স্বামী ৩০ লাখ টাকার মালিক কিন্তু ঋণগ্রস্ত ও ঘরহীন—তাঁর উপর হজ্জ ফরজ কি?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
এক ব্যক্তির নিকট ৩০ লাখ টাকা আছে, কিন্তু ৮ বছর যাবৎ বৈধ (legal) উপায়ে উপার্জন নেই, বহু টাকার ঋণ রয়েছে, নিজের কোনো ঘর-বাড়ি নেই। তিনি এই টাকা দিয়ে জমি কিনে ঘর বানাতে চান এবং এই টাকা থেকেই যাকাত দিতে হয় (কারণ আয় ভালো নয়)। তিনি বলছেন—legal হলে তিনি মা ও স্ত্রীকে নিয়ে উমরাহ করতে যাবেন। প্রশ্ন: তাঁর উপর হজ্জে তামাত্তু ফরজ কি না? ৩০ লাখ থেকে ৩ জনে ৫ লাখ টাকার মধ্যে উমরাহ করা যাবে কি?
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর কত টাকা ঋণ? সেটি কিন্তু আপনি উল্লেখ করেননি।
এক্ষেত্রে তার ঋণের টাকা বাদ দিয়ে যে টাকা অবশিষ্ট রয়েছে তা দিয়ে কমদামের মধ্যে কোন জায়গা কিনে নরমাল বাড়ি করা থেকেও যদি অতিরিক্ত টাকা থাকে,যাহা দিয়ে হজে যাওয়া আসার খরচ হয় এবং তার হজ্বের ঐ কয়দিনে তার পরিবারের ভরণপোষণ এর খরচও যদি থাকে, সেক্ষেত্রে তার ওপর হজ ফরজ হবে। অন্যথায় তার উপর হজ ফরজ হবেনা।
তদুপরি আপনার স্বামী যেহেতু ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে পরিবার নিয়ে ওমরা করতে যেতে চাচ্ছেন, সুতরাং পরামর্শ থাকবে ওমরাতে 5 লক্ষ টাকা খরচ না করে এই টাকার মধ্যে যেহেতু নিজের হজ করা সম্ভব তাই হজে যাওয়ারই পরামর্শ থাকবে।
হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রয়োজন:
- ইসলাম ও আকেল-বালেগ হওয়া।
- স্বাধীন হওয়া।
- হজ্জের মাসসমূহে (শাওয়াল, যিলকদ ও যিলহজের প্রথম দশ দিন) হজ্জ আদায়ের জন্য সময় থাকা।
- সামর্থ্য (ইস্তিতাআত) থাকা।
সামর্থ্যের বিবরণে ফকিহগণ বলেন: হজ্জে যাওয়া-আসার খরচ, সফরের খরচ এবং যাবতীয় ঋণ পরিশোধের পর নিজ ও পরিবারের (যাদের ভরণপোষণ তার দায়িত্বে) জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা। আর এই সম্পদ এমন হতে হবে যা মৌলিক প্রয়োজন (হাজাতে আসলিয়া) অতিরিক্ত হয়।
আল-হিদায়া: "الاستطاعة أن يملك الزاد والراحلة... وفضل عن نفقة عياله" — সামর্থ্য হলো পাথেয় ও বাহনের মালিক হওয়া এবং পরিবারের ভরণপোষণ থেকে অতিরিক্ত থাকা।
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ হয় না, যতক্ষণ না ঋণ পরিশোধ করে অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ অতিরিক্ত থাকে। কারণ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে মালিক নয়।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ নয়
ফতোয়ায়ে আলমগিরি ও রাদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্ট: যে ব্যক্তির উপর ঋণ রয়েছে এবং তার নিকট থাকা সম্পদ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে, তার উপর হজ্জ ফরজ নয়। কেননা হজ্জের সামর্থ্য তখনই সাব্যস্ত হয় যখন ঋণমুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে।
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফতোয়ায়ে উসমানি»-তে উল্লেখ করেন: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য "সামর্থ্যবান" গণ্য হবে না, যদি না ঋণ পরিশোধের পরও নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে।
মৌলিক প্রয়োজন (হাজাতে আসলিয়া) — ঘর-বাড়ি
হানাফি মাজহাবে মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু (যেমন: বসবাসের ঘর, প্রয়োজনীয় আসবাব, ব্যবসার পুঁজি) হজ্জ ফরজ হওয়ার হিসাবে ধরা হয় না। অর্থাৎ, যে ব্যক্তির নিজের বসবাসের ঘর নেই এবং যিনি ঘর কেনার জন্য টাকা রাখছেন—তাঁর এই টাকা "অতিরিক্ত সম্পদ" হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তা মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।
রাদ্দুল মুহতার: "لا تعتبر الاستطاعة بما هو من حوائج الأصلية" — মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু সামর্থ্যের হিসাবে গণ্য হয় না।