হরাম মূলধন দ্বারা ব্যবস্যা করার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই? এবং বিবিধ মাসাঈল সম্পর্কে প্রশ্ন?
Faith and Belief · Hanafi
Question
২- কেউ যদি হারাম টাকায় কোন হালাল ব্যবসা শুরু করে এতে সে ব্যবসা কি হালাল হবে ? এবং সে ব্যবসায় সহযোগিতা করা , সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা জায়েজ হবে ?
৩- সহশিক্ষা নাজায়েজ ,মেয়েরা ফ্রি মিক্সিং এ চাকরি করা নাজায়েজ এগুলো যদি কেউ অস্বীকার করে তাহলে কি তার ঈমান চলে যাবে ?
৪ - অনেক রোমান্টিক প্রেমের শায়েরি বা কবিতা আছে যেগুলো নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা নেই এবং সেগুলো অশ্লীল নয় , সেখানে কুফরি কথা নেই এমন কবিতা পড়া ,লেখা , প্রচার করা জায়েজ হবে কি?
৫-আল্লাহর নাম , কুরআনের আয়াত,দুয়া দিয়ে তাবিয বানানো তো জায়েজ । কেউ যদি রুকিয়াহতে বিশ্বাস রাখে কিন্তু এই জায়েজ তাবিযে বিশ্বাস না রাখে এতে কি তার ঈমানের কোন ক্ষতি হবে বা গুনাহ হবে ?
৬- বৌদ্ধদের একটি ধর্মীয় বিশ্বাসকে কার্মা বলা হয় । কিন্তু সামাজিক সার্বজনীনভাবে ' যেমন কর্ম তেমন ফল ' এই বাক্যটিকে কার্মা বলা হয় এটা সমর্থন করলে কি ঈমানের কোন ক্ষতি হবে ? আয়াতেও আছে " যে যা করবে সে তা দেখবে " এমন কিছু
৭ - কোন নারীর তালাকের পর শ্বশুর ও সৎ ছেলে কি মাহরাম থাকে ? এবং প্রাক্তন স্বামী যদি নতুন কাউকে বিয়ে করে সে নতুন বিয়ে থেকে জন্মানো প্রাক্তন স্বামীর ছেলে কি মাহরাম থাকবে ?
৮- জন্মদিন উপলক্ষ্যে পাওয়া উপহার টাকা কি ব্যবহার করা জায়েজ হবে ? যা আগে পেয়েছিলাম সে জিনিসগুলো ব্যবহার জায়েজ হবে ?
যদি এমন হয় ফিরিয়ে দিতে না পারা যায় তাহলে কি জায়েজ হবে?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক উত্তর দেওয়া হলো। প্রতিটি উত্তরে হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবের বরাত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
১) হারামের পরিমাপ ও ক্ষমাযোগ্যতা
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি ("সাধারণত কোন মাল অল্প হারাম থেকে মুক্ত নয়") মূলত একটি সতর্কতামূলক বক্তব্য — এর অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ হারাম মিশ্রিত থাকলে তা হালাল হয়ে যায়। বরং শরীয়তের মূলনীতি হলো:
মূলনীতি: যে বস্তু নিজেই হারাম (যেমন মদ, শূকরের মাংস, ঘুষ, সুদ, চুরি বা হারাম উপার্জনের মাল), তা অল্প হোক বা বেশি হোক — উভয়ই হারাম। এখানে "অল্প-বেশি"র কোনো ছাড় নেই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ» — "প্রত্যেক নেশাদায়ক বস্তু হারাম।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২০০৩)
এবং: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ» — "সুদ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ের প্রতি আল্লাহর লানত।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১৫৯৮)
তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে — যা "ক্ষমাযোগ্য" হিসেবে বিবেচিত: যদি হারাম বস্তু কোনো হালাল বস্তুর মধ্যে এত কম পরিমাণে মিশে যায় যে তা দৃশ্যত ও স্বাদে-গন্ধে অনুভব করা যায় না এবং মিশ্রণের কারণে হালাল বস্তুর কোনো বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয় না — তখন ফকিহগণ একে "মা লা ইউবালু বিহি" (যা গ্রাহ্য নয়) শ্রেণিতে ফেলেন। যেমন: পানিতে অতি অল্প পরিমাণ নাপাকি মিশে গেলে পানি নাপাক হয় না (যদি রং-স্বাদ-গন্ধ না বদলায়)।
ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন: «وَالْمَاءُ إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ وَلَمْ تَتَغَيَّرْ أَحَدُ أَوْصَافِهِ فَهُوَ طَاهِرٌ» — "পানিতে নাপাকি পড়লে যদি তার কোনো গুণ (রং, স্বাদ, গন্ধ) না বদলায় তবে তা পবিত্র।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/১৯০)
কিন্তু এটা হারাম উপার্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। হারাম টাকা বা হারাম মালের ক্ষেত্রে কোনো "শতাংশ" বা "পরিমাপ" নেই যা ক্ষমাযোগ্য হবে। হ্যাঁ, যদি কেউ নিজের অজান্তে বা অনিচ্ছায় হারাম মালে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা জানতে পারে, তবে তাকে তাওবা করতে হবে এবং যতটা সম্ভব হারাম অংশ বের করে দান করতে হবে।
সারকথা: হারামের কোনো "ক্ষমাযোগ্য পরিমাপ" নেই। অল্প হারামও হারাম। তবে অজান্তে মিশে যাওয়া অতি সূক্ষ্ম অশুদ্ধতা যা অনুভব করা যায় না — তা গ্রাহ্য নয়।
২) হারাম টাকায় হালাল ব্যবসা শুরু করা
উত্তর: হারাম টাকা দিয়ে হালাল ব্যবসা শুরু করলে সে ব্যবসা হালাল হবে না — যতক্ষণ না হারাম টাকা বের করে দেওয়া হয়।
কারণ: ব্যবসার মূলধন যদি হারাম হয়, তবে ব্যবসার মুনাফাও হারামের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। হানাফি ফিকহে এটি স্পষ্ট:
ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন: «وَلَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَأْكُلَ مَالَ غَيْرِهِ بِغَيْرِ رِضَاهُ» — "কারো সম্পদ অন্যের অনুমতি ছাড়া ভোগ করা হালাল নয়।" (রাদ্দুল মুহতার, ৫/২৭৪)
তবে সমাধান রয়েছে: যদি কেউ হারাম টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে, তবে তাকে প্রথমে সেই হারাম টাকা আসল মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে (যদি মালিক জানা থাকে) অথবা দান করে দিতে হবে (যদি মালিক অজানা থাকে), তারপর হালাল মূলধন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। তখন ব্যবসা হালাল হবে।
সহযোগিতা ও চাকরির বিষয়ে:
- যদি ব্যবসাটি পুরোপুরি হারাম (যেমন মদ বিক্রি, সুদী লেনদেন, জুয়া) হয় — তবে তাতে সহযোগিতা করা, চাকরি করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।
- যদি ব্যবসাটি মূলত হালাল হয় কিন্তু মূলধনে হারাম টাকা মিশ্রিত থাকে — তবে সরাসরি সহযোগিতা করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না হারাম অংশ বের করা হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: «وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ» — "পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ» — তবে হারাম কাজে সহযোগিতা এর বিপরীত।
সারকথা: হারাম টাকা বের করে দিলে ব্যবসা হালাল হবে; না দিলে ব্যবসা ও তাতে চাকরি — উভয়ই জায়েজ হবে না।
৩) সহশিক্ষা ও ফ্রি মিক্সিং নাজায়েজ — অস্বীকার করলে ঈমান যাবে কি?
