্ছে না, তাই ক্রেতা আপনি মূল মালিক নাকি মাধ্যম—তা না জানলেও আপনার এই ব্যবসা শতভাগ সহীহ ও হালাল।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারা (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ২৬৭, ২৬৮ (বুহুস ফি কাযায়া ২/২৬৭, ২৬৮) (অধ্যায়: 'أجرة السمسار — সামসারাহ বা প্রতিনিধি হিসেবে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করার বৈধতা সংক্রান্ত হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদীস ও ফতোয়া')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৩৮০, ৩৮৪ (দরসুল ফিকহ ১/৩৮০, ৩৮৪) (অধ্যায়: 'মেধাস্বত্ব ও কন্টেন্ট ব্যবহারের শরঈ সীমারেখা — মালিকের অনুমতিতে ছবি/ভিডিও ব্যবহারের ফিকহী হুকুম')।
  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ২১৯, ২২০ (দরসুল ফিকহ ২/২১৯, ২২০) *(অধ্যায়: 'সামসারাহ (السمسرة) ও এজেন্টের মাধ্যমে মধ্যস্থতার ফিকহী বিবরণ')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৪র্থ খণ্ড - বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ৩৮৬, ৩৮৭ (হিন্দিয়াহ ৩/৫৬৭) (অধ্যায়: কিতাবুল বিয়ূ — 'ক্রয়-বিক্রয়ের রুকন, শর্তাবলী এবং বিবরণ অনুযায়ী পণ্য হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৬ষ্ঠ খণ্ড - বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ৪০, ৪১, ৪৬ (হিন্দিয়াহ ৩/৪১৫) (অধ্যায়: কিতাবুল ওকালাত — 'ওয়াকীল বা প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যবসা ও লাভ গ্রহণের ফিকহী মাসআলা')।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.