নাক ফুল দেওয়ার জন্য নাক ফুটানো ভালো লাগে না বললে ঈমানে কি কোনো সমস্যা হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, "নাক ফোটাতে ভালো লাগে না" বা "ইচ্ছা করে না" বলার কারণে ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না। এটি একটি স্বাভাবিক ব্যক্তিগত পছন্দ ও শারীরিক/সৌন্দর্য-সংক্রান্ত বিষয়, আকীদা-বিশ্বাসের বিষয় নয়। আপনার মনে যে সন্দেহ (ওয়াসওয়াসা) এসেছে, তা শয়তানের প্ররোচনা; এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
বিস্তারিত:
১) নাক ফোটা বা নাক-ফুল পরা ইসলামে ফরজ বা ওয়াজিব নয়। এটি সম্পূর্ণ বৈধ (মুবাহ) ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ চাইলে করবে, কেউ না করলে তার উপর কোনো গুনাহ নেই। সুতরাং এ বিষয়ে "ভালো লাগে না" বলা মানে কোনো ইসলামি বিধানকে অস্বীকার করা নয়, বরং নিজের পছন্দ প্রকাশ করা। আর পছন্দ প্রকাশ করা ঈমান-বিরোধী কিছু নয়।
২) ঈমান ভঙ্গের শর্ত: ঈমান ভঙ্গ হয় কুফর, শিরক, ইসলামি অকাট্য বিধানকে (যা দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ) অস্বীকার বা অবহেলা করা, আল্লাহ-রাসূলকে গালি দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে। শুধু "আমার ভালো লাগে না" বা "ইচ্ছা করে না" — এ ধরনের কথা এসবের কোনোটিই নয়। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ এবং ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে উল্লেখ আছে যে, কুফর-ঈমানের বিধান নির্ভর করে অন্তরের বিশ্বাস ও দ্বীনের অকাট্য বিষয়ের প্রতি মনোভাবের উপর; ব্যক্তিগত অভ্যাস বা পছন্দের কথা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩) ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) সম্পর্কে: নবী ﷺ বলেছেন, সাহাবিরা একবার বললেন, "আমরা অন্তরে এমন কিছু অনুভব করি যা বলতে আমরা ভয় পাই।" নবী ﷺ বললেন, "তোমরা কি সত্যিই তা অনুভব করো?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটি সুস্পষ্ট ঈমান।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩২)। অর্থাৎ শয়তানের এমন কুমন্ত্রণা ও সন্দেহ আসা এবং তা অপছন্দ করা — এটাই ঈমানের প্রমাণ। হাদিসে আরও এসেছে, শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়; মুমিন তা অপছন্দ করে ও দূরে সরে, আর মুনাফিক তা গ্রহণ করে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫১১২-এর অধ্যায় দ্রষ্টব্য)
৪) হানাফি ফিকহের মূলনীতি: ইমাম তহাবি (রহ.) «আকিদাতুত তাহাবিয়্যা»-তে বলেন, "আমরা আমাদের আমল ও ইখলাসের ব্যাপারে নিশ্চিত নই, তবে ঈমানের ব্যাপারে নিশ্চিত।" অর্থাৎ আমল-পছন্দের ঘাটতি ঈমানকে নষ্ট করে না। মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ইসলাম ও আমাদের জীবন» এবং «ফতোয়ায়ে উসমানি»-তে বারবার স্পষ্ট করেছেন, দৈনন্দিন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কথা ঈমান-আকীদার সাথে মিশিয়ে দেওয়া ভুল; এতে ওয়াসওয়াসায় পড়া উচিত নয়।
উপদেশ:
- নিজের পছন্দের কথা স্বাভাবিকভাবে বলতে পারেন; এতে কোনো গুনাহ নেই।
- সন্দেহ এলে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং সন্দেহটি উপেক্ষা করুন; এর পেছনে পড়বেন না।
- কেউ যদি নাক ফোটানোর জন্য জোর করে বা অশালীনভাবে চাপ দেয়, তবে ভদ্রভাবে "আমার পছন্দ না" বলাই যথেষ্ট; কাউকে অপমান করা বা ঝগড়া করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
- নাক-ফুল পরা বা না পরা — কোনোটি দ্বীনের অংশ নয়; তাই এ নিয়ে নিজের ঈমান নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।
মনে রাখবেন: আপনার প্রশ্নটি মূলত ঈমান-আকীদার নয়, বরং ব্যক্তিগত পছন্দের। শুধু "ভালো লাগে না" বলার কারণে ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
আল্লাহ ভালো জানেন।