উত্তর: এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে:
ক. যে বিষয়টি কুরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত (যেমন: পর্দা ফরজ, নামাজ ফরজ, সুদ হারাম) — তা অস্বীকার করা কুফরি, ঈমান চলে যাবে।
খ. যে বিষয়টি ইজতেহাদি বা ফিকহি মাসআলা (যেমন: সহশিক্ষা নাজায়েজ হওয়া, ফ্রি মিক্সিংয়ে চাকরি নাজায়েজ হওয়া) — এটি সরাসরি আকিদার বিষয় নয়, বরং ফিকহি বিধান। কেউ যদি দলিল-প্রমাণসহ ভিন্ন মত পোষণ করে বা ভুলবশত অস্বীকার করে — তবে তার ঈমান চলে যাবে না, তবে সে গুনাহগার হবে।
ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন: «الْإِنْكَارُ إِنَّمَا يَكُونُ كُفْرًا فِيمَا عُلِمَ مِنَ الدِّينِ بِالضَّرُورَةِ» — "অস্বীকার কুফর হয় কেবল সেই বিষয়ে যা দ্বীনের অকাট্য জ্ঞাত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।" (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২২০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
তবে সতর্কতা: সহশিক্ষা ও ফ্রি মিক্সিংয়ের যে বিধান শরীয়তে রয়েছে (পর্দা, খালওয়া, দৃষ্টি সংযত রাখা) — তা কুরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশ। কেউ যদি এসব মূল নির্দেশকে অস্বীকার করে (যেমন পর্দা ফরজ নয় বলে), তবে তা কুফরি। কিন্তু এর প্রয়োগগত ফিকহি রায় (সহশিক্ষা নাজায়েজ) অস্বীকার করলে ঈমান যায় না, গুনাহ হয়।
সারকথা: ফিকহি মাসআলা অস্বীকার করলে ঈমান যায় না, তবে গুনাহ হয়; আর কুরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট বিধান অস্বীকার করলে ঈমান যায়।
৪) রোমান্টিক প্রেমের শায়েরি/কবিতা পড়া, লেখা, প্রচার
উত্তর: শর্তসাপেক্ষে জায়েজ হতে পারে। শর্তগুলো হলো:
১. অশ্লীলতা ও অশ্লীল ইঙ্গিত না থাকা — যেমন যৌন ইঙ্গিত, অশ্লীল বর্ণনা, বেহায়াপনা। ২. কুফরি বা শরীয়তবিরোধী কথা না থাকা — যেমন আল্লাহ বা রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা, হারামকে হালাল বলা। ৩. নির্দিষ্ট কোনো নারী/পুরুষকে উদ্দেশ্য করে না লেখা — যা প্রশ্নে উল্লেখ আছে। ৪. ইসলামি আকিদা ও আদবের পরিপন্থী না হওয়া — যেমন বৈধ প্রেমের (যা ইসলামে নিষিদ্ধ) প্রশংসা করা। ৫. পাঠক/শ্রোতার মধ্যে হারাম আবেগ সৃষ্টি না করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন: «وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا» — "ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।" (সূরা ইসরা: ৩২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ» — "লজ্জা ঈমানের অংশ।" (সহীহ বুখারি, হাদিস ২৪)
সারকথা: যদি কবিতাগুলো অশ্লীল না হয়, কুফরি না থাকে, নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে না লেখা হয় এবং শরীয়তবিরোধী আবেগ সৃষ্টি না করে — তবে পড়া, লেখা ও প্রচার করা জায়েজ। তবে সতর্কতা: "রোমান্টিক প্রেম" শব্দটি ইসলামে নিষিদ্ধ প্রেমের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে; তাই বিষয়বস্তু যাচাই করা জরুরি।
৫) জায়েজ তাবিজে বিশ্বাস না রাখা
উত্তর: এখানে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:
ক. রুকিয়াহ (কুরআন-দুয়া দিয়ে ঝাড়ফুঁক) — এটি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং জায়েজ। এতে বিশ্বাস রাখা ঈমানের অংশ নয়, বরং এটি একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। কেউ বিশ্বাস না করলে ঈমানের ক্ষতি হবে না, তবে সুন্নাহর একটি কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে।
