আল্লাহ জাল্লাহ শানুহ বলতে গিয়ে কেউ যদি বলে ফেলে যে, আল্লাহ নাই, তাহলে কি ঈমান ঠিক থাকবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 797
Questioner: Nazmul Rahman
Question Asked: 26 May 2026, 04:38 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 04:44 PM
Views: 128
Tokens: 2,290
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন একজন মানুষ আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু বলতে গিয়ে সে বলে ফেলেছিল যে আল্লাহ নাই। কিন্তু কথাটি সে নিজের কানে শুনেছে কি না? এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত বলতে পারছে না। কথাটা বলার পর তার মনে হয়েছে যে, সে ভুল কথা বলে ফেলেছে হয়তো। এক্ষেত্রে কি তার ঈমান ঠিক আছে? সে তার বেশ কিছুক্ষণ পর ইস্তেগফার পড়েছে।

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণিত ঘটনায় ব্যক্তির ঈমান ঠিক আছে বলে গণ্য হবে, ইনশাআল্লাহ। তবে কিছু শর্ত ও ব্যাখ্যা জরুরি।

মূলনীতি:

১. ইচ্ছা ও নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কুফরী সাব্যস্ত হয় না:
ইসলামী শরিয়তে কোনো ব্যক্তি যদি অসাবধানতা, ভুল বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কুফরী শব্দ উচ্চারণ করে, তবে সাথে সাথে তার ঈমান চলে যায় না। বিশেষ করে যদি সে নিশ্চিত না হয় যে, সে উক্ত শব্দটি উচ্চারণ করেছে কি না। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৬; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৬০)

২. সন্দেহের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা বহাল থাকে:
যেহেতু ব্যক্তি নিশ্চিত নয় যে সে "আল্লাহ নেই" বলেছে, তাই তার ঈমানের মূল অবস্থা (যা পূর্বে ছিল) বহাল থাকবে। ইসলামী ফিকহে নীতিমালা: "اليقين لا يزول بالشك" (নিশ্চিত বিষয় সন্দেহে বাতিল হয় না)(আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ইবনে নুজাইম, ১/৬৬; উসুলুশ শাশী, ১/১১২)

৩. ইস্তিগফার ও তাওবা গ্রহণযোগ্য:
ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর ইস্তিগফার পড়েছে—এটি তার ঈমানের শুদ্ধতার প্রমাণ। কারণ, কুফরী করলে সাধারণত ব্যক্তি তার প্রতি অনুতপ্ত হয় না এবং ইস্তিগফার করে না। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৫২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৩২৫)

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

  • ভবিষ্যতে সতর্কতা: "আল্লাহ জাল্লা শানুহু" বলার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।
  • নিজকে সংশোধন করা: যদি কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল শব্দ মুখ থেকে বের হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ে তাওবা করে নেওয়া। এবং "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" বলে ঈমান তাজা করা।
  • মানসিক প্রশান্তি: শয়তান মানুষকে ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহে ফেলে দেয়। তাই নিজেকে অতিরিক্ত চিন্তায় না ফেলে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখা।

প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "যদি কেউ অসতর্ক অবস্থায় কুফরী শব্দ উচ্চারণ করে, তবে তা কুফরী গণ্য হবে না, যদি না তার নিয়ত ও বিশ্বাসে কুফরী থাকে।" (৪/২২৪)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মোহাম্মদ শফী): "কোনো ব্যক্তি যদি নিশ্চিত না হয় যে, সে কুফরী বলেছে, তবে তার ঈমানের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না।" (২/৪১২)
  • মাআরিফুল কুরআন: সূরা আন-নাহল ১০৬ নং আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে অথচ তার অন্তর ঈমানে পরিপূর্ণ, সে কাফির হয় না।" (৭/৪৫৬)

সারসংক্ষেপ:

  • ঈমান ঠিক আছে (ইনশাআল্লাহ)।
  • ইস্তিগফার করা উত্তম (যা তিনি করেছেন)।
  • নিশ্চিত না হলে কোনো সমস্যা নেই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের উপর অটল রাখুক ও ভুল-ত্রুটি থেকে হেফাজত করুক। (আমীন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.