গোনাহ এবং ইমান নিয়ে শঙ্কাঃ করণীয় সম্পর্কে জানতে চাই
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
ক)এখানে অন্য মানুষের দলিল যা অন্য বান্দার হক সেটা যদি আমি দুইতে গেলে যদি নষ্ট হয়ে যায়। আমি চাইছিলাম যেগুলোতে নাপাকি লাগছে হালকা ঝাড়া দিয়ে আরেকটা বস্তায় সংরক্ষণ করলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
খ) ঘরের ভিতরে তেলাপোকা টিকটিকি ইদুর অনেক বেশি আমি পরিস্কার করে সংরক্ষণ করলে আবার পায়খানা করতে পারে কি করবো বুঝতে পারছি না?
২।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু পুড়িয়ে ফেললে তো আর লিখার অস্তিত্ব থাকার কথা না সেটাকে সম্মান কি দেখাতেই হবে না দেখালে গোনাহ হবে কি । মাটির চুলায় রেখে দিছি আর উঠাতে গেলেও তো একবারে সব উঠানে সম্ভব না কিছু তো থেকে যেতে পারে। পাকের ঘরে মাটির চুলার পাশে একটা কুকুর মাঝে মধ্যে শুয়ে থাকে পোড়ার আগে খেয়াল ছিলনা। কুকুর টাকে দেখলেই দৌড়ানি দেই চুলার পাশে একটা তালের পাতা যাতে করে বসতে না পারে। কুকুর চুলার ভিতরে অপরিষ্কার করবে কিনা সিওর না। নিচে ক ও খ আকারে কিছু প্রশ্ন
ক) ছাই তো আর লেখা অবশিষ্ট থাকার কথা না এগুলো তো লেখা থাকার কারনে সম্মানিত এখন যদি আর কোনো যায়গায় সংরক্ষণ না করি গোনাহ হবে কি?
খ)ভবিষ্যতে সেই চুলাতে আবার পুড়িয়ে রেখে দেই তাহলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেন যে, আমানতসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
"যে তোমার কাছে আমানত রাখে, তার আমানত আদায় করো; আর যে তোমার সাথে খিয়ানত করে, তুমি তার সাথে খিয়ানত করো না।" (আবু দাউদ, তিরমিজি)
প্রশ্ন ১ (ক): অন্যের দলিলপত্রে নাপাকি লেগেছে, তা ঝেড়ে অন্য বস্তায় সংরক্ষণ করলে গুনাহ হবে কি?
উত্তর:
আপনার পিতার কাছে অন্যদের জমি-জমার দলিলপত্র আমানত হিসেবে ছিল। মৃত্যুর পর এগুলো আপনার কাছে আমানত। এগুলো সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। যদি নাপাকি (যেমন ইদুরের পায়খানা, তেলাপোকার বিষ্ঠা) লেগে থাকে, তাহলে সেটা মুস্তাকার (শুকনো) নাপাকি হলে ঝেড়ে ফেললেই পবিত্র হবে। তবে যদি ভিজা নাপাকি লাগে, তবে সেটা পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
হুকুম:
- নাপাকি লাগা কাগজপত্র হালকা ঝেড়ে পরিষ্কার করে অন্য পলিথিন বা বস্তায় সংরক্ষণ করলে গুনাহ হবে না; বরং এটি আমানত রক্ষার সওয়াবের কাজ।
- তবে যদি কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে দ্রুত মালিকদের খুঁজে বের করে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া ফরজ। যদি মালিকদের খুঁজে না পান, তাহলে স্থানীয় মসজিদের ইমাম বা এলাকার মুসলিম নেতার পরামর্শ নিন।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার (১/৩১৪): "শুকনো নাপাকি ঝেড়ে ফেললেই স্থান পবিত্র হয়।"
- ফাতাওয়া উসমানি (২/৪৫২): "আমানত বিনষ্ট করা হারাম; সংরক্ষণ করা ওয়াজিব।"
প্রশ্ন ১ (খ): দলিলপত্রে পুনরায় পোকামাকড় আসতে পারে, কী করব?
