স্বামীর সাথে তিন মাস যোগাযোগ নেই, মানসিক নির্যাতন ও নাফকা না পাওয়ার অবস্থায় একজন স্ত্রীর করণীয় কী?

Family Life · Hanafi

Question No: 7771
Questioner: Amatullah
Question Asked: 02 Nov 2026, 06:39 AM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 08:33 AM
Views: 14
Tokens: 21,260
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বিয়ের প্রায় এগারো মাস পূর্ণ হলো। বিগত তিন মাস হলো আমার হাসবেন্ডের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ না থাকার কারণগুলো সম্পর্কেই লিখছি। প্রথমত বিয়ের পর থেকেই তার সাথে আমার অনেক বিষয়ই মিল ছিল না। এর কারণ হলো আমাদের পরিবার। দুজনের পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। আমাদের রীতিনীতি, সংস্কৃতি, জেলা সবকিছুই আলাদা। বিয়ের শুরু থেকেই তাদের বিভিন্ন রকম নিয়মকানুন যা আমাদের কাছে অজানা ছিল। তা নিয়ে তারা আমাদের সাথে অভিমান করত এবং পরোক্ষভাবে আমাকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করত। যেমন ওদের বাসায় নিয়ম ঈদের দাওয়াত মেয়ের বাবাকে বাড়িতে, মানে তাদের বাড়িতে গিয়ে দিতে হবে। আমার বাবা ফোনে ঈদের দাওয়াত দেওয়াতে তারা আমার সাথে খারাপ আচরণ করে,তাদের বাসায় আমার যাওয়া মানা করে দেয়। আমার স্বামী ছাত্র। তার কোনো টাকা পয়সা না থাকায় সেও আমার পক্ষ হয়ে তেমন কোনো কিছু করতে পারে না। সে কারণে সেও বেশ মানসিক যন্ত্রণায় থাকে বেশিরভাগ সময়। আমাকে সাপোর্ট করতে পারে না। এছাড়াও বিয়ে হওয়া থেকেই তার কাছে আমার ননদ, শাশুড়ি বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করত। আমার পরিবার নিয়ে, আমাকে নিয়ে, আমার চেহারা নিয়ে, বা আমার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করত। এতে সে অনেক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকত অধিকাংশ সময়। এবং এসব কিছুর রাগ সে আমাকে এসে দেখাতো,আমাদের ঝগড়া ঝামেলা লেগেই ছিল। এমনিতেও সে বেশ রগচটা স্বভাবের, খুব অল্প বিষয়ে ও আমার সাথে অনেক বেশি রাগারাগি করে। এসব কারণে আমারও অধিকাংশ সময় খুব মানসিক প্রেসারে থাকতে হয়। এখানে জানিয়ে রাখা ভালো হবে আমাদের ফ্যামিলি থেকে বিয়েটা করিয়ে রাখা হলেও আমরা একসাথে থাকতাম না কারণ আমরা দুজনে ভার্সিটিতে পড়াশোনা করছি। দুজনেই হলে থাকি। হলে থেকে পড়াশোনা করি, চাকরির প্রিপারেশন নেওয়া হচ্ছে। বাসা থেকে বলা আছে চাকরি না হওয়া পর্যন্ত যাতে আমরা একসাথে না থাকি। তবুও সুযোগ হলে আমি ওর বাসায় গিয়ে কিছুদিন থেকে আসতাম বা ও আমার বাসায় আসত। এমনটাই চলছিল। যেমন ঈদে বা অন্য কোনো ছুটির সময় আমি ওদের বাসায় গিয়ে থাকতাম। ছোট থেকে লেখাপড়ার মধ্যে ব্যস্ত থাকার কারণে বাড়ির কাজকর্ম আমার সেভাবে শিখে ওঠা হয়নি। কিন্তু আমি চেষ্টা করছিলাম যাতে তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে পারি। কিন্তু আমি যতই চেষ্টা করি হয়তো তাদের মন ভরাতে পারছিলাম না। যে মেয়ে কখনো রান্না করতে পারত না, সে এ বাড়িতে এসে একজন আদর্শ বউ হিসেবে তিন বেলায় রান্না করে। স্ত্রী হিসেবে যেসব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব তার সবটাই চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি যতই চেষ্টা করি, কেউ সন্তুষ্ট হয়নি। এসব নিয়ে প্রায়শই আমাকে খুব মানসিক অশান্তিতে থাকতে হয়। আমাকে আমার চলাফেরার জন্য আমার হাত খরচ আমার বাবাই দেন এখনো। আমার শ্বশুর বা আমার স্বামীর পক্ষ থেকে আমি কোনো সাপোর্ট পাইনি ফাইন্যান্সিয়ালি। তাদের অবস্থা আর্থিক ভাবে খুব বেশি ভালো না হওয়ায়, বাসায় সু্যোগ সুবিধাও কম থাকায়, আমাকে এ বাসায় এসে বেশ কষ্ট সহ্য করেই থাকতে হচ্ছিল। সবকিছু মিলিয়ে আমি সবসময় অনেক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকি। কিন্তু এই বিষয়টা আমার স্বামী কখনো বোঝে না, আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কখনো