খ. জায়েজ তাবিজ (আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত, দুয়া দিয়ে) — এটি হানাফি ফিকহে জায়েজ, তবে শর্তসহ (যেমন: তাবিজে কুফরি বা অশ্লীল কথা না থাকা, আল্লাহর কালামকে অপমান না করা)।
ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন: «التَّعْوِيذُ بِالْقُرْآنِ وَالْأَسْمَاءِ الطَّيِّبَةِ جَائِزٌ» — "কুরআন ও পবিত্র নামসমূহ দ্বারা তাবিজ বানানো জায়েজ।" (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৩)
ঈমানের ক্ষতি হবে কি? — না, ঈমানের ক্ষতি হবে না। কারণ তাবিজ বা রুকিয়াহতে বিশ্বাস রাখা বা না রাখা আকিদার মূল বিষয় নয়; এটি একটি মুস্তাহাব/জায়েজ আমল। কেউ এটি না করলে বা এতে বিশ্বাস না রাখলে সে গুনাহগার হবে না, তবে একটি সুন্নাহ ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে।
তবে সতর্কতা: যদি কেউ তাবিজকে আল্লাহর সমকক্ষ বা স্বতন্ত্র ক্ষমতাধর মনে করে — তবে তা শিরক হবে। কিন্তু শুধু "বিশ্বাস না রাখা" কুফরি বা ঈমানহানি নয়।
সারকথা: জায়েজ তাবিজে বিশ্বাস না রাখলে ঈমানের ক্ষতি হবে না, গুনাহও হবে না; তবে সুন্নাহর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে।
৬) "যেমন কর্ম তেমন ফল" — কার্মা সমর্থন করা
উত্তর: এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে:
ক. ইসলামি দৃষ্টিকোণ: "যেমন কর্ম তেমন ফল" — এই মূলনীতি ইসলামে সত্য। কুরআনে আল্লাহ বলেন:
«فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ» — "যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ সৎকর্ম করবে, সে তা দেখবে; আর যে অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করবে, সে তাও দেখবে।" (সূরা যিলযাল: ৭-৮)
«وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ» — "তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নন।" (সূরা ফুসসিলাত: ৪৬)
খ. "কার্মা" শব্দটি: বৌদ্ধধর্মে "কার্মা" একটি ধর্মীয় বিশ্বাস — যা পুনর্জন্ম ও কর্মফলের চক্রের সাথে সম্পৃক্ত। এই বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করা কুফরি — কারণ এটি ইসলামি আকিদার (আল্লাহর একত্ব, আখিরাত, পুনরুত্থান) পরিপন্থী।
গ. কিন্তু "যেমন কর্ম তেমন ফল" বাক্যটিকে সামাজিকভাবে ব্যবহার করা: যদি কেউ শুধু এই বাক্যটি বলে এবং এর অর্থ আল্লাহর ইনসাফ ও বিচার — তাহলে তা জায়েজ। কিন্তু যদি "কার্মা" শব্দটি ব্যবহার করে বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস বোঝায় (পুনর্জন্ম, কর্মচক্র) — তাহলে তা কুফরি।
ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন: «مَنْ قَالَ قَوْلًا يَقْتَضِي الْكُفْرَ وَلَمْ يَعْتَقِدْهُ لَا يَكْفُرُ» — "যে ব্যক্তি কুফরি অর্থবোধক কথা বলে কিন্তু তা বিশ্বাস করে না, সে কাফির হয় না।" (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২২৪-এর আলোচনা)
সারকথা: "যেমন কর্ম তেমন ফল" — ইসলামি অর্থে সমর্থন করা জায়েজ; কিন্তু "কার্মা" শব্দটি বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে সমর্থন করা কুফরি। শব্দটি এড়িয়ে চলাই উত্তম।
৭. তালাকের পর শ্বশুর, সৎ ছেলে এবং প্রাক্তন স্বামীর নতুন বিয়ের সন্তান মাহরাম থাকে কি?
