কোরআন হাদিস লিখিত কিছুতে তেলাপোকা পায়খানা করলে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে? এগুলো টেবিলের নিচে রাখলে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
767
Questioner:
Amina Akter
Question Asked:
25 May 2026, 11:35 PM
Reviewed & Published:
25 May 2026, 11:42 PM
Views:
74
Tokens:
4,692
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
১।আমার বাবায় দলিল পত্রের কাজ করতো উনি মারা গেছে। এখন কার কার দলিল আছে আমরা জানিনা এইসম্পর্কে আমি বুঝিনা। সেই দলিলগুলোতে বিভিন্ন মানুষের নাম থাকে সেই নামের ভিতরে আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মো সাইফুল ইসলাম, নজির আহমেদ লিখা থাকার সম্ভাবনা বেশী এগুলো তো আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ উনাদের নাম। এগুলোর মধ্যে ইদুর, টিকটিকি তেলাপোকা পায়খানা করে ইদুর কেটে ফেলে। এগুলোর মধ্যে অন্য মানুষের প্রয়োজনীয় দলিলপত্র কাগজ আছে। বাবার পরিচিত একজন লোক ছিল সে দলিলসম্পর্কে বুঝে সে নাকি দেখবে অন্য মানুষের দলিল পত্রের বেপারে। এখন এগুলো দুইতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এগুলো ঝাড়া বা একটার সাথে হালকা বাড়ি দিয়ে অন্য কোনো বস্তায় রাখলে কি হবে।বস্তায় রাখলে তার উপরে নাপাকি করতে পারে ভিতরে কাগজে লাগবে কিনা জানিনা।
২।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম কোরআন হাদিস লিখিত কিছু বিছানার নিচে রাখলে তার উপর দিয়ে হাটাহাটি করলে, কোনো প্রানী যদি নাপাকি করে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৩।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু দুয়ে সংরক্ষণ করলে আবার পায়খানা করতে পারে দুইতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে । আমাদের ঘরে নিয়মিত মানুষ থাকেনা এইজন্য ইদুর চিকা তেলাপোকা টিকটিকি অনেক বেশী এইজন্য পুড়ে ফেলা যাবে কি?
৪।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু রাস্তা থেকে বা যেকোনো যায়গা থেকে সংগ্রহ করলাম সেগুলোর অবস্থা হলো অন্যন্য কাগজ থেকে ছিড়ে বা ময়লা কাগজের মত দেখা যায় সেগুলো সংরক্ষণ করলে কেউ আবার ফেলে দিতে পারে এখন পুড়ে ফেলা যাবে কি?
৫।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছুতে কোনো প্রানী নাপাকি করছে এখন পরিস্কার না করে পরে পরিস্কার করলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৬।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছুকে সংরক্ষণ এবং সম্মান নিয়ে অনেক পেরেশানিতে আছি সারাক্ষণ মনে বা ভিতরে আসতে থাকে কি কারনে?
৭।মাঠির চুলায় আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু পুড়েছি সেখানে চুলার পাশে একটা কুকুর মাঝে মধ্যে শুয়ে থাকে ঘুমায়। আবার চুলাটা টয়লেট থেকে আনুমানিক ১০ -১২ ফিট দূরে নাপাকি আসবেনা। এখন আমি পুড়ে সেখানেই রেখে দিছি বা ভবিষ্যতে রাখলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
২।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম কোরআন হাদিস লিখিত কিছু বিছানার নিচে রাখলে তার উপর দিয়ে হাটাহাটি করলে, কোনো প্রানী যদি নাপাকি করে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৩।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু দুয়ে সংরক্ষণ করলে আবার পায়খানা করতে পারে দুইতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে । আমাদের ঘরে নিয়মিত মানুষ থাকেনা এইজন্য ইদুর চিকা তেলাপোকা টিকটিকি অনেক বেশী এইজন্য পুড়ে ফেলা যাবে কি?
৪।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু রাস্তা থেকে বা যেকোনো যায়গা থেকে সংগ্রহ করলাম সেগুলোর অবস্থা হলো অন্যন্য কাগজ থেকে ছিড়ে বা ময়লা কাগজের মত দেখা যায় সেগুলো সংরক্ষণ করলে কেউ আবার ফেলে দিতে পারে এখন পুড়ে ফেলা যাবে কি?
