ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ড্রামা দেখার বিধান।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 749
Questioner: আমাতুল্লাহ
Question Asked: 25 May 2026, 04:00 PM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 04:07 PM
Views: 97
Tokens: 3,532
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১]বিভিন্ন কোরিয়ান বা চাইনিজ ও অন্যান্য ড্রামা দেখ কি হারাম? কিস করা,জড়িয়ে ধরা এগুলো দেখলে কি পর্নোগ্রাফি দেখার মতো গুনাহ হয়? যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কারো দিকে বারবার তাকাই যে নন-মাহরাম অথবা মোবাইলে কোনো ছেলের দিকে তাকাই এমনকি তাকে খালি গাশে দেখি শুধু উপরের অংশ এগুলো কি পর্নোগ্রাফি দেখার মতো গুনাহ হবে?সব চোখের যীনার শাস্তি কি এক?আর কি শাস্তি হবে? ঘরের মধ্যে কেউ যদি খালি গায়ে বা সেন্টার গেঞ্জি পড়া থাকে আিকন হাতার তার দিকে যদি না চাইতেও চোখ যায় বারবার গুনাহ হবে?
২] হস্তমৈথুনের বিস্তারিত কি?
স্বামী প্রবাশে থাকলে যখন একা থাকা কষ্টকর হয়ে যায় তখন যদি সহবাসের রাস্তায় কিছু প্রবেশ না করে বাকি অংশ যেমন ক্লিটোরিস ইত্যাদি হাত ছাড়া ঘর্ষণের মাধ্যমে যৌন তৃপ্তি নেওয়া হয় তাহলে কি হস্তমৈথুনের মধ্যে পড়ে বা গুনাহ হবে ?যেমন বিশেষ করে যদি পানি বা অন্যান্য কিছু দিয়ে ঘর্ষণ করা হয়।
৩]এমন গল্প কি পড়া জায়েজ হবে যেখানে অশ্লীলতা আছে?
বা এমন গল্প যেখানে কিছু রোমান্টিক মূহুর্তের কথা উল্লেখ আছে।
৪]নিজের ব্রেস্ট নিজে চুষা কি গুনাহের কাজ?
৫] না চাইতেও বিভিন্ন মানুষকে নিয়ে অনেক অশ্লীল চিন্তা মাথায় ঘুরলে করনীয় কি?
৬]বেশিরভাগ সময় নামাজের শেষ সময় নামাজ আদায় করলে কি গুনাহ হবে এর থেকে বাচার উপায় কি?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين

উত্তর:

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর নিম্নে ক্রমান্বয়ে দেয়া হলো—


১] ড্রামা দেখা ও নন-মাহরামের দিকে তাকানো

➤ **কোরিয়ান/চাইনিজ ড্রামা বা অন্যান্য ড্রামা দেখা নাজায়েজ, হারাম।

কিসিং বা জড়িয়ে ধরা দেখলে তা পর্নোগ্রাফি দেখার মতোই গুনাহ—কারণ এটি চোখের জিনা ও অশ্লীলতার প্রচার।
ইচ্ছাকৃতভাবে নন-মাহরামের দিকে তাকানো বা খালি গায়ে দেখাও চোখের জিনা
চোখের জিনার শাস্তি:

  • হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “চোখের জিনা হলো (নিষিদ্ধ) দিকে তাকানো।” (বুখারি, মুসলিম)
  • দুনিয়ায়: অন্তরের অন্ধকার, ইবাদতে অনীহা, গুনাহের প্রতি আসক্তি।
  • আখিরাতে: আল্লাহর শাস্তি, তবে তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।
    দালিল: ইচ্ছাকৃত তাকানো স্পষ্ট গুনাহ। আল্লাহ বলেন, “মুমিনদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করুক।” (সূরা নূর ২৪:৩০)

২] হস্তমৈথুন (Masturbation)

হস্তমৈথুন সাধারণত হারাম

উপায়:

  • রোজা রাখা
  • বিবাহের চেষ্টা করা
  • আল্লাহর কাছে দুআ করা
  • বেশি বেশি নফল ইবাদত করা

৩] অশ্লীল বা রোমান্টিক গল্প পড়া

অশ্লীল গল্প পড়া জায়েজ নয়—কারণ এটি অশ্লীলতা প্রচার ও কুপ্রবৃত্তি জাগায়।
রোমান্টিক মুহুর্তের বর্ণনা থাকলে যদি তা কামোত্তেজক হয়, তাহলেও পড়া নিষেধ।
দালিল: আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ অশ্লীলতা প্রকাশ পছন্দ করেন না।” (সূরা নূর ২৪:১৯)


৪] নিজের স্তন নিজে চুষা

এটি গুনাহের কাজ—কারণ এটি কামোত্তেজক কাজ ও নফসের অনুসরণ।
এতে ইচ্ছাকৃতভাবে যৌন তৃপ্তি নেওয়া হলে গুনাহ বাড়ে।
তাওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক।


৫] অশ্লীল চিন্তা মাথায় আসলে করণীয়

  • আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পড়া
  • বিসমিল্লাহ বলে অন্য কাজে মনোনিবেশ করা
  • লাজুকতা ও লজ্জা অর্জন করা
  • আল্লাহর কাছে দুআ করা
  • গুনাহের পরিণাম স্মরণ করা

৬] শেষ সময়ে নামাজ আদায় করা

শেষ সময়ে নামাজ পড়া মাকরূহ (অপছন্দনীয়)—যদি ওয়াক্তের শেষ প্রান্ত ধরা হয়, তবে আদায় হয়।
তবে শেষ সময়ে পড়লে গুনাহ হয় না যদি ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হয়।
উপায়:

  • সময় থাকতে নামাজ পড়ার অভ্যাস তৈরি করা
  • আযানের পরই নামাজ আদায় করা
  • তাওবা করা ও দৃঢ় সংকল্প করা

সারসংক্ষেপ:

  • অশ্লীল ড্রামা/গল্প দেখা-শোনা হারাম।
  • নন-মাহরামের দিকে ইচ্ছাকৃত তাকানো গুনাহ।
  • **হস্তমৈথুন নাজায়েজ, বিয়ের চেষ্টা বা রোজা রাখা বিকল্প পথ।
  • অশ্লীল চিন্তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।
  • নামাজ যথাসময়ে আদায় করা সর্বোত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালালের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন এবং হারাম থেকে দূরে রাখুন। (আমিন)


📚 রেফারেন্স:

  • আল-কুরআন (সূরা নূর ২৪:৩০-৩১)
  • সহিহ বুখারি ও মুসলিম (চোখের জিনার হাদিস)
  • রদ্দুল মুহতার (১/২৫৮)
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৪৫০)
  • বেহেশতি জেওর (অধ্যায়: জিনা ও অশ্লীলতা)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.