ওয়াসওয়াসা, বাবার হাত না ধোয়া, নাপাক কাপড় দড়িতে মেলানো, বিড়ালের পেশাব, মুরগির গায়ে শেয়ালের লালা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই?
Taharah Purity · Hanafi
Question
১.বাড়ির অন্য সদস্য নাপাকি নিয়ে সচেতন নয়।আমার করণিয় কি। আমার বাবা পেশাব পায়খানার পর পেশাব পায়খানার জায়গা ধোয়ার পর আর হাত ধোয় না।সাবান তো নেয়ই না।এতে কি তার হাত নাপাক থাকে? সে এই হাত দিয়ে বাথরুমের হাতল ধরে ভেজা হাতেই।বদনা, মোবাইল, রিমোট, গ্লাস, জগ,গামছা।সবই ধরে আমি এগুলো ধরি, হাত তো সবসময় শুকনো থাকে না ভেজা বা ঘেমেও থাকে।তাহলে কি সবকিছু নাপাক?
২.আমার বাড়ির অনেকে পেশসব করে পানি নেয় না।আমার সামনেই তারা সেই অদৃশ্য নাপাকির কাপড় একবার ভালো করে ধোয় কি ধোয় না আবার ভালোভাবে না চিপেই দড়ি ও তারে মেলে দেয়।আমিও সেখানেই দেই।এমনকি আগে আমি নাপাকি নিয়ে সচেতন না থাকার কারণে আমিও নাপাক কাপড় দড়ি ও তারে দিতাম।তাহলে এখন আমার সব পবিত্র কাপড় কি নাপাক হয়ে গেছে।কাপড় চিপতে চিপতে আমার হাত একদম পাতলা হয়ে গেছে।আমার তিনটা রুমে ছাওনি আছে। এতে দুই জোড়া করে কাঠের বাটাম আছে।এগুলোতেই আমার ভেজা কাপড় মেলে দেয়া হতো।সবাই তাই দেয়।মোট ছয়টি বাটাম সবকি নাপাক হয়েছে? যেহেতু নাপাক ভেজা কাপড় এতে দেওয়া হয়েছিল ও এখনো অনকে দেয়? তাহলে এতদিন সেই দড়ি,ছাওনিতে মেলা আমার শুকানো পাক কাপড় কি নাপাক ধরব?
৩.আমাদের একটা কম্বলে বিড়াল পেশাব করেছিল কিন্তু ধোয়া হয় নি।এই কম্বলের একসাইডে পেশাব করেছিল কিন্তু তা আর খুজে পাওয়া যায় না।আমরা অনেক সময় ভেজা হাত,হাতমুখ বা গোসল করে এসে ভেজা হাত পায়ে কম্বলটি গায়ে দেই যার কারণে কম্বল এর কিছু কিছি অংশ ভিজে যায়।এতে কি আমাদের শরীর নাপাক হয়ে যাবে? এই ভেজা হাতে কম্বল ধরে মোবাইল, রিমোট, লাইটের সুইচ,চিরণি সবই ধরা হয় এতে কি সব নাপাক হয়ে যাবে?
৪. মুরগী শেয়াল কামড়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ফেলে যায় এতে করে তার গায়ে তো নাপাক লালা লাগে।এই নাপাক লালা সহ সে অন্য মুরগির সাথে খোপে থাকে।এখন কি সেই মুরগিকে ধুয়ে পাক করতে হবে? যদি বাকি মুরগির সাথে মিশে যায়? মুরগী গিলোকে যখন খেতে দেওয়া হয় একটি ঘামলায় তারা খায় খাবর পানি সহ তরল করা থাকে।মুরগী গুলো খেতে খেতে সেই ঘামলায় উঠে পরে এতে করে তার গায়ের নাপাক লালাও ঘামলায় লাগে।অন্য মুরগী খাওয়ার সময় তার গায়েও লাগে।এখন কি তাহলে সব মুরগী নাপাক হবে? আবার এই গামলাতে হাত ূিয়ে খাবার মাখানো হয় এবং হাত না ধুয়েই মুরগী ঘরের চারটি ঘরের দরজার হাতল লাগানো হয়।এতে করে কি সব নাপাক হয়ে যাবে?
৫.বিড়াল একটি কম্বলে থাকে এতে সে অনেকবার পায়খানা করার পরও ধোয়া হয় নি। সে রাতে এখানেই থাকে।এখন সে তার শরীর চাটায় সময় তো এই কম্বলের নাপাকি তার গায়ে লাগে এবং সে নাপাক হয়ে যায় আর সে তো তার মাথা ও ঘারের সাইডে চাটতে পারে না।তার মাথাতেও তো নাপাকি লাগে।এখন সে ঘরে বিছানায় ওঠে, কোলে ওঠে বা ভেজা হাতে তাকে ধরলে কি নাপাক হয়ে যাবো? আমি এই কম্বলটু ধুতে চাই না।আর গতবছর হুট করেই একটা কুকুর এখানে শুয়ে ছিল তার লালা লাগতেও পারে।এতে কি বিড়াল নাপাক থাকবে?
সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে জানতে চাইছি।
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাব
আপনার মনে আসা এই তীব্র মানসিক দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি ও ওয়াসওয়াসা (অহেতুক সন্দেহ) অত্যন্ত অনুধাবনযোগ্য। শরীয়তের নিয়ম না জানার কারণে শয়তান মানুষকে এমন সূক্ষ্ম সন্দেহে ফেলে কষ্ট দেয় এবং দৈনন্দিন জীবনকে বিষময় করে তোলে।
প্রথমেই আপনাকে স্পষ্টভাবে জেনে রাখতে হবে—ইসলামী শরী'আতে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো কিছুকে নাপাক ধরা সম্পূর্ণ নাজায়েয। ফিকহের মৌলিক কিতাবসমূহে বর্ণিত মূলনীতি হলো: "নিশ্চিতভাবে যা পবিত্র, তা কেবল সন্দেহের কারণে নাপাক হয়ে যায় না"।
হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাব থেকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ আপনার প্রতিটি জিজ্ঞাসার বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট শরঈ সমাধান নিচে উপস্থাপন করা হলো:
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (বাবার হাত ও বাথরুমের আসবাবপত্র স্পর্শ করা):
উত্তর: আপনার বাবার হাত এবং বাথরুমের হাতল, বদনা, রিমোট, গ্লাস, জগ, গামছা ইত্যাদি সবকিছুই সম্পূর্ণ পাক ও পবিত্র। এগুলো নিয়ে কোনো সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
- হাত ধোয়ার শরঈ নিয়ম: ইস্তিনজা বা বাথরুম ব্যবহারের পর পানি দিয়ে শৌচকার্য সম্পন্ন করে পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললেই হাত পবিত্র হয়ে যায়। সাবান ব্যবহার করা উত্তম পরিচ্ছন্নতা, তবে শরী'আতের বিচারে হাত পাক হওয়ার জন্য সাবান শর্ত নয়।
- নাপাকী স্থানান্তরের নিয়ম: শুকনো হাত বা ঘেমে যাওয়া হাত দিয়ে কোনো বস্তু স্পর্শ করলে, কিংবা ভেজা হাত দিয়ে কোনো শুকনো জিনিস স্পর্শ করলে নাপাকী এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয় না; যতক্ষণ না সেই বস্তুতে নাপাকির দৃশ্যমান রং, গন্ধ বা আদ্রতা স্পষ্ট দেখা যায়। তাই আপনার স্পর্শ করা আসবাবপত্রগুলো নাপাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ২১ ও ২২ (পরিচ্ছেদ: 'ইস্তিনজার বর্ণনা ও হাত ধৌত করার নিয়ম')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৯ (অধ্যায়: তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: 'ইস্তিনজার পর হাত ধোয়ার বিবরণ'); এবং ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬২ (পরিচ্ছেদ: 'নাপাক বস্তু ও ভিজা বস্তুর সংমিশ্রণে নাপাকী ছড়ানোর বিধান')।
- কাওয়াইদুল ফিক্বহ: পৃষ্ঠা: ১২১ (ফিকহী কায়দা: 'নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা বাতিল হয় না')।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (কাপড় শুকানোর তার, দড়ি, কাঠের বাটাম ও কাপড়ের পবিত্রতা):
উত্তর: আপনার তিনটি রুমের ছাওনির কাঠের বাটাম, দড়ি, তার এবং পূর্বে বা বর্তমানে সেখানে মেলানো আপনার সকল শুকানো পাক কাপড় শতভাগ পবিত্র। অহেতুক কাপড় বারবার চিপে হাত পাতলা করে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
- শুকালেই বস্তু পবিত্র হওয়ার নিয়ম: যে দড়ি, তার বা কাঠের বাটামে কোনো নাপাক ভেজা কাপড় মেলা হয়েছিল, তা শুকিয়ে যাওয়ার পর যদি তাতে নাপাকির কোনো স্পষ্ট অস্তিত্ব (যেমন: পায়খানা-পেশাবের ভিজা ভাব, রং বা গন্ধ) না থাকে, তবে তা সাধারণ বিচারে পবিত্র হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আপনার ভিজা বা শুকনো ভালো কাপড় মেললে আপনার কাপড় মোটেও নাপাক হবে না।
