"তোমাকে জোর করব না, জোর করে রাখব না, তোমার ইচ্ছা হলে থাকবে"—এসব কথায় কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7995
Questioner: Khadija
Question Asked: 05 Nov 2026, 12:40 PM
Reviewed & Published: 05 Nov 2026, 02:46 PM
Views: 42
Tokens: 4,163
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোনো স্ত্রী যদি তালাক চায়, আর স্বামী তালাক দিতে না চায় এবং বলে, “তোমাকে আমি কোনো বিষয়ে জোর করব না, জোর করে রাখব না বা জোর করে আটকে রাখব না। তোমার ইচ্ছা হলে থাকবে।” এসব বললে কি তালাক হয়?

Answer

কোনো স্ত্রী যদি তালাক চায়, আর স্বামী তালাক দিতে না চায় এবং বলে, “তোমাকে আমি কোনো বিষয়ে জোর করব না, জোর করে রাখব না বা জোর করে আটকে রাখব না। তোমার ইচ্ছা হলে থাকবে।” এসব বললে কি তালাক হয়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু এ ধরনের কথা বললে তালাক হয় না। এগুলো তালাকের সুস্পষ্ট (সরীহ) শব্দও নয়, আর তালাকের রূপক (কিনায়া) শব্দও নয়। বরং এগুলো কেবল স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ, জবরদস্তি না করার প্রতিশ্রুতি ও তার ইচ্ছাকে সম্মান করার ঘোষণা। তাই এতে তালাক পতিত হবে না; বিবাহ বহাল থাকবে।

তালাকের শব্দ দুই প্রকার: সরীহ ও কিনায়া

হানাফি ফিকহে তালাকের শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

(ক) সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যে শব্দে কেবল তালাকই বোঝায়, অন্য কিছু বোঝার সম্ভাবনা নেই—যেমন "তালাক", "তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্তা"। এ ধরনের শব্দে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।

(খ) কিনায়া (রূপক/ইঙ্গিতবাহী) শব্দ: যে শব্দে তালাকও বোঝাতে পারে, অন্য অর্থও বোঝাতে পারে—যেমন "তুমি যাও", "তোমার পথ তোমার হাতে", "তুমি মুক্ত", "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম" ইত্যাদি। এ ধরনের শব্দে তালাকের নিয়ত বা পরিস্থিতির قرينة (সূচক) থাকলে তালাক পতিত হয়, নইলে নয়।

আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে: "الكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو بدلالة الحال" — কিনায়া শব্দে তালাক কেবল নিয়ত দ্বারা বা অবস্থার সূচক দ্বারা পতিত হয়।

(আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক; রাদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৮-৩০০)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.