মায়ের বদ দোয়া কি সব সময় ই লাগে?

Family Life · Hanafi

Question No: 7527
Questioner: Tawhidul Islam
Question Asked: 29 Oct 2026, 06:44 AM
Reviewed & Published: 29 Oct 2026, 07:27 AM
Views: 43
Tokens: 3,352
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট দুইদিন যাবত সে অসুস্থ ডাক্তার বলেছে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমার মা বলছেন এখন না জাওয়ার জন্য। এখন মায়ের কথা না শুনে ডাক্তারের কাছে গেলে যদি মা কষ্ট পান বা বদ দোয়া দেন তাহলে কি বদ দোয়া লাগবে বা গুনাহ হবে?

Answer

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো: না, মায়ের বদদোয়া লাগবে না এবং এতে গুনাহও হবে না—যদি আপনি চিকিৎসার প্রয়োজনে যান এবং মায়ের অবাধ্যতার নিয়ত না থাকে। তবে মায়ের সাথে নরমভাবে কথা বলে, তাকে বুঝিয়ে, তার সম্মতি ও দোয়া নিয়ে যাওয়াই উত্তম। বিস্তারিত নিচে দিচ্ছি।

১. মূল নীতি: মায়ের আনুগত্য ওয়াজিব, তবে তা আল্লাহর আনুগত্যের শর্তে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ» "সৃষ্টির আনুগত্য নেই স্রষ্টার অবাধ্যতায়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৬২৫; মুসনাদে আহমাদ)

অর্থাৎ মায়ের কথা শোনা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও কর্তব্য, কিন্তু কোনো বৈধ ও জরুরি কাজ (যেমন চিকিৎসা) থেকে বিরত রাখার নির্দেশে তার আনুগত্য বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষত স্ত্রীর জীবন-স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলে চিকিৎসা নেওয়া শরীয়তসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত।

২. মায়ের বদদোয়া কি লাগে?

  • বদদোয়া কোনো শরয়ি শাস্তি বা গুনাহের কারণ নয়; এটি একটি সামাজিক-আবেগিক বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

    «وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ» "আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (বলো) আমি নিকটেই।" (সূরা বাকারা: ১৮৬)

  • মায়ের বদদোয়া আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটায় না; আর ন্যায়সঙ্গত কাজে মায়ের অসন্তোষ আল্লাহর অসন্তোষ নয়। হাদিসে এসেছে:

    «إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ» "আনুগত্য তো কেবল নেক কাজে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস ৭২৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮৪০)

  • তবে মা কষ্ট পেলে আপনি সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তার খেদমত ও সন্তুষ্টি অর্জনে ত্রুটি হবে—এটি আখলাকি ও পারিবারিক দিক থেকে ক্ষতিকর। তাই চেষ্টা করুন তাকে বুঝিয়ে রাজি করাতে।

৩. গুনাহ হবে কি?

না, গুনাহ হবে না, কারণ:

  • স্ত্রীর চিকিৎসা নেওয়া বৈধ ও প্রয়োজনীয়; ডাক্তারও বলেছেন।
  • মায়ের নির্দেশ এখানে "মা'রূপে" নয়, বরং একটি ভুল পরামর্শ হিসেবে গণ্য; আর ভুল পরামর্শে আনুগত্য ওয়াজিব নয়।
  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেছেন, পিতা-মাতার আনুগত্য ওয়াজিব কেবল বৈধ ও শরীয়তসম্মত কাজে; নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর কাজে নয়। (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৭-এর কাছাকাছি আলোচনা; «আল-হিদায়া» ও «ফাতাওয়া আলমগিরি»-তেও এ নীতি সুস্পষ্ট)

৪. করণীয় (ব্যবহারিক পরামর্শ)

  1. নরমভাবে বুঝান: মাকে বলুন, "আম্মু, ডাক্তার বলেছেন দুই দিন অসুস্থ, ঝুঁকি থাকতে পারে; আপনি দোয়া করুন, আল্লাহ হেফাজত করুন।"
  2. সম্মতি ও দোয়া নিন: সম্ভব হলে মাকে সাথে নিন বা তার দোয়া নিয়ে বের হন—এতে তার কষ্ট কমবে।
  3. জরুরি হলে যান: স্ত্রীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলে বিলম্ব করবেন না; প্রয়োজনে অন্য আত্মীয়কে সাথে নিয়ে মাকে বোঝান।
  4. ফিরে এসে খেদমত করুন: ফিরে এসে মায়ের খেদমত, সালাম-কদমবوسی ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন; এতে সম্পর্ক ঠিক থাকবে।
  5. দোয়া করুন: «رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا» (সূরা ইসরা: ২৪) পড়ে মায়ের জন্য দোয়া করুন।

৫. উপসংহার

  • মায়ের বদদোয়া লাগবে না, গুনাহও হবে না—যদি উদ্দেশ্য চিকিৎসা হয় এবং মায়ের অবাধ্যতার নিয়ত না থাকে।
  • তবে মাকে বুঝিয়ে, তার দোয়া ও সম্মতি নিয়ে যাওয়া সর্বোত্তম; এতে দ্বীনি ও পারিবারিক উভয় দিক রক্ষা পাবে।
  • স্ত্রীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলে দেরি করা ঠিক নয়; প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

মূল রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ ২৬২৫; সহিহ বুখারি ৭২৫৭; সহিহ মুসলিম ১৮৪০; সূরা বাকারা ১৮৬; সূরা ইসরা ২৪; রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন); আল-হিদায়া; ফাতাওয়া আলমগিরি; ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.); ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি)।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.