উত্তর: ১. শ্বশুর (Father-in-law): বিবাহ আকদ হওয়ার পর শারীরিক সম্পর্ক হোক বা না হোক, তালাকের পরও শ্বশুর চিরদিনের জন্য (আজীবন) মাহরাম থেকে যাবেন [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭৪; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২৫৪]। তাঁর সাথে কখনো বিবাহ জায়েয হবে না এবং পর্দা করা ফরয নয়। ২. সৎ ছেলে (Step-son): স্বামীর সাথে যদি স্ত্রীর একবারও শারীরিক মিলন হয়ে থাকে, তবে তালাকের পরও সৎ ছেলে চিরদিনের জন্য মাহরাম থাকবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭৪]। (তবে মিলন না হয়ে থাকলে মাহরাম থাকবে না)। ৩. প্রাক্তন স্বামীর নতুন স্ত্রীর সন্তান: প্রাক্তন স্বামী পরে যাকে বিয়ে করেছে, সেই নতুন সংসার থেকে জন্মানো ছেলেটি প্রকৃতপক্ষে ওই নারীর আপন সৎ ছেলে (বা রক্তের সম্পর্কের সৎ ছেলে)। কারণ ওই ছেলের পিতা এবং নারীর প্রাক্তন স্বামী একই ব্যক্তি। সুতরাং প্রাক্তন স্বামীর সেই ছেলেও ওই নারীর জন্য চিরতরে মাহরাম থাকবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭৪; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২৫৪]।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৪, ২৭৫ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ৩য় পরিচ্ছেদ: 'মুহাররামাত/যাদের সাথে বিবাহ হারাম ও মাহরামের বিস্তারিত তালিকা')।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ২৫৪–২৫৫ (পরিচ্ছেদ: 'নিকাহ ও মাহরামের শরঈ আহকাম')।
৮. জন্মদিনের উপহার ও টাকা ব্যবহারের শরঈ বিধান:
উত্তর: ১. উপহার ও টাকার বিধান: জন্মদিনের অনুষ্ঠান বিজাতীয় কালচার ও অনৈসলামিক হওয়ায় তা পালন করা শরী'আতে মাকরুহ ও নাজায়েয [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৩শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩০৫; দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৩৪]। কিন্তু জন্মদিন উপলক্ষে কেউ যদি কোনো বৈ বৈধ জিনিস বা টাকা উপহার দেয়, তবে তা ব্যবহার করা মৌলিকভাবে হারাম নয় [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫২; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৩শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩০৫]। ২. অতীতে পাওয়া উপহার ও ফেরত দেওয়া অসম্ভব হলে: অতীতে প্রাপ্ত জিনিস বা টাকা ব্যবহার করা আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালাল ও জায়েয [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫২]। আর যদি কোনো উপহার শরীআত পরিপন্থী না হয় এবং তা ফেরত দেওয়া অসম্ভব বা সামাজিক ফিতনাহর কারণ হয়, তবে তা গ্রহণ ও ব্যবহার করা জায়েয হবে, তবে ভবিষ্যতে এই কালচার থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৩শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩০৫]।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ:
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৫২ (অধ্যায়: 'হাদিয়া ও হিবা — বিজাতীয় অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত উপঢৌকন ব্যবহারের বিধান')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৩শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩০৫ (অধ্যায়: 'রসম-রিওয়াজ — বার্থডে ও উপহারের ফিকহী হুকুম')।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৩৪ (অধ্যায়: 'বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জন ও হাদিয়ার আহকাম')।
আল্লাহ ভালো জানেন।