কালোজাদুর কার্যকারিতা, ক্ষতিকর প্রভাব ও তা থেকে বাঁচার ইসলামি উপায় কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question
কালোজাদু বিষয়ে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। আমার খুব কাছের একজন আশঙ্কা করেছেন যে সে আর তার পরিবারের সদস্যদের ওপর কালোজাদু করা হয়েছে। তাঁর বাড়িতে একটা কাগজ পাওয়া গিয়েছিল। কাগজটাতে এমন কিছু লেখা ছিল, যা সাধারণভাবে বোঝা যায়নি। কেমন যেন অদ্ভুত অক্ষর। কাগজগুলোর সঙ্গে সুতোসদৃশ একটি জিনিসও যুক্ত ছিল। এ ধরণের অদ্ভুত জিনিস দেখে তারা সন্দেহ করে সেটাকে একজন কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কবিরাজ সেটা দেখে তাদেরকে জানান, তাদের ওপর কালোজাদু করা হয়েছে। আমার প্রশ্নগুলো হলো: ১. ইসলামে কালোজাদুর প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে কি কি বলা হয়েছে? এ জাদু কি বাস্তবেই মানুষের ক্ষতি করতে পারে? কুরআন ও সহিহ হাদিস এ বিষয়ে কী বলে? ২. জাদুর কারণে মানুষের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? এটি কি কাউকে ধীরে ধীরে গুরুতর অসুস্থ করে দিতে পারে, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে? এ বিষয়ে ইসলামের নির্ভরযোগ্য দলিল কী? এ ধরণের ঘটনা দ্বারা কি কখনো কারো মৃত্যু হয়েছে? ৩. জাদুর আশঙ্কা থাকলে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত কী কী আমল রয়েছে? ৪. শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করার সঠিক পদ্ধতি কী? কোন দোয়া ও সূরা নিয়মিত পড়া উচিত? ৫. এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভয়, সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে কী করা উচিত? কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এটা থেকে বাঁচার জন্য? অনুগ্রহ করে কুরআন ও সহিহ হাদিসের নির্ভরযোগ্য দলিলসহ বিস্তারিত উত্তর দেবেন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
ভূমিকা
প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। প্রথমেই একটি মূলনীতি স্পষ্ট করা দরকার: ইসলামে জাদুকে অস্বীকার করা যায় না—কুরআন-সুন্নাহ উভয়েই এর অস্তিত্ব ও ক্ষতিকর প্রভাবকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে ইসলাম শিখিয়েছে যে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া জাদু কোনো ক্ষতি করতে পারে না, এবং এর প্রতিকার ও সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো তাওহিদ, দুআ, কুরআন তিলাওয়াত ও শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ। কবিরাজ, গণক, জ্যোতিষী বা অশরিয়তসম্মত পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিচে আপনার পাঁচটি প্রশ্নের ধারাবাহিক উত্তর দেওয়া হলো।
১. ইসলামে কালোজাদুর প্রকৃত কার্যকারিতা ও ক্ষতির ক্ষমতা
কুরআনে জাদুর অস্তিত্ব ও প্রভাব
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ... وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ
"তারা শয়তানদের অনুসরণ করল, যা সুলাইমানের রাজত্বকালে তারা পাঠ করত। সুলাইমান কুফরি করেনি; বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল, তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত... তারা (জাদুকররা) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না।" — (সূরা আল-বাকারা: ১০২)
এই আয়াতের দুটি মূল বিষয়:
- জাদু বাস্তব এবং এর মাধ্যমে ক্ষতি হতে পারে।
- জাদুর ক্ষতি আল্লাহর ইজন/অনুমতি ছাড়া কখনো কার্যকর হয় না। অর্থাৎ জাদু স্বাধীনভাবে ক্ষমতাশালী নয়; আল্লাহর কুদরতের অধীনেই তা কাজ করে।
ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, জাদুকরদের জাদু আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারও ক্ষতি করতে পারে না—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সান্ত্বনা ও তাওহিদের ঘোষণা। (তাফসির ইবনে কাসির, সূরা বাকারা ১০২-এর তাফসির)
সহিহ হাদিসে জাদুর প্রভাব
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের ওপর জাদু হয়েছিলেন—এটি সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ سُحِرَ، فَكَانَ يَرَى أَنَّهُ يَأْتِي النِّسَاءَ وَلَا يَأْتِيهِنَّ...
"রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর জাদু করা হয়েছিল; ফলে তিনি (কখনো) মনে করতেন তিনি স্ত্রীদের কাছে গমন করেছেন, অথচ যাননি..." — (সহিহ বুখারি: ৩১৭৫; সহিহ মুসলিম: ২১৮৯)
এতে প্রমাণ হয়, জাদু বাস্তব এবং তা মানুষের অনুভূতি, উপলব্ধি ও শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাসূল ﷺ-এর ক্ষেত্রে এটি ছিল তাঁর নবুয়তের ওপর কোনো প্রভাব ছাড়াই—শুধু দৈহিক/অনুভূতিগত প্রভাব।
ফিকহি মূল্যায়ন (হানাফি)
আল্লামা ইবনে আবিদিন শামি (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ জাদুর প্রভাব ও হুকুম প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে জাদু বাস্তব, তবে তা আল্লাহর অনুমতিতেই কার্যকর হয়; আর জাদু শিক্ষা করা ও করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল জিহাদ/সিয়ার অধ্যায়ে সিহর প্রসঙ্গ)
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «মাআরিফুল কুরআন»-এ সূরা বাকারা ১০২-এর তাফসিরে বলেন: জাদুর প্রভাব বাস্তব, কিন্তু তা আল্লাহর ইজনের অধীন; আর মুসলিমের জন্য জাদু করা, শেখা বা এর ওপর ভরসা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সারকথা: জাদু বাস্তব ও ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু স্বাধীন ক্ষমতাশালী নয়—আল্লাহর অনুমতিতেই কাজ করে। তাই ভয় আল্লাহকে করা উচিত, জাদুকে নয়।
২. জাদুর কারণে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? মৃত্যুর কারণ হতে পারে কি?
কুরআন-হাদিসে বর্ণিত ক্ষতির ধরন
জাদুর প্রভাবে নিম্নোক্ত ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে কুরআন-হাদিস ও সালাফদের বর্ণনায় পাওয়া যায়:
- শারীরিক অসুস্থতা — রাসূল ﷺ-এর ওপর জাদুর প্রভাব ছিল শারীরিক ও অনুভূতিগত। (বুখারি: ৩১৭৫)
- মন-মস্তিষ্ক ও উপলব্ধিতে প্রভাব — বিভ্রান্তি, সন্দেহ, ভয়।
- দাম্পত্য সম্পর্কে বিচ্ছেদ সৃষ্টি — আল্লাহ বলেন, জাদুকররা এমন জাদু শেখে "যার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়" (সূরা বাকারা: ১০২)।
- রোগ-ব্যাধি ও দুর্বলতা — বিভিন্ন সহিহ বর্ণনায় জাদুর কারণে রোগ হওয়ার কথা এসেছে।
মৃত্যুর কারণ হতে পারে কি?
এ বিষয়ে স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য দলিল হলো: জাদু আল্লাহর অনুমতিতে ক্ষতি করতে পারে, এমনকি কখনো মৃত্যুও ঘটতে পারে—তবে এটি জাদুর স্বাধীন ক্ষমতা নয়, বরং আল্লাহর কুদরত ও অনুমতির অধীন। কুরআনের মূলনীতি (بِإِذْنِ اللَّهِ) এখানেও প্রযোজ্য।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু যে "অমুকের জাদুর কারণেই হয়েছে" তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না—কারণ মৃত্যু আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির। জাদু একটি কারণ (সবাব) হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত কারণ আল্লাহ। তাই কোনো মুসলিমের জন্য এ ধরনের দাবি করা যে "অমুকের জাদুতে অমুক মারা গেছে" —এটি দলিলবিহীন ও বিপজ্জনক, কারণ এটি তাকদির সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে এবং অপরকে দোষারোপের দিকে নিয়ে যায়।
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে: জাদু একটি বাস্তব সবাব (কারণ), কিন্তু সবাবকে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া শিরকের দিকে নিয়ে যায়। মুসলিমের কর্তব্য হলো আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শরিয়তসম্মত প্রতিকার গ্রহণ করা, জাদুকে স্বাধীন শক্তি মনে না করা।
৩. জাদুর আশঙ্কায় নিজে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার আমল
ক) তাওহিদ ও আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল)
সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ। আল্লাহ বলেন:
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
"যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।" — (সূরা আত-তালাক: ৩)
খ) সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও আযকার
রাসূল ﷺ বলেন:
مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ
"যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়বে: 'বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামাই ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম'—তাকে কোনো কিছু ক্ষতি করবে না।" — (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮৮; সুনানে তিরমিজি: ৩৩৮৮ — হাসান সহিহ)