উত্তর:
আপনি যদি কাগজপত্রগুলো প্লাস্টিকের বক্স বা বায়ুরোধী ব্যাগে রেখে পোকামাকড় নিরোধক (যেমন ন্যাপথলিন, কর্পূর) ব্যবহার করেন, তাহলে পুনরায় নাপাকি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তবে যদি পুনরায় নাপাকি লাগে, তাহলে আবার পরিষ্কার করবেন।
হুকুম:
- কাগজপত্র সংরক্ষণের জন্য পরিষ্কার ও শুকনো জায়গা নির্বাচন করুন।
- তেলাপোকা বা ইদুর মারার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জায়েয; তবে ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজ নষ্ট করা যাবে না।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া আলমগিরি (৫/৩৫৯): "প্রাণী মারার অনুমতি আছে যদি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।"
প্রশ্ন ২ (ক): কোরআন-হাদিস লেখা কাগজ পুড়িয়ে ছাই করে ফেললে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
কোরআন বা হাদিসের নামাযুক্ত কাগজ মাটিতে পুঁতে দেওয়া বা পবিত্র পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া উত্তম। আগুনে পোড়ানো মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং কিছু ফকীহের মতে হারাম, যদি যথাযথ সম্মান না থাকে। তবে যদি কাগজের লেখা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় (যেমন ছাইয়ে লেখার অস্তিত্ব না থাকে), তাহলে ঐ ছাই আর পবিত্র নয়; সেটা মাটিতে ফেলা বা অন্য স্থানে সংরক্ষণ না করলেও গুনাহ হবে না।
হুকুম:
- যদি কাগজে এখনও লেখার অস্তিত্ব থাকে (যেমন অক্ষর দৃশ্যমান), তাহলে সেটাকে সম্মান দেখানো ওয়াজিব।
- ছাইয়ে লেখা না থাকলে তা সাধারণ ছাইয়ের মতো; গুনাহ নেই।
রেফারেন্স:
- শরহু মা'আনিল আসার (৪/১২১): "পবিত্র বস্তু পোড়ানো নিষিদ্ধ নয়, তবে উত্তম পদ্ধতি পুঁতে দেওয়া।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৫০): "কোরআনের পাতা পোড়ানো মাকরূহে তাহরিমি।"
প্রশ্ন ২ (খ): মাটির চুলায় কুকুর শোয়া/অপবিত্র হওয়ার পর সেখানে কোরআন-হাদিস পোড়ানো যাবে কি?
উত্তর:
কুকুরের মুখের লালা বা পায়খানা নাপাক। যদি চুলার ভেতরে কুকুর অপরিষ্কার করে থাকে, তাহলে স্থানটি নাপাক বলে গণ্য হবে। নাপাক স্থানে পবিত্র কাগজ পোড়ানো গুনাহের কাজ।
হুকুম:
- প্রথমে চুলাটি পানি দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করে নিন।
- যদি চুলা মাটির তৈরি হয় এবং দেয়ালে নাপাকি শোষণ করে থাকে, তবে তা ধোয়ার পরও পবিত্র হবে।
- পবিত্র করার পর কোরআনের কাগজ পোড়ানো যাবে, তবে উত্তম হলো অন্য কোনো পবিত্র স্থানে পুঁতে দেওয়া।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার (১/২০০): "নাপাক স্থানে ইবাদতের বস্তু রাখা নাজায়েয।"
সারসংক্ষেপ:
- অন্যের দলিলপত্র ঝেড়ে ও পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করুন; গুনাহ হবে না, বরং সওয়াব।
- পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিন।
- কোরআন-হাদিসের কাগজ পুড়িয়ে ছাই করলে সমস্যা নেই, তবে লেখা থাকলে পুঁতে দেওয়া উত্তম।
- নাপাক চুলায় পোড়ানো যাবে না; আগে পবিত্র করে নিন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।