৫।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছুতে কোনো প্রানী নাপাকি করছে এখন পরিস্কার না করে পরে পরিস্কার করলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৬।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছুকে সংরক্ষণ এবং সম্মান নিয়ে অনেক পেরেশানিতে আছি সারাক্ষণ মনে বা ভিতরে আসতে থাকে কি কারনে?
৭।মাঠির চুলায় আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু পুড়েছি সেখানে চুলার পাশে একটা কুকুর মাঝে মধ্যে শুয়ে থাকে ঘুমায়। আবার চুলাটা টয়লেট থেকে আনুমানিক ১০ -১২ ফিট দূরে নাপাকি আসবেনা। এখন আমি পুড়ে সেখানেই রেখে দিছি বা ভবিষ্যতে রাখলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
উত্তর: আপনার সাতটি প্রশ্নের উত্তর নিম্নে হানাফি ফিকহের কিতাব ও ফাতাওয়ার আলোকে দেওয়া হলো। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।
১. বাবার রেখে যাওয়া দলিলপত্রে নামসমূহ (আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম) ইত্যাদি অসম্মানিত হচ্ছে। কী করবেন?
- উত্তর: দলিলপত্রে যে সকল নাম লেখা আছে (যেমন: আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম) এগুলো আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ) এর নাম বা তার সাথে সম্পর্কিত। তাই এগুলোকে অসম্মান থেকে রক্ষা করা ওয়াজিব।
- সমাধান:
- অগ্রাধিকার হলো, এগুলোকে একটি পরিষ্কার কাপড় বা বস্তায় মুড়ে নিরাপদ স্থানে রাখুন, যেখানে ইদুর, তেলাপোকা ইত্যাদি নাপাকি করতে না পারে।
- যদি কেউ (যিনি দলিল বুঝেন) এসব দেখতে পারেন, তাহলে তার মাধ্যমে নামগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করুন।
- বস্তায় রাখার পর যদি নাপাকি লাগে, তাহলে বস্তার বাইরের অংশ ধুয়ে ফেলুন। ভিতরের কাগজে নাপাকি না লাগলে সমস্যা নেই।
- কাগজপত্রে হালকা ধুলা বা ময়লা থাকলে তা ঝেড়ে ফেলার অনুমতি আছে, তবে সম্মানজনক উপায়ে।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, ২/৫২৭; রদ্দুল মুহতার, ১/২৪২)
২. আল্লাহ, রাসূল (ﷺ) ও কুরআনের নাম লেখা কাগজ বিছানার নিচে রাখলে, তার উপর হাঁটাহাঁটি করলে বা পশু-পাখি নাপাকি করলে কী গুনাহ হবে?
- উত্তর:
- বিছানার নিচে এ ধরনের কাগজ রাখা অসম্মানজনক, কারণ সেখানে পায়ের নিচে পড়ে। তাই এটি করা মাকরুহে তাহরীমি (গুনাহের কাজ)।
- যদি কেউ অজান্তে বা জোরপূর্বক রাখে, তাহলে তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলতে হবে।
- ইমানের সমস্যা হবে না, তবে এটা অসম্মানের কারণে গুনাহ হবে।
(সূত্র: বাহিশতি জেওর, ২/৩৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৮২)
৩. ইদুর, তেলাপোকা ইত্যাদির কারণে নাপাকি হওয়ার ভয়ে আল্লাহ, রাসূল (ﷺ) ও কুরআনের নাম লেখা কাগজ পোড়ানো যাবে কি?
- উত্তর:
- হ্যাঁ, পোড়ানো যাবে, যদি এগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব না হয় এবং অসম্মান হওয়ার নিশ্চিত আশঙ্কা থাকে।
- তবে পোড়ানোর আগে চেষ্টা করুন:
১. কোনো মসজিদে দিয়ে দিন যেখানে সেগুলো সম্মানের সাথে রাখা হবে।
২. মাটিতে পুঁতে ফেলা (একটি পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে)। - পোড়ানোর পর ছাই কোনো অপবিত্র স্থানে না ফেলে নদী বা পরিষ্কার জায়গায় ফেলুন।
(সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৪৩৪; রদ্দুল মুহতার, ১/২৪২)
৪. রাস্তা থেকে সংগ্রহ করা নামসম্বলিত কাগজ যদি ছেঁড়া বা নোংরা হয়, তবে কি পুড়ে ফেলা যাবে?