গ) সূরা ফালাক ও সূরা নাস
রাসূল ﷺ বলেন:
مَا تَعَوَّذَ النَّاسُ بِتَعَوُّذٍ مِثْلَ هَاتَيْنِ السُّورَتَيْنِ
"মানুষ কোনো আশ্রয়-প্রার্থনার মাধ্যমে এমন (শক্তিশালী) আশ্রয় পায়নি, যেমন এই দুটি সূরার (ফালাক ও নাস) মাধ্যমে।" — (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৬৩; সুনানে নাসাই: ৫৪৪৮)
ঘ) আয়াতুল কুরসি
রাসূল ﷺ বলেন:
مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ حِينَ يُمْسِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلَا يَقْرَبُهُ شَيْطَانٌ حَتَّى يُصْبِحَ
"যে সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পড়বে, সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং শয়তান তার কাছে আসবে না।" — (সহিহ বুখারি: ২৩১১)
ঙ) সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত
রাসূল ﷺ বলেন:
مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
"যে রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" — (সহিহ বুখারি: ৫০০৯; সহিহ মুসলিম: ৮০৮)
চ) ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত
রাসূল ﷺ বলেন:
لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
"তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না; নিশ্চয়ই যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, শয়তান তা থেকে পালিয়ে যায়।" — (সহিহ মুসলিম: ৭৮০)
ছ) খাওয়া-পানীয় ও ঘুমের দুআ
রাসূল ﷺ খাওয়ার শুরুতে "বিসমিল্লাহ" এবং ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি ও সূরা ইখলাস-ফালাক-নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে মাসাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৫০১৭)
৪. শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর সঠিক পদ্ধতি
রুকইয়াহর শর্ত (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)
আল্লামা ইবনে আবিদিন (রহ.) ও ফুকাহায়ে কেরাম রুকইয়াহর শর্ত উল্লেখ করেছেন:
- তা কুরআন, আল্লাহর নাম বা দুআ দ্বারা হতে হবে।
- আরবি বা অর্থবোধক ভাষায় হতে হবে।
- বিশ্বাস রাখতে হবে যে রুকইয়াহ নিজে কিছু করে না; আল্লাহই শিফা দেন।
(রাদ্দুল মুহতার; ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)
পদ্ধতি
- নিয়ত ও তাওবা: বিশুদ্ধ নিয়তে তাওবা করে শুরু করা; হারাম উপার্জন, গুনাহ ও শিরক থেকে বিরত থাকা।
- নিজের ওপর পড়া: সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার ১০২ আয়াত, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে মাসাহ করা।
- রোগীর ওপর পড়া: রোগীর কপালে হাত রেখে বা পানিতে পড়ে ফুঁ দিয়ে পান করানো—এটি জায়েজ।
- নিয়মিত করা: সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের আগে নিয়মিত করা।
- সরাসরি জাদুকরের কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ: কবিরাজ, গণক, জ্যোতিষী বা অশরিয়তসম্মত পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম।
রাসূল ﷺ বলেন:
مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
"যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করল, তার চল্লিশ রাতের নামাজ কবুল হবে না।" — (সহিহ মুসলিম: ২২৩০)
আর যে গণককে বিশ্বাস করল, তার হুকুম আরও কঠিন:
مَنْ أَتَى عَرَّافًا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ﷺ
"যে ব্যক্তি গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদ ﷺ-এর ওপর যা নাজিল হয়েছে তা অস্বীকার করল।" — (সুনানে আবু দাউদ: ৩৯০৪; সুনানে তিরমিজি: ১৩৫)
তাই কবিরাজের কথা বিশ্বাস করা বা তার দেওয়া তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আপনার বন্ধুর পরিবারের কর্তব্য হলো কবিরাজের কথাকে বিশ্বাস না করা এবং তার দেওয়া কোনো জিনিস গ্রহণ না করা।
নিয়মিত পড়ার সূরা ও দুআ
- সূরা ফাতিহা
- আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫)
- সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত (২৮৫-২৮৬)
- সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের আগে ৩ বার)
- সূরা বাকারা সম্পূর্ণ (সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরে তিলাওয়াত)
- দুআ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ... এবং **أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ
আল্লাহ ভালো জানেন।