আমরা যখন কোন অমুসলিম দেশে যাই তখন চই দেশে সুপার শপ থেকে কোন মুরগির মাংস বা গরুর মাংস কিনে খাওয়
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অমুসলিম দেশে সাধারণ সুপার শপ (যেখানে শরঈ হালাল সার্টিফিকেশন বা মুসলিম তদারকি নেই) থেকে প্রাপ্ত প্রসেসড মুরগি বা গরুর মাংস কিনে খাওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও হারাম।
ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ এর বিস্তারিত শরঈ কারণ ও মাসআলা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
১. গোশত হালাল হওয়ার মৌলিক নীতি (الأصل في اللحوم الحرمة): ইসলামী ফিকহের সুনির্দিষ্ট মূলনীতি হলো— অন্য যেকোনো আসবাব বা খাবারের ক্ষেত্রে মৌলিকত্ব হালাল হলেও, প্রাণীর গোশতের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো হারাম ও নিষিদ্ধতা। যতক্ষণ না পর্যন্ত অকাট্যভাবে বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে প্রমাণিত হবে যে প্রাণীটি শরী'আতসম্মত উপায়ে জবেহ করা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা খাওয়া জায়েয হয় না।
২. জবেহকারীর শরঈ যোগ্যতা: প্রাণী জবেহকারীকে অবশ্যই মুসলমান অথবা প্রকৃত আহলে কিতাব (ইহুদী বা খ্রিস্টান) হতে হবে। কিন্তু বর্তমান উন্নত অমুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ অধিবাসী কিতাবী ধর্মে বিশ্বাসী নয়; বরং তারা নাস্তিক, সেকুলার বা ধর্মহীন। আর নাস্তিক বা ধর্মহীন কাফেরদের জবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
৩. তসমিয়া (আল্লাহর নাম নেওয়া) ও জবেহের পদ্ধতি: শরঈ জবেহের জন্য ধারালো অস্ত্র দ্বারা গলার প্রধান রগসমূহ কাটা এবং জবেহের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তসমিয়া (বিসমিল্লাহ) ছেড়ে না দেওয়া আবশ্যিক শর্ত। কিন্তু পশ্চিমা বা অমুসলিম দেশের সুপার শপগুলোতে সরবরাহকৃত মাংসের প্রায় পুরোটাই বাণিজ্যিক কারখানায় অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে প্রসেস করা হয়। সেখানে পুরো দিন মেশিন চালু রেখে একবারে হাজার হাজার পশু-পাখি কাটা হয়, যেখানে প্রতিটি পশুর জন্য পৃথকভাবে 'বিসমিল্লাহ' পাঠ করা হয় না এবং অনেক সময় ইলেক্ট্রিক শকে বা গরম পানিতে জবেহের পূর্বেই প্রাণী মারা যায় ।
৪. প্যাকেটিং ও কৌটাজাত গোশত: অমুসলিম দেশ থেকে আগত বা সেখানকার সুপার শপে বিক্রিত প্রক্রিয়াজাতকৃত প্যাকেটিং গোশত শরঈ জবেহের শর্তাবলী পূরণ না করার দরুন তা খাওয়া নিষিদ্ধ ও সন্দেহজনক।
২. যেসব সুরতে হালাল হবে (ব্যতিক্রম):
অমুসলিম দেশে অবস্থানকালে কেবল নিম্নোক্ত অবস্থাসমূহে মাংস কিনে খাওয়া হালাল হবে:
- হালাল সার্টিফাইড মাংস: যদি মাংসটি নির্ভরযোগ্য কোনো মুসলিম সংস্থা বা আলিমদের তদারকিতে পরিচালিত স্বীকৃত 'হালাল' বোর্ড কর্তৃক সার্টিফাইড হয়।
- মুসলিম দোকানদার বা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান: যদি কোনো সুনির্দিষ্ট মুসলমানের দোকান থেকে অথবা মুসলিম অবয়বে পরিচালিত সুপার শপের 'হালাল সেকশন' থেকে মাংস কেনা হয়।
- ইহুদী 'কৌশের' (Kosher) মাংস (শর্তসাপেক্ষে): যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোনো কিতাবী ইহুদী তার নিজ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী 'বিসমিল্লাহ' বলে ধারালো ছুরি দিয়ে রগ কেটে জবেহ করেছে।
অন্যথায়, সাধারণ কোনো অমুসলিম সুপার শপের প্রক্রিয়াজাতকৃত মুরগি বা গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং এর পরিবর্তে মাছ, ডিম, শাক-সবজি ও নিরামিষ গ্রহণ করা আবশ্যক।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারা (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৭১, ৩৯১, ৪২০–৪২৮ এবং ৪২৯–৪৩১ (অধ্যায়: 'أحكام الذبائح واللحوم المستوردة' — অমুসলিম দেশের ও ইমপোর্টেড প্রসেসড গোশতের শরঈ বিধান)।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩২০–৩২৫ (অধ্যায়: কুরবানী ও আকীকা — 'মুরগি ড্রেসিং ও যান্ত্রিক জবেহের শর'য়ী বিধান') [২, ৬, ৯, ১০, ১১, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭]; এবং পৃষ্ঠা: ৩৭৪, ৩৭৯–৩৮০ (অধ্যায়: বিবিধ — 'ইলেকট্রিক পদ্ধতিতে প্রাণী হত্যার ফতোয়া')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৭শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১০৫–১০৭ (অধ্যায়: 'বাবুদ্ধাবাইহ — অমুসলিম দেশে মেশিনে ও ইহুদী-খ্রিস্টানদের জবেহকৃত গোশতের বিধান') [৭, ৮, ১২]; এবং পৃষ্ঠা: ২৫১–২৫৩, ২৯০ (অধ্যায়: 'অমুসলিম দেশের বন্ধ ডিবে ও প্যাকেটের গোশত')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৮তম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৭–৩৯ (অধ্যায়: 'বাবুল আকলি ওয়াশ শুরব — অমুসলিম দেশের গোশত ও কাফেরের হোটেলের খাবার') [২২]; এবং পৃষ্ঠা: ৫০–৫২ (অধ্যায়: 'কৌটাজাত ও প্রসেসড গোশত খাওয়ার মাসআলা')।
আল্লাহ ভালো জানেন।