বোঝে না। বরঞ্চ আরো বেশি প্রেসার দেওয়ার মতো কথাবার্তা আর আচরণ আমার সাথে করে যায়। কথায় কথায় তারা প্রত্যেকে মান অভিমান করে থাকে, রাগ করে। তাদের রাগ ভাঙতে ভাঙতে আমার মানসিক অবস্থা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গিয়েছে। লাস্ট তিন মাস আগে আমার শ্বশুর হার্ট অ্যাটাক করে। এই সময়ে আমি পনেরো দিন টানা ওদের বাসায় থাকি। সেসময় আমার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। আমি ভেবেছিলাম তারা বিষয়টি হয়তো বুঝবে। কিন্তু আমার পড়ালেখার বিষয়টি তারা কনসিডার করে নাই। বরঞ্চ ওই কয়েকটা দিন বাসায় শাশুড়ি,ননদ,নানী শাশুড়ি থাকা সত্ত্বেও আমাকে আরো বেশি কাজের প্রেসার দেওয়া হয়। এবং আমার হাসবেন্ড এমন অবস্থাতেও একটা খুবই তুচ্ছ বিষয়ে আমার সাথে কথা বন্ধ করে দেয়। সবকিছু মিলিয়ে আমি মানসিকভাবে এতটা ভেঙে পড়ি, এমন অবস্থায় জানতে পারি আমার শ্বশুররা তিন ভাই। তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাইয়েরই চরিত্র ভালো না। আমার ছোট চাচা শ্বশুর, উনার যখন যাকে ভালো লাগে তার সাথে সম্পর্ক করে এবং বিয়ে করে আনে। আর আমার শ্বশুরেরও যৌন রোগজনিত সমস্যা আছে। এই বিষয়টা যখন আমি জানতে পারি, তারপর থেকে আমি আরো বেশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এই অবস্থাতেও আমার হাজবেন্ড আমার সাথে কথা বন্ধ রাখে। এদিকে কাজের প্রেসার, এদিকে পরীক্ষার প্রেসার সবকিছু মিলিয়ে আমাকে সাপোর্ট করার কেউ ছিল না। এমন সময় আমার ননদ অনবরত আমার হাজবেন্ড কে আমার ব্যাপারে গাল মন্দ বলার কোনো সুযোগ হাত ছাড়া করেন না। উনি সুযোগ পেলেই আমাকে নিয়ে বানানো বা না বানানো বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করে, যা আমাদের সম্পর্ককে আরো খারাপ করে দেয়। শেষ দিন এমনটাই ঘটে। সে একটি কথা আমার হাজবেন্ডকে বলে যেটা আসলে আমি করিনি। আর আমার হাজবেন্ডও সেটার কোনো বিচার আচার কিছু না করেই আমার সাথে অনেক বাজে ব্যবহার করে। তখন আমি অনেক রাগারাগি করি। আমার দ্বারা আর সম্ভব না ভেবে আমি ওখান থেকে পরীক্ষার অছিলা দিয়ে চলে আসি। কিন্তু ওখান থেকে আসার পর আমি তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা আমার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। তাদের অভি্যোগ তাদের খারাপ সময়ে আমি পাশে থাকিনি, এরপর আমিও ভাবি হয়তো সেখানে আমার আর সম্ভব না। এভাবে প্রায় তিন মাস কেটে যাওয়ার পর, আমার মনে হয় এত দ্রুত হয়তো আমার হার মানাটা ঠিক হলো না। এই অবস্থায় আমি ইস্তেখারা নামাজ পড়ি, দোয়া দুরুদ পড়ছি। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছি না। এক সপ্তাহ আগে আমার বাবা আমার হাজবেন্ডকে ফোন দেয়। দিয়ে বলে তুমি কি চাচ্ছো জানাও। সে আমার বাবাকে বলে যে আমার সাথে কথা বলে জানাবে। কিন্তু এক সপ্তাহ হয়ে গেছে, তাদের দিক থেকে এখন পর্যন্ত আমার হাজবেন্ড বা আমার শ্বশুরবাড়ির কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। এই অবস্থায় আমার কি করা উচিত? আমি তা বুঝে উঠতে পারছি না। আমার নিজেরও এই সম্পর্কের প্রতি কোনো আত্মবিশ্বাস আসছে না। এদিকে জানিয়ে রাখা ভালো হবে, যেহেতু আমার স্বামী অনেক রগচটা স্বভাবের, রেগে গেলে আমার দিকে জিনিস ছুঁড়ে মারার মতো অভ্যাস আছে। আর তার চরিত্র নিয়েও আমি আত্মবিশ্বাসী নই। এমন কিছু অতীতের বিষয় ও আমার কাছে ধরা পড়েছে। সাথে তার পরিবারের এমন চরিত্রগত সমস্যাও আমাকে ভাবাচ্ছে।৷ এখন আমার কি করা উচিত আমি বুঝে উঠতে পারছি না। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি সহজে এখান থেকে চলেও আসতে পারছি না। আবার ওখানে থেকে যাওয়াও আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ ও কষ্টময় প্রশ্নটি পড়ে বুঝতে পারছি আপনি কঠিন মানসিক চাপের মধ্যে আছেন। আল্লাহ তাআলা আপনার সব কষ্ট দূর করুন এবং আপনার জন্য সর্বোত্তম ফয়সালা দিন। আমিন।

