ফিলিস্তিনি সাহায্য তহবিলে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া হারাম টাকা দেওয়া যাবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 802
Questioner: ABdul Kadar RaFi
Question Asked: 26 May 2026, 05:28 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 06:05 PM
Views: 120
Tokens: 2,329
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মেডিকেল কলেজের মানুষের বিক্রি করা হারাম টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া ফিলিস্তিন সাহায্য তাহবিলে দেওয়া যাবে?

Answer

মেডিকেল কলেজের মানুষের হারাম টাকা ফিলিস্তিন সাহায্যে দেওয়া

উত্তর

আপনি সম্ভবত বোনস বা মানুষের হাড় বিক্রি করার টাকা নিয়ে জানতে চাচ্ছেন, মেডিকেল কলেজের মানুষের বিক্রি করা হারাম উপার্জনের টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া ফিলিস্তিনি সাহায্য তহবিলে দেওয়া জায়েয হবে। তবে এটি সওয়াবের জন্য নয়, বরং হারাম সম্পদ থেকে নিজেকে পবিত্র করার নিয়তে দিতে হবে। অর্থাৎ, হারাম টাকা সওয়াবের আশা না করে দান করে ফেলা ওয়াজিব।

হানাফি ফিকহের দলিল

১. ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "হারাম মাল গরিব মুসলিমদেরকে দান করে দেওয়া জরুরি, তবে এজন্য সওয়াবের আশা করা যাবে না। বরং এটি গুনাহ থেকে তওবার অংশ।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৫)

২. ফাতাওয়া শামী: "যে ব্যক্তি হারাম পথে মাল উপার্জন করেছে, তার ওপর ওয়াজিব হচ্ছে সেই মাল থেকে নিজেকে মুক্ত করা, এবং তা গরিব-মিসকিনদেরকে কোনো প্রকার সওয়াবের প্রত্যাশা ছাড়া দিয়ে দেওয়া।" (রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৫-৩৮৬)

৩. ফাতাওয়া উসমানি: "হারাম মাল দান করলে দাতার কোনো সওয়াব হয় না, কিন্তু তা গ্রহীতার জন্য হালাল হয়ে যায়। তাই কোনো সওয়াব না নিয়েই তা অভাবী মুসলিমদের সাহায্যে ব্যয় করা উচিত।" (ফাতাওয়া উসমানি, ১/৩২১)

৪. বেহেশতি জেওর: "হারাম টাকা নিজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। তা দান করে দিতে হবে, কিন্তু সওয়াবের নিয়ত করা যাবে না।" (বেহেশতি জেওর, দান-সদকার অধ্যায়)

ফিলিস্তিন সাহায্য প্রসঙ্গে

ফিলিস্তিনের মুসলিমরা আমাদের সাহায্যের সবচেয়ে বেশি হকদার। তাদের খাদ্য, ওষুধ, আশ্রয় ইত্যাদির জন্য সহায়তা করা জরুরি। হারাম টাকা এখানে দিলে তা গ্রহীতার জন্য বৈধ হয়ে যায় এবং দাতা গুনাহ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ জন্য সওয়াবের নিয়ত জরুরি নয়, বরং নিয়ত হবে:

  • "আমি এই হারাম মাল আল্লাহর রাস্তায় ফেলে দিয়ে নিজেকে পবিত্র করছি।"
  • "এ টাকা আমার কাছে কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না, তাই আমি তা ফিলিস্তিনি ভাইদের সাহায্যে ব্যয় করছি।"

শর্তাবলী

১. সুনির্দিষ্ট মালিক জানা থাকলে (যেমন: প্রতারণা করে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া), তাহলে সেই ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়া ওয়াজিব। তবে সাধারণ অবস্থায় মেডিকেল কলেজের মানুষের বিক্রি টাকাকে দান করাউ উত্তম।

২. মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে এই টাকা ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ সেখানে পবিত্র মালের শর্ত থাকে। কিন্তু ফিলিস্তিনের সাধারণ সাহায্য (খাদ্য, চিকিৎসা, ত্রাণ) এর মধ্যে পড়ে না।

৩. তওবা করা আবশ্যক। হারাম উপার্জন বন্ধ না করে শুধু দান করলে গুনাহ মাফ হবে না।

সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা

  • হারাম টাকা আলাদা করে রাখুন।
  • সওয়াবের লোভ না রেখে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো সংস্থায় দিন।
  • নিয়ত করুন: "হে আল্লাহ, আমি এই হারাম মালকে আমার থেকে বের করে দিচ্ছি, তুমি তা কবুল করো এবং আমাকে হালাল রিজিক দান করো।"

বিশেষ দ্রষ্টব্য

যারা অনৈতিক উপায়ে টাকা উপার্জন করে, তাদের প্রথম কর্তব্য তওবাভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা। দান শুধু গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার একটি মাধ্যম, এটি মূল গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা নয়। বরং আন্তরিক তওবা ও হারাম পথ বন্ধ করাই আসল মুক্তি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক দান করুন এবং হারাম থেকে বিরত রাখুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.