হাদিস পড়ে মনে বিরক্তি বা ওয়াসওয়াসা আসলে ঈমান বাতিল হয় কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question No:
7742
Questioner:
Mahmuda
Question Asked:
01 Nov 2026, 07:40 PM
Reviewed & Published:
01 Nov 2026, 10:46 PM
Views:
5
Tokens:
10,969
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
মুফতি ইমদাদুল হুজুর। আপনি একবার বলে দিন আমার ঈমান বিয়ে ঠিক আছে কিনা? আপনার পায়ে পড়ি। একবার এআই উত্তর না দিয়ে আপনি পুরোটা পড়ে বলে দিন।
১)ফেসবুকে আমাদের নবী নিয়ে একটা ইসলামিক পোস্ট পড়তেছিলাম। ভালো পোস্ট। তখন আমার মনে অনেক প্রশ্ন চলে আসছে, আর অনেক বিরক্ত চলে আসছে। কারন এক এক হাদীস এ এক এক রকম লিখা থাকে। আমাদের মত সাধারণ মানুষ এর জন্য তো সব বুঝা কঠিন। তাই পোস্টে নবীর যে হাদিস টা লিখা ছিল, সেটা পরেই আমার মুলত মনের মধ্যে বিরক্ত চলে আসে। পরে আমি আবার ভাবতে থাকি মনে মনে এত বিরক্ত ভাব এমন করা তো আমার ঠিক হয় নাই৷ এখন আল্লাহ যদি আমাকে ধরেন? আমার ঈমান কি ঠিক আছে?
২) মনে মনে যে বিরক্ত হলাম সেই ইসলামিক পোস্ট টা পড়ে। নবীর হাদিস সেখানে যা লিখা ছিল ওটা নিয়ে৷ এটার জন্য কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৩) এগুলা ভাবতে ভাবতে মনে মনে আরো বাজে কথা বলে ফেলছি । নবীকে নিয়ে। আল্লাহ মাফ করুক। আমি মনে মনে এগুলা বলতেছি আবার মনে মনেই বলতেছি এমন না, এমন না। মানে এক মনে অইসব কথা আসতেছে, আরেক মনে আমি বলতেছি এমন না, এমন না। এখন আমার খুব খারাপ লাগতেছে হুজুর।আল্লাহ কি আমাকে ধরবেন?
আমার ঈমান কি ঠিক আছে?
৪)এগুলা করার পরে আমি নিজে নিজে ভাবতে থাকি আর মুখে উচ্চারণ করে বলি যে," আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি। অন্য কোনো কিছু বলি নাই"। মানে সেই হাদিস টা পড়ে আমার বিরক্ত চলে আসছিলো। তাই এটা আমি মুখে উচ্চারণ করে বলি। নবীর হাদিস পড়ে বিরক্ত হয়ে মুখে এমন উচ্চারণ করা তে কি ঈমানের কোনো সমস্যা হবে?
৫)এখন মুখে "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এটা বলে, মনে মনে অন্য কথা বললে কি কোনো সমস্যা হবে? মানে মুখে এই কথা উচ্চারণ করে বললে, আর মনে মনে কার উপর কিসের উপর বিরক্ত হইছি সেটা বললে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৬) মুখে উচ্চারণ করে - "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এটাই শুধু বলছি। এখন মুখে বলেছি "শুধু বিরক্ত হইছি" কিন্তু মনে মনে অন্য কিছু বলেছি। হাফ মুখে বললে, হাফ মনে মনে বললে । এখন কি মনের টা ধরা হবে? নাকি পুরো বাক্য স্পষ্ট ভাবে মুখে উচ্চারণ করলেই ধরা হবে?
৭)এতক্ষন মনে হচ্ছিল সব তো মনে মনেই বললাম। কোনো সমস্যা হবে না ইন শা আল্লাহ। কিন্তু এখন এই একটা কথা মুখে উচ্চারণ করে ফেলছি তাই চিন্তা হচ্ছে। আমি যে মুখে উচ্চারণ করে বললাম "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এখানে কার উপর কিসের উপর বিরক্ত হইছি সেটা উচ্চারণ করি নাই। এখন শুধু এটুকু কথা " আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি " উচ্চারণ করার জন্য আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হয়েছে?