প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার: আপনার প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাগুলো মূলত পারিবারিক ও মানসিক কষ্টের বিবরণ। এখানে শরীয়তের দৃষ্টিতে কয়েকটি দিক আছে—(১) স্বামীর সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ, (২) নাফকা (ভরণপোষণ), (৩) শারীরিক নিরাপত্তা, (৪) ইস্তেখারা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। নিচে কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে আলোচনা করছি।


১. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও যোগাযোগ

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।" (তিরমিজি: ৩৮৯৫)

আপনার স্বামী তিন মাস কথা বন্ধ রাখা, রাগের সময় জিনিস ছুঁড়ে মারা—এসব ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। রাগ নিয়ন্ত্রণ করা ঈমানের অংশ। রাসূল ﷺ বলেছেন:

لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ "শক্তিশালী সেই নয় যে কুস্তিতে জেতে; বরং শক্তিশালী সেই, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।" (বুখারি: ৬১১৪)

তবে আপনার ওপরও দায়িত্ব আছে—সর্বোচ্চ ধৈর্য ও হিকমতের সাথে সমাধানের চেষ্টা করা। আল্লাহ বলেন:

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا "যদি তোমরা তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তবে তার পরিবার থেকে একজন এবং তার (স্ত্রীর) পরিবার থেকে একজন মধ্যস্থতাকারী পাঠাও।" (সূরা নিসা: ৩৫)

এখানে করণীয়: আপনার বাবা ইতিমধ্যে ফোন করেছেন—এটি ভালো উদ্যোগ। এখন উভয় পরিবারের সম্মানিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বৈঠক হওয়া উচিত (হাকাম/মধ্যস্থতাকারী পদ্ধতি)। আপনি সরাসরি একা একা সিদ্ধান্তে না গিয়ে পরিবারের বড়দের মাধ্যমে কথা বলুন।


২. নাফকা (ভরণপোষণ) প্রসঙ্গে

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, স্বামীর ওপর স্ত্রীর নাফকা (খাবার, বাসস্থান, পোশাক) ওয়াজিব—যদি শরীয়তসম্মতভাবে বিবাহ বহাল থাকে এবং স্ত্রী স্বামীর কাছে থাকতে রাজি থাকে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নাফকা ওয়াজিব হওয়ার জন্য স্বামীর সামর্থ্য থাকা শর্ত।

আপনি লিখেছেন আপনার হাতখরচ আপনার বাবা দেন। এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে আদর্শ নয়—স্বামীর সামর্থ্য থাকলে তারই দেওয়া উচিত। তবে যেহেতু তিনি ছাত্র ও আর্থিকভাবে দুর্বল, সেহেতু বর্তমানে বাবার সহায়তা নেওয়াতে গুনাহ নেই, তবে স্বামী সামর্থ্যবান হলে ভবিষ্যতে তার দায়িত্ব নিতে হবে।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৩, নাফকার অধ্যায়; আল-হিদায়া, কিতাবুন নাফাকা।


