আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ। বর্তমানে ছেলে শিশুদের সামনে কতো বছর পর্যন্ত যাওয়

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7615
Questioner: Amatullah
Question Asked: 30 Oct 2026, 03:21 PM
Reviewed & Published: 30 Oct 2026, 03:40 PM
Views: 35
Tokens: 4,197
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ।
বর্তমানে ছেলে শিশুদের সামনে কতো বছর পর্যন্ত যাওয়া জায়েজ? এই জামানায় তো মোবাইল, টিভি দেখে বাচ্চারা অনেক কিছুই বয়সের আগে বুঝে। তাই কতো বছর পর্যন্ত ছেলেদের সামনে যাওয়া যাবে?

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বর্তমানে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট মিডিয়ার প্রসারের কারণে শিশুরা অনেক সময় স্বাভাবিক বয়সের আগেই অনেক কিছু বুঝে ফেলে। হানাফী ফিকহ ও ফাতাওয়া কিতাবসমূহের আলোকে গায়রে মাহরাম (অনাত্মীয় বা যাদের সাথে বিবাহ হালাল) ছেলে শিশুদের সামনে মহিলাদের যাওয়া ও পর্দা রক্ষার বয়সসীমার সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিচে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ তুলে ধরা হলো:


১. ফিকহের দৃষ্টিতে না-বালেগ ছেলেদের ৩টি স্তর ও পর্দার বয়সসীমা:

ইসলামী ফিকহে না-বালেগ ছেলেদের বয়স ও অনুভূতির বিচারে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

১. অবুঝ শিশু (غیر مميز - অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবুঝ শিশু):

  • বয়সসীমা: সাধারণত ৪–৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশু।
  • বিধান: এই বয়সের শিশুদের মাঝে নারী-পুরুষের রূপ, সৌন্দর্য বা সাজসজ্জার কোনো পার্থক্য ও অনুভূতির উন্মেষ ঘটে না। তাই এদের সামনে পর্দা করা আবশ্যক নয়।

২. বুঝমান শিশু (مميز - মুমাইয়্যিজ শিশু):

  • বয়সসীমা: সাধারণত ৬–৯ বছর বয়স ।
  • বিধান: এই বয়সের বাচ্চারা ভালো-মন্দ বা নারী-পুরুষের বাহ্যিক পার্থক্য ও সাজগোজ বুঝতে শুরু করে। বর্তমান যুগে মোবাইল ও টিভির অবাধ ব্যবহারের কারণে যদি কোনো ৭–৯ বছরের শিশু নারীদের রূপ-সৌন্দর্য বা আকর্ষণ অনুভব করার মতো পরিপক্কতা লাভ করে, তবে ঐ শিশুর সামনেও মহিলাদের মেকআপ, সৌন্দর্য প্রকাশ বা বেপর্দা হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সতর্কতামূলক পর্দা রক্ষা করা আবশ্যক।

৩. যৌবনোম্মুখ কিশোর (المراهق - মুরাহিক বা কামভাবসম্পন্ন বালক):

  • বয়সসীমা: ১০–১২ বছর থেকে শুরু করে বালেগ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ।
  • বিধান: ফিকহের সুনির্দিষ্ট মূলনীতি হলো: «المراهق كالبالغ» (কামভাবসম্পন্ন কিশোর বালেগ পুরুষের সমতুল্য)। ১০–১২ বছর বয়সী বা তার বেশি বয়সের ছেলে শিশুদের সামনে সাধারণ গায়রে মাহরাম পুরুষদের মতোই পূর্ণ পর্দা করা শরী'আতের দৃষ্টিতে ওয়াজিব।

৪. শরঈ বালেগ (البالغ):

  • বয়সসীমা: ১৫ বছর পূর্ণ হওয়া অথবা তার পূর্বে বালেগ হওয়ার আলামত দেখা দেওয়া।
  • বিধান: সে চূড়ান্তভাবে পূর্ণ বয়স্ক গায়রে মাহরাম পুরুষ হিসেবে গণ্য হবে এবং তার সামনে পূর্ণ পর্দা করা ফরয।

২. বর্তমান যামানার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত শরঈ সিদ্ধান্ত:

  • ৭ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত: যদি ছেলে শিশুটি অবুঝ হয় এবং কোনো আকর্ষণ না বোঝে, তবে তার সামনে সাধারণ ঢিলেঢালা পোশাকে যাওয়া যাবে; তবে তার সামনে শরীরের সতর খোলা বা সাজগোজ প্রকাশ করা যাবে না। আর যদি মোবাইল/টিভির প্রভাবে সে বয়সের আগেই আকর্ষণ ও সাজগোজ গভীরভাবে বুঝতে শেখে, তবে তখনই তার থেকে পর্দা শুরু করতে হবে।
  • ১০ বছর বা তার বেশি বয়স হলে: শিশুটি বালেগ হোক বা না হোক, ১০ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই তার সামনে বালেগ পুরুষদের মতোই শরঈ পর্দা বজায় রেখে যাওয়া বাধ্যতামূলক ।

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১০৯, ১১২–১১৪ এবং ১২৯–১৩০ (অধ্যায়: 'বাবুল হিজাব' — পর্দা কোন বয়স থেকে এবং কার কার সাথে ফরয, মুরাহিক ও না-বালেগ বালকদের ক্ষেত্রে পর্দার ফতোয়া)।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২০তম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১১৭–১১৮ (অধ্যায়: 'বাবুল আশতাত' — আমরদের বিবরণ ও বালকদের বয়স সংক্রান্ত ফতোয়া)।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩২৭–৩২৯ (কিতাবুল ক্রাহিয়্যাহ, ৮ম অনুচ্ছেদ: 'গায়রে মাহরাম ও বালকদের প্রতি দৃষ্টিপাত ও পর্দার ফিকহী বিধান') ।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৬০–১৬২ (কিতাবুস সালাত: 'বালক বা শিশুদের সতরের সীমারেখা ও পর্দার বিবরণ') ।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩২০–৩২২ (অধ্যায়: বিবিধ — 'পর্দার শরঈ সীমানা, সতর ও বর্তমান যামানায় ফিতনাহ এড়ানোর ফিকহী মূলনীতি') ।
  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৪০–১৪২ (অধ্যায়: 'শাহওয়াতযোগ্যতা ও শিশুদের বয়সের ফিকহী মানদণ্ড')।

وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.