সিজারিয়ান অপারেশনের আগে অতিরিক্ত ভয় ও দুশ্চিন্তা হলে কী করবো?

Family Life · Hanafi

Question No: 7786
Questioner: Mohua Akter
Question Asked: 02 Nov 2026, 11:44 AM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 12:15 PM
Views: 13
Tokens: 4,333
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!
আমার প্রথম বেবি হয়েছে সিজারে ৪ বছর আগে। এখন আরেকটা বেবি সিজারে হবে ২ মাস পর। কিন্তু আমার অনেক বেশি ভয় লাগছে। কিন্তু ভয় লাগলেও আমি নামাজ পড়তে একদম আগ্রহ পাচ্ছি না..দুয়া ও করছি না। যিকির ও করছি না। সারাক্ষণ অস্হির লাগে। আর প্রেশার আপ ডাওন করে। আমার ডাক্তার রা তেমন কোন ভরসার কথা বলছে না। মানে ওরা যা যা বলছে, সেটা তে আমার আস্থা আসছে না।।অনেক বেশি ভয় পাচ্ছি। অস্বাভাবিক রকমের। আমি কি মারা যাব? এরকম চিন্তা হচ্ছে। এখন আমার কি করা উচিত?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার অবস্থা বুঝতে পারছি। আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট দূর করুন এবং আপনার ও আপনার সন্তানের হেফাজত করুন। আমিন।

আপনার প্রশ্নের উত্তর কয়েকটি অংশে দিচ্ছি:


১. ভয় ও দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক, কিন্তু আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ "আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউ নিরাশ হয় না।" (সূরা ইউসুফ: ৮৭)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।" (সূরা ইনশিরাহ: ৫-৬)


২. নামাজ, দুআ ও যিকির ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় — বরং এগুলোই আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার

আপনি লিখেছেন ভয়ের কারণে নামাজে আগ্রহ পাচ্ছেন না, দুআ-যিকির করছেন না। বোন, এটা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। শয়তান চায় আপনি আল্লাহ থেকে দূরে সরে যান। বিপদের সময় আল্লাহর দিকেই ফিরে যাওয়া উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ "যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (বলো) আমি নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে।" (সূরা বাকারা: ১৮৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ "দুআই হলো ইবাদত।" (তিরমিজি: ৩৩৭২)

বিশেষভাবে পড়ুন:

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করুন — এটাই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
  • আয়াতুল কুরসি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পড়ুন।
  • সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিন এবং শরীরে বুলিয়ে নিন।
  • "حَسْبِيَ اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ" (হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল) বেশি বেশি পড়ুন।
  • "لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ" পড়ুন।
  • "اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ..." — দুশ্চিন্তা ও ভয় থেকে মুক্তির দুআ বেশি পড়ুন। (বুখারি: ৬৩৬৯)

৩. চিকিৎসা ও ডাক্তারের বিষয়ে

  • ইসলামে চিকিৎসা করানো সুন্নত ও বৈধ। ডাক্তারের পরামর্শ মানুন, তবে চূড়ান্ত ভরসা আল্লাহর উপর রাখুন। ডাক্তার শুধু মাধ্যম।
  • আপনার যদি অতিরিক্ত ভয়, প্রেশার, ঘুম না হওয়া, অস্বস্তি থাকে — তবে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলর-এর সাথে কথা বলুন। এটা দুর্বলতা নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়া।
  • আপনার প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত চেকআপ নিয়মিত করুন, প্রেশার মনিটর করুন।
  • ডাক্তারদের কথায় আস্থা না আসলে অন্য একজন বিশ্বস্ত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন — এতে দোষ নেই।

৪. ভয়ের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দুআ

রাসূলুল্লাহ ﷺ ভয়ের সময় বলতেন:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ (বুখারি: ৬৩৪৫, মুসলিম: ২৭৩০)

এবং:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْهَرَمِ... "হে আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা ও বার্ধক্যের দুর্বলতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।" (বুখারি: ৬৩৬৫)


৫. একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা

আপনি জিজ্ঞেস করেছেন "আমি কি মারা যাব?" — বোন, মৃত্যুর সময় আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, তা আগে-পরে হবে না। কিন্তু ভয়ে থাকলে জীবনও বিষময় হয়ে যায়। তাই আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন, দুআ করুন, চিকিৎসা নিন, এবং নিজের যত্ন নিন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ "যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা তালাক: ৩)


সংক্ষেপে করণীয়

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ুন — ভয় লাগলেও ছাড়বেন না। ২. আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক-নাস, সূরা ফাতিহা পড়ে নিজের উপর ফুঁ দিন। ৩. দুআ ও যিকির বাড়িয়ে দিন — বিশেষত "হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল"। ৪. একজন বিশ্বস্ত ডাক্তার/কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। ৫. প্রেশার ও স্বাস্থ্য নিয়মিত মনিটর করুন। ৬. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না — তিনি আপনার সাথে আছেন।

আল্লাহ তাআলা আপনার ভয় দূর করুন, আপনার সিজারিয়ান সফল করুন, আপনার ও আপনার সন্তানের হেফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.