অমরত্ব লাভ করার জন্য নির্মিত মুভি দেখলে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question No:
758
Questioner:
Mou
Question Asked:
25 May 2026, 08:54 PM
Reviewed & Published:
25 May 2026, 09:18 PM
Views:
80
Tokens:
2,401
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
একটি মুভিতে দেখানো হয়েছে যে, একজন ব্যাক্তি অমরত্ব(আজীবন বেছে থাকা) লাভ করার জন্য একটা কাজ করে, এখন আমি যদি এই মুভি দেখি আমার কি ছুট বা বড় শিরক কিংবা কুফুরি হবে?
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত মুভিতে যদি অমরত্ব (আজীবন বেছে থাকা) লাভের জন্য শিরকি কার্যকলাপ (যেমন: জিন, শয়তান, বা অন্য কারো সাহায্য প্রার্থনা; কবর পূজা; অথবা আল্লাহর গুণাবলীকে অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত করা) দেখানো হয়, তাহলে সেই মুভি দেখা নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ হবে। তবে এটি বড় শিরক বা কুফরি হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দর্শক নিজে সেই কাজকে সত্য বলে বিশ্বাস না করে বা হালাল মনে না করে।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
১. শিরক ও কুফরির শর্ত:
- কোনো কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে শিরক বা কুফর তখনই সাব্যস্ত হবে যখন তা বিশ্বাস বা ইবাদতের উদ্দেশ্যে করা হবে।
- শুধু মুভিতে শিরকি দৃশ্য দেখা বা জানার কারণে কেউ মুশরিক বা কাফির হবে না, যদি না সে সেই কাজকে সমর্থন করে বা নিজের আকীদা হিসেবে গ্রহণ করে।
- কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
- "আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না; নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম।" (সূরা লুকমান, ৩১:১৩)
- এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, শিরক তখনই হবে যখন আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে ডাকা হবে বা তাঁর গুণাবলী অন্যদের জন্য সাব্যস্ত করা হবে।
২. মুভি দেখার বিধান:
- মুভিতে যদি শিরকি বা কুফরি বিষয়বস্তু থাকে (যেমন: অমরত্ব লাভের জন্য জাদু-টোনা, কবর পূজা, বা আল্লাহর গুণাবলী অন্যদের দেয়া), তাহলে তা দেখা গুনাহ, কারণ এটি আকীদাগত ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
- হানাফী ফিকাহবিদগণ বলেন:
- "যে কাজ বাতিল বা হারাম, তা দেখা বা শোনাও হারাম, যদি না তা শিক্ষা বা সতর্কতার উদ্দেশ্যে হয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৯/৪৮৮)
- তবে এই গুনাহের কারণে কেউ মুশরিক বা কাফির হবে না, যতক্ষণ না সে নিজে সেই কাজকে পছন্দ করে বা আকীদা হিসেবে গ্রহণ করে।
৩. অমরত্বের ধারণা এবং ইসলাম:
- ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, অমরত্ব কেবল আল্লাহর গুণ। তিনি ছাড়া কোনো সৃষ্টি জীব (মানুষ, জিন, ফেরেশতা) স্বভাবতভাবে অমর নয়।
- কেউ যদি নিজেকে অমর করার চেষ্টা করে বা অমরত্বের জন্য শিরকি পদ্ধতি অবলম্বন করে, তা ধর্মদ্রোহিতা (গুনাহ) বটে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এটি দেখলে শিরক হবে না।
- ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন:
- "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্তা চিরস্থায়ী নয়।" (আল-আকীদাতুত তাহাবিয়্যা, ১/২৩)
৪. দর্শকের দায়িত্ব:
- মুভি দেখার সময় যদি দর্শক মন থেকে শিরকি কাজকে সমর্থন করে বা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক বলে বিশ্বাস করে, তাহলে তা বড় শিরক হবে।
- আর যদি শুধু কৌতূহল বা বিনোদনের জন্য দেখে, কিন্তু আকীদা অটুট থাকে, তাহলে তা ছোট শিরক বা গুনাহ হবে (যেমন: হারাম কাজের প্রতি উদাসীনতা বা পাপ দেখে আনন্দ পাওয়া)।
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
- "যে ব্যক্তি কোনো পাপ দেখে মনে মনে তা পছন্দ করে, সে পাপী।" (মুসলিম, হাদিস: ২৭৪১)
উপসংহার:
- মুভিটি দেখলে শিরক বা কুফর হবে না, যদি না দর্শক মুভির শিরকি কর্মকাণ্ডকে সত্য বলে বিশ্বাস করে বা হালাল মনে করে।
- তবে গুনাহ হবে, কারণ এটি হারাম কাজ দেখার মাধ্যমে পাপের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া।
- তাই মুভিটি দেখা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব, কারণ এটি আকীদার দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে।
- তওবা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এরকম মুভি দেখে থাকে।
সেরা পন্থা:
- আকীদা রক্ষার্থে এই ধরনের মুভি দেখা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করুন।
- কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করুন, যাতে শিরক-বিদআত চিহ্নিত করতে পারেন।
- "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য কথা বলো, তাহলে তিনি তোমাদের কাজ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপ মোচন করবেন।" (সূরা আহযাব, ৩৩:৭০-৭১)
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।