৮) হাদিস পড়ে সেটা নিয়ে বিরক্ত হওয়া আমার কাছে অনেক বড় অপরাধ মনে হচ্ছে। কারন নবী যেটা বলেছেন সেটা পড়ে বিরক্ত কেন আসবে? আমার ঈমান কি ঠিক আছে?
৯) আপনার উত্তরের উপর আমল করতে পারব?
১)ফেসবুকে আমাদের নবী নিয়ে একটা ইসলামিক পোস্ট পড়তেছিলাম। ভালো পোস্ট। তখন আমার মনে অনেক প্রশ্ন চলে আসছে, আর অনেক বিরক্ত চলে আসছে। কারন এক এক হাদীস এ এক এক রকম লিখা থাকে। আমাদের মত সাধারণ মানুষ এর জন্য তো সব বুঝা কঠিন। তাই পোস্টে নবীর যে হাদিস টা লিখা ছিল, সেটা পরেই আমার মুলত মনের মধ্যে বিরক্ত চলে আসে। পরে আমি আবার ভাবতে থাকি মনে মনে এত বিরক্ত ভাব এমন করা তো আমার ঠিক হয় নাই৷ এখন আল্লাহ যদি আমাকে ধরেন? আমার ঈমান কি ঠিক আছে?
২) মনে মনে যে বিরক্ত হলাম সেই ইসলামিক পোস্ট টা পড়ে। নবীর হাদিস সেখানে যা লিখা ছিল ওটা নিয়ে৷ এটার জন্য কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৩) এগুলা ভাবতে ভাবতে মনে মনে আরো বাজে কথা বলে ফেলছি । নবীকে নিয়ে। আল্লাহ মাফ করুক। আমি মনে মনে এগুলা বলতেছি আবার মনে মনেই বলতেছি এমন না, এমন না। মানে এক মনে অইসব কথা আসতেছে, আরেক মনে আমি বলতেছি এমন না, এমন না। এখন আমার খুব খারাপ লাগতেছে হুজুর।আল্লাহ কি আমাকে ধরবেন?
আমার ঈমান কি ঠিক আছে?
৪)এগুলা করার পরে আমি নিজে নিজে ভাবতে থাকি আর মুখে উচ্চারণ করে বলি যে," আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি। অন্য কোনো কিছু বলি নাই"। মানে সেই হাদিস টা পড়ে আমার বিরক্ত চলে আসছিলো। তাই এটা আমি মুখে উচ্চারণ করে বলি। নবীর হাদিস পড়ে বিরক্ত হয়ে মুখে এমন উচ্চারণ করা তে কি ঈমানের কোনো সমস্যা হবে?
৫)এখন মুখে "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এটা বলে, মনে মনে অন্য কথা বললে কি কোনো সমস্যা হবে? মানে মুখে এই কথা উচ্চারণ করে বললে, আর মনে মনে কার উপর কিসের উপর বিরক্ত হইছি সেটা বললে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৬) মুখে উচ্চারণ করে - "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এটাই শুধু বলছি। এখন মুখে বলেছি "শুধু বিরক্ত হইছি" কিন্তু মনে মনে অন্য কিছু বলেছি। হাফ মুখে বললে, হাফ মনে মনে বললে । এখন কি মনের টা ধরা হবে? নাকি পুরো বাক্য স্পষ্ট ভাবে মুখে উচ্চারণ করলেই ধরা হবে?
৭)এতক্ষন মনে হচ্ছিল সব তো মনে মনেই বললাম। কোনো সমস্যা হবে না ইন শা আল্লাহ। কিন্তু এখন এই একটা কথা মুখে উচ্চারণ করে ফেলছি তাই চিন্তা হচ্ছে। আমি যে মুখে উচ্চারণ করে বললাম "আমি তো জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কিছু বলি নাই"। এখানে কার উপর কিসের উপর বিরক্ত হইছি সেটা উচ্চারণ করি নাই। এখন শুধু এটুকু কথা " আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি " উচ্চারণ করার জন্য আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হয়েছে?
৮) হাদিস পড়ে সেটা নিয়ে বিরক্ত হওয়া আমার কাছে অনেক বড় অপরাধ মনে হচ্ছে। কারন নবী যেটা বলেছেন সেটা পড়ে বিরক্ত কেন আসবে? আমার ঈমান কি ঠিক আছে?
