নাক ফুল দেওয়ার জন্য নাক ফুটানো ভালো লাগে না বললে ঈমানে কি কোনো সমস্যা হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 8020
Questioner: khusbo KH
Question Asked: 05 Nov 2026, 09:33 PM
Reviewed & Published: 05 Nov 2026, 09:46 PM
Views: 49
Tokens: 3,329
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাকে আমার বোন জিজ্ঞেস করেছে যে, আপু তুমি নাক ফোটাও নাই? আমি বলছি না আমার ভাল্লাগে না নাক ফোটানো। আমার নাক ফুল আছে। কিন্তু আমার ভালো লাগে না তাই এখনো নাক ফোটাই নাই। ভালো লাগে না এটা ৩-৪ বার বলছি। পরে আমার মনে কেমন সন্দেহ আসতেছে যে, এটা বলা কি ঠিক হলো। পরে আবার বলছি না আমার ইচ্ছা করে না। এখন এই ভালো লাগে না বলার জন্য কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, "নাক ফোটাতে ভালো লাগে না" বা "ইচ্ছা করে না" বলার কারণে ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না। এটি একটি স্বাভাবিক ব্যক্তিগত পছন্দ ও শারীরিক/সৌন্দর্য-সংক্রান্ত বিষয়, আকীদা-বিশ্বাসের বিষয় নয়। আপনার মনে যে সন্দেহ (ওয়াসওয়াসা) এসেছে, তা শয়তানের প্ররোচনা; এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

বিস্তারিত:

১) নাক ফোটা বা নাক-ফুল পরা ইসলামে ফরজ বা ওয়াজিব নয়। এটি সম্পূর্ণ বৈধ (মুবাহ) ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ চাইলে করবে, কেউ না করলে তার উপর কোনো গুনাহ নেই। সুতরাং এ বিষয়ে "ভালো লাগে না" বলা মানে কোনো ইসলামি বিধানকে অস্বীকার করা নয়, বরং নিজের পছন্দ প্রকাশ করা। আর পছন্দ প্রকাশ করা ঈমান-বিরোধী কিছু নয়।

২) ঈমান ভঙ্গের শর্ত: ঈমান ভঙ্গ হয় কুফর, শিরক, ইসলামি অকাট্য বিধানকে (যা দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ) অস্বীকার বা অবহেলা করা, আল্লাহ-রাসূলকে গালি দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে। শুধু "আমার ভালো লাগে না" বা "ইচ্ছা করে না" — এ ধরনের কথা এসবের কোনোটিই নয়। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ এবং ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে উল্লেখ আছে যে, কুফর-ঈমানের বিধান নির্ভর করে অন্তরের বিশ্বাস ও দ্বীনের অকাট্য বিষয়ের প্রতি মনোভাবের উপর; ব্যক্তিগত অভ্যাস বা পছন্দের কথা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩) ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) সম্পর্কে: নবী ﷺ বলেছেন, সাহাবিরা একবার বললেন, "আমরা অন্তরে এমন কিছু অনুভব করি যা বলতে আমরা ভয় পাই।" নবী ﷺ বললেন, "তোমরা কি সত্যিই তা অনুভব করো?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটি সুস্পষ্ট ঈমান।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩২)। অর্থাৎ শয়তানের এমন কুমন্ত্রণা ও সন্দেহ আসা এবং তা অপছন্দ করা — এটাই ঈমানের প্রমাণ। হাদিসে আরও এসেছে, শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়; মুমিন তা অপছন্দ করে ও দূরে সরে, আর মুনাফিক তা গ্রহণ করে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫১১২-এর অধ্যায় দ্রষ্টব্য)

৪) হানাফি ফিকহের মূলনীতি: ইমাম তহাবি (রহ.) «আকিদাতুত তাহাবিয়্যা»-তে বলেন, "আমরা আমাদের আমল ও ইখলাসের ব্যাপারে নিশ্চিত নই, তবে ঈমানের ব্যাপারে নিশ্চিত।" অর্থাৎ আমল-পছন্দের ঘাটতি ঈমানকে নষ্ট করে না। মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ইসলাম ও আমাদের জীবন» এবং «ফতোয়ায়ে উসমানি»-তে বারবার স্পষ্ট করেছেন, দৈনন্দিন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কথা ঈমান-আকীদার সাথে মিশিয়ে দেওয়া ভুল; এতে ওয়াসওয়াসায় পড়া উচিত নয়।

উপদেশ:

  • নিজের পছন্দের কথা স্বাভাবিকভাবে বলতে পারেন; এতে কোনো গুনাহ নেই।
  • সন্দেহ এলে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং সন্দেহটি উপেক্ষা করুন; এর পেছনে পড়বেন না।
  • কেউ যদি নাক ফোটানোর জন্য জোর করে বা অশালীনভাবে চাপ দেয়, তবে ভদ্রভাবে "আমার পছন্দ না" বলাই যথেষ্ট; কাউকে অপমান করা বা ঝগড়া করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
  • নাক-ফুল পরা বা না পরা — কোনোটি দ্বীনের অংশ নয়; তাই এ নিয়ে নিজের ঈমান নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।

মনে রাখবেন: আপনার প্রশ্নটি মূলত ঈমান-আকীদার নয়, বরং ব্যক্তিগত পছন্দের। শুধু "ভালো লাগে না" বলার কারণে ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.