প্রথম সন্তানে নেফাস ২৪ দিন ছিলো, দ্বিতীয় সন্তানের সময় ৪৫ দিন রক্তস্রাব চললে কতদিন হায়েয গণনা করা হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7887
Questioner: Sadia Afrin
Question Asked: 03 Nov 2026, 07:34 PM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 08:34 PM
Views: 28
Tokens: 4,862
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারোর প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে নেফাসের সময় ছিলো ২৪ দিন। এখন ২য় সন্তানের ক্ষেত্রে নেফাসের সময় ৪৫ দিন হয়ে গেলো। তাহলে তার ইস্তিহাযার সময় ২১ দিন পর্যন্ত। তবে ১৬ দিনের নামাজ কাযা আদায় করতে হবে। এখন তার ২৪ দিনের পর থেকেই তো ইস্তিহাযা তাইলে ১৬ দিনের নামাজ কাযা কেনো হবে?

Answer

নেফাস ও ইস্তিহাযার বিধান: ১৬ দিনের নামাজ কাযা কেন?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাব

নিফাসের রক্ত ৪০ দিন অতিক্রম করার পর কেন ২৫তম দিন থেকে ৪০তম দিন পর্যন্ত ১৬ দিনের নামাজ কাযা (কাজা) করতে হয়—তার সহজ ফিকহী ব্যাখ্যা ও কারণ ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল ফিকহী রহস্য ও কারণ (কেন ১৬ দিনের নামাজ কাযা হবে?):

১. নিফাসের সর্বোচ্চ সীমা ও মহিলাটির অপেক্ষা করা: ফিকহে হানাফীতে নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ৪০ দিন। ১ম সন্তানের ক্ষেত্রে মহিলাটির নিফাসের অভ্যাস (আদত) ছিল ২৪ দিন। ২য় সন্তানের ক্ষেত্রে ২৪ দিন পার হওয়ার পরও রক্ত আসতে থাকায় মহিলাটি ৪০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। কারণ যদি রক্ত ৪০ দিনের ভেতরেই (যেমন ৩৫ বা ৪০ দিনে) বন্ধ হয়ে যেত, তবে পুরো ৪০ দিনই তার জন্য নতুন নিফাস ধরা হতো এবং তাকে কোনো নামাজ কাজা করতে হতো না।

২. রক্ত ৪০ দিন অতিক্রম করার পর ফিকহী পরিবর্তন: রক্ত যখন ৪০ দিন অতিক্রম করে ৪৫ দিন পর্যন্ত গড়ায় (৪০ দিনের বেশি হয়ে যায়), তখন শরীআতের মূলনীতি অনুযায়ী রক্ত আসার পুরো সময়টি নিফাস গণ্য হয় না; বরং মহিলাটির পূর্বের অভ্যাস (২৪ দিন) অনুযায়ীই নিফাস ধরা হয়। ২৪ দিনের অতিরিক্ত পুরো ২১ দিনই (২৫তম দিন থেকে ৪৫তম দিন পর্যন্ত) নিফাস থেকে বাদ পড়ে 'ইস্তিহাযা' (রোগজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হয়।

৩. ১৬ দিনের নামাজ কাযা হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ:

  • ইস্তিহাযা অবস্থায় শরীআতে নামাজ পড়া আবশ্যক (ফরয); ইস্তিহাযার কারণে নামাজ মাফ হয় না।
  • মহিলাটি ২৫তম দিন থেকে ৪০তম দিন পর্যন্ত (মোট ১৬ দিন) রক্ত আসতে দেখে মনে করেছিলেন যে এটি হয়তো নিফাসই চলছে, তাই তিনি নামাজ পড়েননি।
  • কিন্তু ৪৫তম দিনে গিয়ে যখন নিশ্চিত হওয়া গেল যে রক্ত ৪০ দিন পার হয়ে গেছে এবং ২৫তম দিন থেকেই রক্তটি নিফাস ছিল না—বরং ইস্তিহাযা ছিল, তখন অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে তিনি ইস্তিহাযার ১৬ দিন (২৫তম থেকে ৪০তম দিন) ভুলবশত নিফাস মনে করে নামাজ পড়েননি।
  • যেহেতু ইস্তিহাযার দিনে নামাজ পড়া ফরয ছিল এবং তিনি তা পড়েননি, তাই শরীআতের নিয়ম অনুযায়ী ঐ ১৬ দিনের (২৫তম থেকে ৪০তম দিন) না পড়া ফরয নামাজগুলো তাকে কাযা করতেই হবে।

৪. ৪১তম থেকে ৪৫তম দিনের হিসাব: ৪০ দিন পার হওয়ার পর (৪১তম দিন থেকে) মহিলাটি বুঝে গেছেন যে তার রক্ত ইস্তিহাযা হয়ে গেছে। তাই ৪১তম দিন থেকে ৪৫তম দিন পর্যন্ত তিনি প্রতিদিন ওজু/গোসল করে নিয়মিত নামাজ পড়েছেন। ফলে ঐ শেষের ৫ দিনের নামাজ আর কাজা হয়নি; কেবল পূর্বের না পড়া ১৬ দিনের নামাজই কাজা হিসেবে রয়ে গেছে।


সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১১৭, ১১৮ (অধ্যায়: তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: নিফাসের বিবরণ — 'নিফাসের সর্বোচ্চ সীমা ৪০ দিন হওয়া এবং ৪০ দিন অতিক্রম করলে পূর্বের অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্ত ইস্তিহাযা হওয়ার ফিকহী বিধান')।
    • পৃষ্ঠা: ১১৯, ১২০ (অধ্যায়: তাহারাত, ৩য় অনুচ্ছেদ: ইস্তিহায়ার বিবরণ — 'ইস্তিহাযার রক্তে নামাজ মাফ না হওয়া এবং ভুলবশত না পড়া সালাত কাযা করার বাধ্যবাধকতা')।
  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ৪৭ (অধ্যায়: তাহারাত — 'নিফাস ও ইস্তিহাযার মেয়াদ এবং রক্ত ৪০ দিন অতিক্রম করার পর সালাত কাযা করার শরঈ আহকাম')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৯৯ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়েয ওয়ান নিফাস — 'নিফাস ও ইস্তিহাযার রক্তে সালাত কাযা করার প্রামাণ্য ফতোয়া')।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.