৩. শারীরিক নিরাপত্তা ও ভয়

স্বামী রাগের সময় জিনিস ছুঁড়ে মারে—এটি শরীয়তসম্মত নয় এবং এটি নির্যাতনের শামিল হতে পারে। ইসলামে স্ত্রীর ওপর কোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন নিষিদ্ধ। রাসূল ﷺ কখনো কোনো স্ত্রী বা খাদিমকে মারেননি (সহিহ মুসলিম)।

তবে তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই ধৈর্য, ইস্তেখারা, এবং উভয় পরিবারের মধ্যস্থতা—এই তিনটি ধাপ শেষ করা উচিত। হঠাৎ আবেগে তালাক চাওয়া বা সম্পর্ক ছিন্ন করা ঠিক নয়।


৪. ইস্তেখারা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

আপনি ইস্তেখারা পড়ছেন—এটি খুব ভালো কাজ। ইস্তেখারার পরও যদি কোনো দিক স্পষ্ট না হয়, তবে:

  • ইস্তেখারা চালিয়ে যান (কমপক্ষে ৭ দিন বা ৪০ দিন পর্যন্ত)।
  • ইস্তিশারা (পরামর্শ) করুন—বিশ্বস্ত আলেম, বুদ্ধিমান পরিবারের সদস্য, বা অভিজ্ঞ কারও সাথে।
  • শরীয়তের সীমা মেনে সিদ্ধান্ত নিন—অর্থাৎ যদি স্বামী তালাক দেয় বা আপনি খুলআ চান, তা শরীয়তসম্মত পন্থায় হতে হবে।

খুলআ প্রসঙ্গে: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, স্ত্রী স্বামীর সম্মতি ছাড়া সরাসরি খুলআ করতে পারে না; তবে কাজি/আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ চাওয়া যেতে পারে যদি স্বামী নাফকা না দেয় বা নির্যাতন করে। রাদ্দুল মুহতার ও ফাতাওয়া আলমগিরি-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আছে।


৫. আপনার করণীয়—ধাপে ধাপে

  1. ধৈর্য ধরুন ও দোয়া চালিয়ে যান। আল্লাহ বলেন: "হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।" (সূরা বাকারা: ১৫৩)
  2. পরিবারের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন। আপনার বাবা যেহেতু ফোন করেছেন, এখন উভয় পরিবারের সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করুন। সরাসরি একা একা সিদ্ধান্ত নেবেন না।
  3. স্বামীর সাথে একান্তে কথা বলার সুযোগ চান—কিন্তু নিরাপদ পরিবেশে, পরিবারের উপস্থিতিতে। তার মনোভাব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নাফকার দায়িত্ব—এসব স্পষ্টভাবে জানুন।
  4. শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। যদি স্বামী জিনিস ছুঁড়ে মারার অভ্যাস রাখে, তাহলে একা তার কাছে যাবেন না।
  5. ইস্তেখারা ও ইস্তিশারা চালিয়ে যান। সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগলে তা স্বাভাবিক।

৬. একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

আপনি আপনার শ্বশুরের ব্যক্তিগত রোগ ও পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে কারও ব্যক্তিগত দোষ প্রকাশ করা (গীবত) নিষিদ্ধ। এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে না লিখে শুধু বিশ্বস্ত পরামর্শদাতার সাথে আলোচনা করুন। আল্লাহ বলেন:

وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا "তোমরা একে অপরের গীবত করো না।" (সূরা হুজুরাত: ১২)


সারসংক্ষেপ

আপনার বর্তমান অবস্থায় হঠাৎ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (তালাক/বিচ্ছেদ) নেওয়া উচিত নয়। প্রথমে উভয় পরিবারের মধ্যস্থতায় একটি বৈঠক হোক, স্বামীর মনোভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট হোক, নাফকা ও নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত হোক। এরপরও যদি স্বামী যোগাযোগ না করে, দায়িত্ব না নেয়, এবং নির্যাতন চলতে থাকে—তাহলে শরীয়তসম্মত পন্থায় (পরিবার ও আলেমের পরামর্শে) পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। ইস্তেখারা ও দোয়া চালিয়ে যান, আল্লাহই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।

আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট দূর করুন, আপনার অন্তরকে শান্তি দিন এবং আপনার জন্য কল্যাণকর ফয়সালা করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.