অভিভাবক ছাড়া সম্পন্ন বিবাহ এবং এক মজলিসে তিন তালাকের শরয়ী হুকুম

Family Life · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 7839
Questioner: arafat_islam tamim
Question Asked: 03 Nov 2026, 01:43 AM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 07:11 AM
Views: 26
Tokens: 14,785
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আপনার নিকট আমার প্রশ্ন ও বর্তমান পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে শরয়ী সমাধান জানতে চাই। আমার বিষয়টি দুটি অংশে বিভক্ত—প্রথমত বিবাহের মাসয়ালা এবং দ্বিতীয়ত তালাকের মাসয়ালা।

বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি ও হানাফি ফিকহের মাসয়ালা:

* আমরা যখন বিবাহ করি, তখন আমাদের সমাজে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এবং হানাফি ফিকহের ওপর ভিত্তি করেই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল (যেহেতু হানাফি মাযহাবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিজ দায়িত্বে অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করা জায়েজ ধরা হয়)।

* তখন আমি মাযহাব, মানহাজ বা শরিয়তের গভীর জ্ঞান সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। সমাজে যা প্রচলিত দেখেছি, তার ওপর ভিত্তি করেই বিবাহ সম্পন্ন করি।

* আমার স্ত্রীর বাবা (শ্বশুর মহাশয়) শরিয়তের এই জটিল মাসয়ালা (অভিভাবকের অনুমতি শর্ত কি না) সম্পর্কে জানতেন না; তিনিও মনে করেছেন আমাদের বিবাহ বৈধভাবে হয়ে গেছে এবং তিনি নিজে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সবার আগে এই বিবাহ মেনে নেন। পরবর্তীতে আমাদের একটি সন্তানও জন্ম নেয় এবং দুই পরিবারই আমাদের এই সংসারকে বৈধ ও হালাল বলে মেনে নেয়।

* বিয়ের কিছুদিন পর আমি জানতে পারি যে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে (যেমন: শাফেয়ী ও হাম্বলি মাজহাব এবং সালাফি উলামায়ে কেরামের নিকট অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হয় না)। তখন আমি শায়খ আহমাদুল্লাহ (হাফি.)-এর একটি ফতোয়া ও আলোচনা পাই, যেখানে তিনি উভয় পক্ষের দলিলগুলো উল্লেখ করার পর ইবনে কুদামা (র.)-এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করেন। ইবনে কুদামা (র.) বলেছেন যে, যে সমস্ত অঞ্চলে হানাফি ফিকহের প্রচলন রয়েছে এবং সে অনুযায়ী কেউ যদি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করে ফেলে, তবে তাদের বিবাহ ভেঙে দিতে হবে বা নতুন করে পড়াতে হবে—এমন কড়াকড়ি করা উচিত নয়।

* শায়খ আহমাদুল্লাহর এই ফতোয়ার সারমর্ম ছিল যে, নতুন করে বিবাহ পড়ানোর প্রয়োজন নেই। এই ফতোয়া গ্রহণ করে সংসার চালিয়ে গিয়েছি।

* বর্তমানে দীর্ঘ দিন সংসার করার পর এবং আমাদের একটি সন্তান থাকার কারণে—যদি এখন নতুন করে বিবাহ পড়াতে যাওয়া হয়, তবে পরিবারে মারাত্মক ও বড় ধরনের ফিতনা এবং পারিবারিক গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা বাস্তবসম্মতভাবে প্রায় অসম্ভব।

২. তালাকের মাসয়ালা:

* দীর্ঘ দিন সংসার করার পর রাগের বশে এক মজলিসে স্ত্রীকে এক সাথে তিন তালাক দিয়ে ফেলি।

* পরবর্তীতে এ বিষয়ে মাসয়ালা খুঁজতে গিয়ে দেখতে পাই যে, এক মজলিসের তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করার এবং তিন তালাকই কার্যকর হয়ে যাওয়ার—উভয় ধরনের মতই উলামায়ে কেরামের মাঝে রয়েছে।

* কোরআন ও সহিহ হাদিসের দলিলপত্র পর্যালোচনা করে আমার কাছে মনে হয় যে, এক মজলিসের তিন তালাক ‘এক তালাক’ হিসেবে গণ্য হওয়ার দলিলটি অধিকতর শক্তিশালী। বিভিন্ন সমসাময়িক স্কলারদের ফতোয়া দেখে আমি এই মতটি গ্রহণ করি এবং সংসার চালিয়ে যাই।

* তখন আমি জানতাম না যে এই মাসয়ালাটি মূলত ‘সালাফি’ উলামায়ে কেরামের বা এই মাণহাজের সাথে সম্পৃক্ত। এর প্রায় ৩-৪ মাস পর আমি নিজে সালাফি মানহাজ বা মতাদর্শের অনুসারী হই এবং জানতে পারি যে এক মজলিসের তিন তালাক এক তালাক গণ্য হওয়ার মাসয়ালাটি তাদেরই প্রচলিত মাসয়ালা।

বর্তমান জিজ্ঞাসা:
১. এমতাবস্থায় আমাদের পূর্বের বিবাহের কি হুকুম? যেহেতু পুনরায় বিবাহ পড়ানো আমাদের বর্তমান সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কঠিন ও বড় ফিতনার কারণ হতে পারে, তাই হানাফি ফিকহ এবং ইবনে কুদামা (র.)-এর বক্তব্য ও শায়খ আহমাদুল্লাহর ফতোয়ার আলোকে আমাদের এই সংসার ও বিবাহ কি বহাল থাকবে? নাকি নতুন করে বিবাহ পড়ানো জরুরি?
২. এক মজলিসে দেওয়া তিন তালাকটি কি এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে? যেহেতু দলিল শক্তিশালী মনে করে আমি পূর্বেই এই মতের ওপর আমল করে সংসার চালিয়ে আসছি এবং পরবর্তীতে আমি সালাফি মানহাজ গ্রহণ করি, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক কি ঠিক আছে?

Answer

উত্তর: বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত শরয়ী সমাধান

بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

জবাবঃ- Ahle Hadith / Salafi মত অনুসারে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ হওয়ায় আপনাদের বিবাহই শুদ্ধ হয়নি,তাই তালাকের কোনো প্রশ্নই উঠেনা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" — [সুনানে আবু দাউদ: ২০৮৫, তিরমিজি: ১১০২; শায়খ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন]

আরও ইরশাদ হয়েছে:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ "যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল।" — [তিরমিজি: ১১০২; আবু দাউদ: ২০৮৩; শায়খ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন]

শায়খ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন, এই হাদীস প্রমাণ করে অভিভাবকের উপস্থিতি বিবাহের শর্ত; এটি ছাড়া বিবাহ সহীহ নয়। [আশ-শারহুল মুমতি', ১২/৬৬]


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.