- উত্তর:
- প্রথমে চেষ্টা করুন, ছেঁড়া অংশগুলো জোড়া দিয়ে কিছুক্ষণ সংরক্ষণ করে।
- যদি সম্ভব না হয়, তাহলে পোড়ানো জায়েজ। তবে শর্ত হলো: ছাই সম্মানের সাথে সংরক্ষণ করতে হবে বা নদীতে ভাসিয়ে দিতে হবে।
- পুড়িয়ে ফেলায় গুনাহ নেই, বরং অসম্মান থেকে বাঁচানোর জন্য এটি প্রশংসনীয়।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, ২/৫২৭; মাআরিফুল কুরআন, ৭/২৮৩)
৫. নামসম্বলিত কাগজে পশু-পাখি নাপাকি করলে পরে পরিষ্কার করলে কি গুনাহ হবে?
- উত্তর:
- নাপাকি লেগে যাওয়াটা যদি অনিচ্ছাকৃত হয়, তাহলে আপনার গুনাহ হবে না।
- তবে উপরের নাপাকি পরিষ্কার করা ওয়াজিব। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিষ্কার না করেন বা আলসেমি করেন, তবে গুনাহ হবে।
- ইমানের সমস্যা হবে না, তবে গুনাহ মাফের জন্য তাওবা করুন।
(সূত্র: বাহিশতি জেওর, ২/৩৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৮৩)
৬. সংরক্ষণ ও সম্মান নিয়ে পেরেশানি হচ্ছে, কেন এমন হয়?
- উত্তর:
- এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা হতে পারে, যা আপনাকে দ্বীনের কাজ থেকে বিরত রাখতে চায়।
- অথবা এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক যে আপনি নামসমূহের সম্মান নিয়ে সচেতন।
- সমাধান:
১. নামসমূহের কাগজগুলোকে একটি বাক্সে বা কাপড়ে মুড়ে উঁচু স্থানে রাখুন।
২. পেরেশানি থেকে বাঁচতে দোয়া পড়ুন: "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।"
৩. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করুন।
(সূত্র: তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, ৭/২৮৩)
৭. মাটির চুলায় নামসম্বলিত কাগজ পুড়িয়ে সেখানে কুকুর শুইয়ে রাখলে বা টয়লেটের কাছে থাকলে কি গুনাহ হবে?
- উত্তর:
- পোড়ানোর পর ছাই কোথায় রাখবেন তা গুরুত্বপূর্ণ।
- যদি ছাই নাপাক জায়গায় পড়ে বা কুকুরের নাপাকি লাগে, তাহলে গুনাহ হবে।
- সমাধান:
১. ছাই একটি পরিষ্কার পাত্রে সংগ্রহ করে নদী বা নির্ঝরিণীতে ফেলে দিন।
২. অথবা একটি পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে মাটিতে পুঁতে ফেলুন।
৩. টয়লেটের নিকট বা কুকুরের স্থান থেকে ছাই সরিয়ে ফেলুন।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/২৪২; ফাতাওয়া আলমগীরি, ৫/৪৩৪)
সারসংক্ষেপ ও বিশেষ নির্দেশনা:
- প্রথমেই নামসমূহের কাগজগুলো আলাদা করে সম্মানের সাথে সংরক্ষণ করুন।
- যদি সম্ভব হয়, মসজিদের ইমাম বা কোনো আলেমের মাধ্যমে সেগুলো যথাযথ স্থানে রাখুন (যেমন: মসজিদের লাইব্রেরি)।
- পোড়ানো বা পুঁতে ফেলা তখনই করবেন, যখন অন্য কোনো উপায় না থাকে।
- নাপাকি লেগে গেলে তাৎক্ষণিক ধুয়ে ফেলতে চেষ্টা করুন। দেরি হলে গুনাহ হবে না, তবে ধোয়া ওয়াজিব।
- ইমানের সমস্যা হবে না কোনো অবস্থায়ই, যদি আপনি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে অটল থাকেন। তবে গুনাহ মাফের জন্য তাওবা করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার এই উদ্বেগ ও চেষ্টাকে কবুল করুন এবং দ্বীনের সেবায় সহায়তা করুন। (আমিন)
সহায়ক গ্রন্থ:
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানি)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী)
- রদ্দুল মুহতার (আল্লামা ইবনে আবেদীন)
- বাহিশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী)
- ফাতাওয়া আলমগীরি (হানাফি ফিকহ)