হোটেলে "স্বামী-স্ত্রী" পরিচয়ে সাইন করলে কি বিবাহ হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7952
Questioner: Ibrahim
Question Asked: 04 Nov 2026, 09:02 PM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 09:21 PM
Views: 20
Tokens: 5,804
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আবাসিক হোটেলে অবিবাহিত ছেলে আর মেয়ে যদি স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে হোটেল রুলস অনুযায়ী পেপার সাইন করে দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির সামনে নিজেদেরকে স্‌বামী স্ত্রী হিসাবে লিখিত পরিচয় দেয় এবং দুইজনেই পেপারে সাক্ষর করে তাহলে কি বিয়ে হয়ে যাবে?মৌখিক কোন ইজাব কবুল হয় নাই এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দুজনও জানত যে,ছেলে মেয়ে অবিবাহিত।

দারুল উলুম দেওবন্দের একটা ফতওয়াতে দেখেছিলাম শুধু কাবিননামায় দস্তখত করে মৌখিক ইজাব কবুল না হলেও বিবাহ বিশুদ্ধ হয়ে যায়।সেই আলোকে কি এখানে বিবাহ হয়ে গেছে?

মেয়েটির বর্তমানে অন্য একটি ছেলের সাথে বিবাহ হয়েছে।তারা সংসার করছে কয়েকবছর হলো।বর্তমানে মেয়েটির এই সংসার কি বৈধ?

Answer

আবাসিক হোটেলে লিখিত পরিচয় ও সাক্ষর দ্বারা বিবাহ হয় কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য ফাতাওয়া কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ আপনার প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:

১. হোটেলের রুলস অনুযায়ী কাগজে স্বাক্ষর করে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়ার দ্বারা তাদের মধ্যে কোনো বিবাহ সংঘটিত হয়নি। ২. দেওবন্দের কাবিননামায় দস্তখত সংক্রান্ত ফতোয়াটির প্রেক্ষাপট ও সুরত সম্পূর্ণ ভিন্ন; তার সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। ৩. মেয়েটির বর্তমান অন্য পুরুষের সাথে অনুষ্ঠিত বিবাহ এবং বিগত কয়েক বছরের সংসার জীবন শতভাগ সহীহ, বৈধ ও সম্পূর্ণ হালাল।


২. বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও মূলনীতি:

ক. কাগজে স্বাক্ষর দ্বারা বিবাহ না হওয়ার কারণ:

  • মৌখিক ইজাব-কবুল বিবাহের মূল রুকন: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য উপস্থিত পাত্র-পাত্রী বা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বশরীরে শাব্দিক ও মৌখিক 'ইজাব' (প্রস্তাব) এবং 'কবুল' (সম্মতি) উচ্চারিত হওয়া আবশ্যকীয় রুকন ও শর্ত।
  • উপস্থিত ব্যক্তিদের কেবল স্বাক্ষরে বিবাহ না হওয়া: পাত্র-পাত্রী বা আকদকারী উভয় পক্ষ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যদি মুখে ইজাব-কবুল না বলে কেবল কাগজে বা রেজিস্ট্রারে লিখে স্বাক্ষর করে, তবে শরীআতের বিচারে বিবাহ সংঘটিত হয় না।
  • আল্লামা ইবনু নুজাইম (রহ.) ও আল্লামা হাসকাফী (রহ.) স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন: "উপস্থিত দুইজনের লিখিত ইজাব-কবুল বা সই-স্বাক্ষরের দ্বারা বিবাহ শুদ্ধ হয় না। যদি পুরুষ লেখে 'আমি তোমাকে বিয়ে করলাম' আর নারী লেখে 'আমি গ্রহণ করলাম', তবুও বিবাহ শুদ্ধ হবে না।"।
  • তাছাড়া এখানে উভয় পক্ষ ও উপস্থিত ব্যক্তিরা জানতেন যে এটি কেবল হোটেলের নিয়ম পালনে ভুয়া লিখিত পরিচয়; এতে শরঈ বিবাহের কোনো প্রস্তাব-সম্মতি বা আকদের উদ্দেশ্য ছিল না।

খ. দেওবন্দের কাবিননামা সংক্রান্ত ফতোয়ার সঠিক প্রেক্ষাপট:

  • দারুল উলূম দেওবন্দের যে ফতোয়ায় কাবিননামায় স্বাক্ষরের দ্বারা বিবাহ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার সুরত হলো—যখন বিবাহের নিয়তে অনুষ্টান করার পর ভূলে ইজাব কবুল না হয়, বরং শুধুমাত্র কাবিননামায় দস্তখত হয়, তখন জরুরতের বিত্তিতে বিবাহ বৈধ হওয়ার ফাতাওয়া দেওয়া হয়েছে।
  • কিন্তু প্রশ্নের বিবরণমতে উপস্থিত ছেলে-মেয়ে কোনো প্রকার মৌখিক ইজাব-কবুল ছাড়া কেবল হোটেল রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করার দ্বারা বিয়ে সংগঠিত হবে না। কেননা এখানে বিবাহ বৈধ করার বিশেষ কোনো কারণ বা জরুরত নেই।

গ. মেয়েটির বর্তমান বিবাহের শরঈ হুকুম:

  • যেহেতু হোটেলে কাগজে সই করার কারণে প্রথম ছেলেটির সাথে মেয়েটির কোনো বিবাহই সংঘটিত হয়নি, সেহেতু মেয়েটি শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবিবাহিতই ছিল এবং সেই ছেলের সাথে তার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হয়নি।
  • অতএব, পরবর্তীতে অভিভাবক ও শরঈ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অন্য এক পুরুষের সাথে মেয়েটির যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সহীহ, শুদ্ধ ও বৈধ বিবাহ।
  • বর্তমানে তারা যে সংসার করছে, তা শতভাগ হালাল ও পবিত্র দাম্পত্য জীবন। এ নিয়ে মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ, ভয় বা অপরাধবোধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১১৭, ১১৮, ১২৫ (অধ্যায়: 'প্রযুক্তির সাহায্যে বিবাহ: শর'য়ী পর্যালোচনা — ১. নিয়মতান্ত্রিক ও শাব্দিক ইজাব-কবুল; উপস্থিত ব্যক্তিদের মাঝে লিখিত বা দস্তখতের মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত না হওয়া এবং শাব্দিক ইজাব-কবুলের বাধ্যবাধকতা')।
    • পৃষ্ঠা: ১৩৪, ১৩৫ (অধ্যায়: 'চিঠি ও দূত মারফত ইজাব-কবুল — অনুপস্থিত ব্যক্তির চিঠি সাক্ষীদের সামনে পাঠ করে শোনানো ও মৌখিক কবুল করার শর্ত')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড - বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ১৯, ২০, ২৫ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ১ম ও ২য় পরিচ্ছেদ — 'নিকাহের সংজ্ঞা, রুকন ও শর্তাবলী এবং শাব্দিক উচ্চারণ ছাড়া কেবল লিখিত দস্তখতে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিবাহ অকার্যকর হওয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১১শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৩৫, ৩৬, ১৩৬ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, বাবুন নিকাহিল ফাসিদ — 'শরঈ ইজাব-কবুল ছাড়া বিবাহ অকার্যকর হওয়া এবং দ্বিতীয় সহীহ বিবাহের বৈধতার ফতোয়া')।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.