নাপাক কাপড়, দরজার হাতল, চেয়ার, টাইলস, মোবাইল ফোন স্পর্শে ভেজা হাত বা কাপড় নাপাক হয় কি না?
Taharah Purity · Hanafi
Question
2) যদি কোন দরজার হাতল, পুরান বার্নিস করা চেয়ার, কাঁচের টাইলস, টিস্যু, মোবাইল ফোন নাপাক থাকে(যার চিহ্ন প্রকাশ পায় না) এবং সেগুলোর সংস্পর্শে যদি অন্য কোন ভেজা হাত/কাপড়/প্লাস্টিক আসে, তাহলে সেগুলোর (হাত/কাপড়/প্লাস্টিক) বিধান কী হবে?
3) আর ঐ হাতল, চেয়ার বা ফোন পাক করার নিয়ম কী হবে (যেমন ফোন সরাসরি পানিতে ধুলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে)।
4) কিছু গেঞ্জি আছে যেগুলো হঠাৎ ভেজা হাতে ছুঁয়ে দিলে ঠিক ভিজে না। এগুলোর ক্ষেত্রে বিধান কী হবে
Answer
নাপাক বস্তুর সংস্পর্শে ভেজা হাত/কাপড়/প্লাস্টিকের বিধান — হানাফি ফিকহ অনুযায়ী বিস্তারিত উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আপনার জিজ্ঞাসিত ৪টি প্রশ্নের ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট শরঈ উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:
১. চিহ্নহীন নাপাক কাপড়ের সাথে ভেজা হাত/পাক কাপড়/প্লাস্টিক লাগার বিধান:
উত্তর:
- নাপাকী স্থানান্তরিত হওয়ার শর্ত: অদৃশ্যমান নাপাকীযুক্ত (যেমন: পেশাব বা নাপাক পানিতে ধোয়া কিন্তু শরীয়তসম্মতভাবে ৩ বার নিংড়ে পাক না করা) শুকনো কাপড়ে যদি কোনো ভেজা হাত, পাক কাপড় বা প্লাস্টিক ছোঁয়ানো হয় এবং ওই নাপাক কাপড়ের আদ্রতা বা নাপাক পানি স্থানান্তরিত হয়ে ভেজা হাত, পাক কাপড় বা প্লাস্টিককে ভিজিয়ে দেয়—তবে চিহ্ন প্রকাশ না পেলেও উক্ত ভেজা হাত, কাপড় বা প্লাস্টিক নাপাক হয়ে যাবে।
- কখন নাপাক হবে না: কিন্তু যদি নাপাক কাপড়টি সম্পূর্ণ শুকনো থাকে এবং আপনার হাত বা কাপড়ের ভিজা ভাব এতই সামান্য হয় যে নাপাক কাপড়ে লাগার পর সেখান থেকে কোনো নাপাক তরী/আদ্রতা হাতে বা পাক কাপড়ে স্থানান্তরিত হয়নি, তবে তা নাপাক হবে না।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড): পৃষ্ঠা: ১৬২ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ, ২য় অনুচ্ছেদ: 'নাপাক বস্তু ও ভিজা বস্তুর সংমিশ্রণে নাপাকী ছড়ানোর ফিকহী বিধান')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৫শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬১–২৬৩ (অধ্যায়: 'নাপাক কাপড়ে তরতালা ও ভিজি ছড়ানোর বিধান এবং ভেজা নাপাক কাপড়ের সংস্পর্শে আসা বস্তু নাপাক হওয়া')।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৮৬–৮৭ (অধ্যায়: 'তহারত ও পানি সংক্রান্ত কিছু জরুরি মূলনীতি — অদৃশ্যমান নাপাকীর ফিকহী হুকুম')।
২. নাপাক হাতল, বার্নিশ করা চেয়ার, কাঁচের টাইলস, মোবাইল ইত্যাদিতে ভেজা হাত লাগার বিধান:
উত্তর:
- নিশ্চিত নাপাকির ক্ষেত্রে: সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিতভাবে যদি জানা থাকে যে এসব আসবাবপত্র নাপাক এবং এতে ভেজা হাত লাগার পর সেই নাপাক আসবাবের তরী/আদ্রতা হাতে বা কাপড়ে লেগে যায়, তবে হাত বা কাপড় নাপাক হবে।
