যারা হজ্জে যাননি তাদের জন্য আরাফার দিন তালবিয়া পাঠ করার বিধান?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 794
Questioner: Naima Jannat
Question Asked: 26 May 2026, 02:59 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 03:32 PM
Views: 103
Tokens: 2,378
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের দেশে আরাফার দিন যখন হাজীরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন, তখন যারা হজে যাননি তারা অনেকেই সারাদিন 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' তালবিয়াটি পড়তে থাকেন। আমার জানার বিষয় হলো -

হজে না গিয়ে আরাফার দিনে এই তালবিয়া পড়া কি জায়েজ?
শরীয়তে এর কোনো নিয়ম বা ফজিলত আছে কি?
পড়লে সওয়াব হবে নাকি বিদআত হবে?

Answer

উত্তর:
আরাফার দিনে হাজীগণ তালবিয়া পাঠ করেন, এটি তাদের জন্য ইহরামের একটি সুন্নত আমল। তবে যারা হজে যাননি, তাদের জন্য বিশেষভাবে এই দিনে তালবিয়া পাঠ করা শরীয়তসম্মত কোনো ইবাদত নয় এবং এর জন্য আলাদা কোনো ফজিলত বা আমল হাদীসে বর্ণিত হয়নি।

১. হজে না গিয়ে তালবিয়া পড়া কি জায়েজ?

  • তালবিয়া মূলত ইহরামের একটি যিকর, যা হাজী ও মুমতিরা ইহরাম বাঁধার পর পাঠ করেন। যারা হজ বা উমরায় ইহরাম বাঁধেননি, তাদের জন্য তালবিয়া পাঠ করা বিদআত না হলেও এটাকে বিশেষ ফজিলতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে পাঠ করা ঠিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবায়ে কেরাম আরাফার দিনে হাজীদের জন্য তালবিয়াকে বিশেষ ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করেননি। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৮০; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২২৪)

২. শরীয়তে এর কোনো নিয়ম বা ফজিলত আছে কি?

  • আরাফার দিনের জন্য বিশেষ তালবিয়া পাঠের আলাদা কোনো ফজিলত হাদীসে বর্ণিত হয়নি। বরং এই দিনের জন্য বেশি বেশি যিকির, তওবা, ইস্তিগফার, কুরআন তিলাওয়াত, দরূদ পড়া ও দোয়া করা উত্তম। যেমন হাদীসে এসেছে, "আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ তাআলা অধিক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।" (সহিহ মুসলিম, হাদীস: ১৩৪৮)
  • তবে হজের ইহরাম না থাকলে তালবিয়া পড়া নিষেধ নয়, কিন্তু এটি বিশেষ সুন্নত বা মুস্তাহাব হিসেবে প্রমাণিত নয়।

৩. পড়লে সওয়াব হবে নাকি বিদআত হবে?

  • তালবিয়া পাঠ করা একটি কল্যাণকর যিকর, এবং এটি যেকোনো সময় পাঠ করা জায়েজ। তবে আরাফার দিনকে বিশেষ করে তালবিয়া পাঠের জন্য নির্দিষ্ট করা এবং এটাকে হাজীদের অনুকরণে একটি নিয়মিত আমল বানিয়ে ফেলা বিদআত পর্যায়ে পড়তে পারে। কারণ সুনির্দিষ্ট সময়ে বা স্থানে কোনো ইবাদতকে নির্ধারণ করার জন্য শরঈ দলিল প্রয়োজন।
  • হানাফি ফকিহগণ বলেন, যে কোনো যিকর সাধারণভাবে পাঠ করা জায়েজ, তবে নির্দিষ্ট দিনে বা সময়ে নির্ধারিত করে পাঠ করলে বিদআত হওয়ার আশংকা থাকে। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৬১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/২৪৪)

সারসংক্ষেপ:

  • আরাফার দিনে হজে না গিয়ে তালবিয়া পড়া জায়েজ। তবে এটাকে বিশেষ ফজিলতের আমল মনে করা ঠিক নয়।
  • এ দিনে তালবিয়ার পরিবর্তে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, দোয়া, দরূদ ও কুরআন তিলাওয়াত করা অধিক ফজিলতপূর্ণ।
  • যদি কেউ এটাকে হাজীদের অনুকরণে শুধু যিকরের নিয়তে পড়ে, তাহলে বিদআত হবে না, তবে সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করে পড়লে বিদআত গণ্য হবে।

উত্তম পদ্ধতি:
আরাফার দিনে আমরা যেসব আমল করব:

  • সিয়াম (যারা হজে যাননি তাদের জন্য সুন্নত)
  • বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তওবা
  • কুরআন তিলাওয়াত
  • দোয়া ও দরূদ শরীফ
  • মনে মনে হাজীদের জন্য দোয়া করা

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২২৪: "তালবিয়া ইহরামের আমল, ইহরাম না থাকলে এটি সুন্নত নয়।"
  • রদ্দুল মুহতার, ২/৪৮০: "নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো যিকর সাব্যস্ত করা বিদআত।"
  • ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৬১: "আরাফার দিনে তালবিয়া পাঠ করা জায়েজ নয়, বরং অন্যান্য যিকর উত্তম।"

আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক আমল করার তাওফীক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.