৯) আপনার উত্তরের উপর আমল করতে পারব?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাব
১, ২ ও ৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর: হাদিস পড়ে মনে সাময়িক বিরক্তি আসা, অপরাধবোধ হওয়া ও ঈমানের অবস্থান
- শরঈ সিদ্ধান্ত: হাদিসের গভীর মর্ম বুঝতে না পারা বা সাধারণ মানুষের কাছে বাহ্যিক বিভিন্নতা মনে হওয়ার কারণে ক্ষণিকের জন্য মনে বিরক্তি বা খটকা তৈরি হওয়া দ্বীনকে অস্বীকার করা নয়। এর কারণে আপনার ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়নি; আপনার ঈমান সম্পূর্ণ ঠিক ও বহাল রয়েছে।
- ফিকহী কারণ: পরবর্তীতে "এমন করা আমার ঠিক হয়নি" বলে অনুশোচনা ও অপরাধবোধ জাগ্রত হওয়াই প্রমাণ করে যে আপনার অন্তরে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি গভীর ঈমান ও ভালোবাসা বিদ্যমান রয়েছে ।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর: মনে মনে বাজে কথা আসা এবং অন্তরে তা প্রতিহত করা ("এমন না, এমন না")
- শরঈ সিদ্ধান্ত: এটি শতভাগ শয়তানের ঢেলে দেওয়া 'ওয়াসওয়াসা' (অনাকাঙ্ক্ষিত কূচিন্তা)। এর জন্য মহান আল্লাহ আপনাকে কখনোই ধরবেন না বা শাস্তি দেবেন না; আপনার ঈমান সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
- ফিকহী কারণ: রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরের অনাকাঙ্ক্ষিত কূচিন্তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে” (সহিহ বুখারি)। এক মন দিয়ে বাজে কথাকে "এমন না, এমন না" বলে প্রতিহত করাই প্রমাণ করে যে আপনার ঈমান ঐ কূচিন্তাকে ঘৃণা করে ও প্রতিহত করছে ।
৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর: মুখে "আমি জাস্ট বিরক্ত হইছি, অন্য কোনো কিছু বলি নাই" বলা এবং মনের ভাব
- শরঈ সিদ্ধান্ত: মুখে কেবল এটুকু স্বাভাবিক নিরপেক্ষ কথা উচ্চারণ করার কারণে আপনার ঈমানের বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো গোনাহ বা কুফর হয়নি।
- ফিকহী কারণ: ১. মুখের উচ্চারণ প্রামাণ্য (الفاظ الكفر): ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কাফের হওয়ার জন্য মুখে স্পষ্ট কুফরি শব্দ (الفاظ الكفر) উচ্চারণ করা শর্ত। আপনার মুখে বলা বাক্যে কুফর, শিরক বা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শানে বেয়াদবির কোনো শব্দ নেই । ২. মনের ভাব বনাম মুখের কথা: মুখে নিরপেক্ষ কথা বলে মনে অন্য চিন্তা থাকলেও, কেবল মনের সেই অনিচ্ছাকৃত ভাব বা হাফ-মনের ভাবনার কারণে মুখের সাধারণ কথা কুফরিতে পরিণত হয় না [৩৪, ৯৬]। যতক্ষণ না পুরো স্পষ্ট কুফরি বাক্য মুখ দিয়ে স্পষ্ট উচ্চারণ করা হয়, ততক্ষণ মনের অস্ফুট চিন্তার ওপর কুফরের বিধান আসে না।
৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর: এই উত্তরের ওপর আমল করার বিধান
- শরঈ সিদ্ধান্ত: হ্যাঁ, আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত মনে ও দ্বিমুখী সংশয় ছাড়াই এই শরঈ উত্তরের ওপর পূর্ণ আমল করতে পারবেন।
- করণীয়: ১. শয়তানের প্ররোচনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত অসওয়াসাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করুন। ২. আপনার ঈমান নবায়ন বা অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। ৩. যখনই মনে কোনো বাজে চিন্তা আসবে, তখন মনে মনে পড়বেন: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ» এবং «آَمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ»।
আল্লাহ ভালো জানেন।