- সন্দেহের ক্ষেত্রে (ওয়াসওয়াসা): যদি নাপাক হওয়াটা সুনিশ্চিত না হয়; বরং নিছক শয়তানি সন্দেহ (ওয়াসওয়াসা) বা দূরবর্তী ধারণার ওপর ভিত্তি করে মনে হয় যে এগুলো নাপাক—তবে ফিকহী মূলনীতি (اليقين لا يزول بالشك) অনুযায়ী উক্ত মোবাইল, হাতল বা চেয়ারকে সম্পূর্ণ পাক ও পবিত্র গণ্য করতে হবে। অহেতুক সন্দেহে হাত বা কাপড় নাপাক হবে না।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড): পৃষ্ঠা: ১৬২ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ — 'নাপাক আসবাব ও শুকনা বস্তুতে স্পর্শের হুকুম')।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৫১ (পরিচ্ছেদ: 'নাজাসাত দূরীকরণ ও বস্তু নাপাক হওয়ার শরঈ শর্তাবলী')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৫শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬২–২৬৩ (অধ্যায়: 'শুকনা ও ভেজা নাপাক আসবাবপত্রের ফতোয়া')।
৩. মোবাইল ফোন, গ্লাস, হাতল বা বার্নিশ করা চেয়ার পাক করার নিয়ম:
উত্তর: মোবাইল ফোন, কাঁচের টাইলস, ধাতব দরজার হাতল, বার্নিশ করা কাঠ ইত্যাদির মতো মসৃণ ও ছিদ্রহীন বস্তু (الأجسام الصقيلة) পানির নিচে ধুয়ে নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।
- পাক করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম: কোনো ভেজা কাপড়, টিস্যু বা ভিজা সুতি নেকড়া দিয়ে ৩ বার ভালোভাবে মুছে ফেললে বা এমনভাবে মুছে দিলে যেন তাতে নাপাকির কোনো অস্তিত্ব না থাকে—তাতেই উক্ত মোবাইল ফোন, হাতল বা মসৃণ আসবাবপত্র শতভাগ পাক ও পবিত্র হয়ে যাবে।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৫১ (পরিচ্ছেদ: 'এমন মসৃণ জিনিস যা পানি চুষে না, যেমন: আয়না, চিনা মাটির বাসন, বার্নিশ করা কাঠ, পালিশ করা বস্তু ইত্যাদি মুছে ফেলার দ্বারা পবিত্র হওয়ার মাসআলা')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড): পৃষ্ঠা: ১২৭ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: 'মসৃণ বস্তু ভেজা কাপড় বা ভিজা তুলা দিয়ে মুছে পাক করার বিধান')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৫শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬৫–২৬৬ (অধ্যায়: 'মসৃণ ও ইলেকট্রনিক বস্তু পাক করার শরঈ পদ্ধতি')।
৪. পানি-প্রতিরোধী (Water-repellent) গেঞ্জিতে ভেজা হাত ছোঁয়ানোর বিধান:
উত্তর: ওয়াটারপ্রুফ বা পানি শুষে নেয় না এমন গেঞ্জিতে যদি কোনো নাপাক ভেজা হাত ছোঁয়ানো হয়: ১. গেঞ্জির উপরিভাগ নাপাক হওয়া: পানি গেঞ্জির সুতার ভেতরে প্রবেশ না করলেও, নাপাক হাতের ভিজা পানি যেহেতু গেঞ্জির ওপরের স্তরে লেগে রয়েছে, তাই গেঞ্জির উপরিভাগের ততটুকু অংশ নাপাক হবে। পানি দিয়ে কেবল উপরিভাগের ওই অংশটুকু ধুয়ে বা ভিজা কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করলেই তা পাক হয়ে যাবে। ২. হাতে আদ্রতা না আসা: আর যদি গেঞ্জিটি আগে থেকে নাপাক থাকে কিন্তু শুকনো থাকে, আর আপনার হাত সামান্য ভেজা অবস্থায় তা স্পর্শ করে কিন্তু ওয়াটারপ্রুফ হওয়ার কারণে গেঞ্জির কোনো নাপাক আদ্রতা হাতে স্থানান্তরিত না হয়, তবে হাত নাপাক হবে না।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড): পৃষ্ঠা: ১৬২ (অধ্যায়: তাহারাত — 'তরল ও আদ্রতা স্থানান্তরিত না হলে বস্তু নাপাক না হওয়ার হুকুম')।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৮২–৮৪ (অধ্যায়: 'কাপড়ে পানি শোষণের ক্ষমতা ও পবিত্রতা অর্জনের শরঈ মানদণ্ড')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৫শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬২–২৬৪ (অধ্যায়: 'ভেজা বস্তু ও শোষণে অক্ষম কাপড়ের ফিকহী বিচার')।
আল্লাহ ভালো জানেন।