- কাপড় নিংড়ানোর শরঈ সীমা: হাত চিপে পাতলা করার দরকার নেই। অদৃশ্যমান নাপাকীযুক্ত কাপড় ৩ বার ধুয়ে স্বাভাবিকভাবে হাত দিয়ে নিংড়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়া বন্ধ হলেই কাপড় পাক হয়ে যায়। এরপর তা দড়িতে মেলে দিলে তা পুরোপুরি পাক গণ্য হবে।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৫১ (পরিচ্ছেদ: 'নাজাসাত দূরীকরণ, জমি ও কাষ্ঠ শুকিয়ে পাক হওয়ার বিবরণ')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬২ (পরিচ্ছেদ: 'নাপাক কাপড়ের ওপর পাক কাপড় রাখলে বা শুকানোর স্থানে দিলে নাপাক না হওয়ার হুকুম')।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৮৬–৮৭ (অধ্যায়: 'কাপড় ধোয়া, নিংড়ানো ও ওয়াশিং মেশিনের কাপড়ের ফিকহী হুকুম')।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (কম্বলে বিড়ালের পেশাব ও ভেজা হাত-পা লাগানো):
উত্তর: উক্ত কম্বল স্পর্শ করা বা ভেজা হাত-পা লাগার কারণে আপনার শরীর, মোবাইল, রিমোট, লাইটের সুইচ, চিরুনি ইত্যাদি কিছুই নাপাক হয়নি।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
- কম্বলের নির্দিষ্ট এক সাইডে বিড়াল প্রস্রাব করেছিল, যা এখন আর দেখা বা বোঝা যায় না। ফিকহের নিয়ম হলো—শুকনো নাপাক জায়গার ওপর ভেজা হাত লাগলে হাত তখনই নাপাক হবে, যদি নাপাকির আর্দ্রতা বা গন্ধ-রং হাতে স্পষ্ট লেগে আসে।
- যেহেতু পুরো কম্বল শুকনো এবং ভেজা হাতে ধরার পরও তাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন বা দুর্গন্ধ হাতে আসে না, তাই হাত বা স্পর্শ করা অন্যান্য জিনিসপত্রের কোনোটিই নাপাক হবে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা নিছক শয়তানের ওয়াসওয়াসা।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬২ (পরিচ্ছেদ: 'শুকনো নাপাক বস্তুতে ভেজা হাত বা কাপড় লাগার ফিকহী বিধান')।
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ১৮ ও ৫১ (পরিচ্ছেদ: 'নাপাকির স্থান অস্পষ্ট হওয়া ও তা দূরীকরণের নিয়ম')।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (শিয়ালের কামড়ের মুরগি, খাবারের গামলা ও দরজার হাতল):
উত্তর: না, কোনো মুরগী, খাবারের গামলা বা ঘরের দরজার হাতল নাপাক হয়নি।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
- শিয়ালের লালা নাপাক হলেও, শিয়াল মুরগিটিকে কামড়ে ধরে ফেলে দেওয়ার পর মুরগির গায়ে সত্যিই লালা লেগেছিল কি না—তা সুনিশ্চিত নয়, বরং নিছক একটি অনুমান বা সন্দেহ।
- ফিকহের সর্বসম্মত নিয়ম হলো—শরীয়তে কোনো বস্তুকে নাপাক প্রমাণ করতে হলে তা সুনিশ্চিত হতে হয়। দূরবর্তী ধারণার ওপর ভিত্তি করে মুরগির গামলা বা দরজার হাতলকে নাপাক মনে করা শরী'আতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুতরাং মুরগিও পাক, গামলাও পাক এবং ঘরের দরজার হাতলও সম্পূর্ণ পাক।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- কাওয়াইদুল ফিক্বহ: পৃষ্ঠা: ১২১ (কায়দা: 'অহেতুক অনুমান ও সন্দেহে বস্তু নাপাক না হওয়া')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬২ (অধ্যায়: তাহারাত, 'নাপাকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলে বস্তু পাক থাকার বিধান')।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৫৩ ও ৮৭ (পরিচ্ছেদ: 'উমূমে বালওয়া ও সন্দেহ দূর করার শরঈ নিয়ম')।
৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (বিড়ালের শরীর স্পর্শ, কম্বল ও এক বছর আগের কুকুরের সন্দেহ):
উত্তর: বিড়াল আপনার কোলে উঠলে, বিছানায় উঠলে বা আপনি তাকে ভেজা হাতে ধরলে আপনি বা আপনার কাপড় মোটেও নাপাক হবেন না।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ:
- বিড়াল স্বয়ং পবিত্র প্রাণী: রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন— "বিড়াল কোনো নাপাক প্রাণী নয়; এটি তোমাদের আশেপাশে ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তনকারী প্রাণী।"
- বিড়াল শরীর চাটার বিধান: বিড়ালের মুখে স্পষ্ট দৃশ্যমান কোনো কাঁচা নাপাকী (যেমন: বিষ্ঠা) না থাকলে, বিড়াল শরীর চাটলে বা চাটার পর তা শুকিয়ে গেলে বিড়ালের শরীর সম্পূর্ণ পবিত্র থাকে।
- আগের বছরের কুকুরের লালার সন্দেহ: গত বছর কুকুর শুয়েছিল কি না বা লালা লেগেছিল কি না—এই এক বছর পর আসা অবাস্তব সন্দেহ শরীয়তে কোনো আমলযোগ্য বিষয় নয়। ফিকহ অনুযায়ী দৃশ্যমান নাপাকী ছাড়া কোনো কিছু নাপাক হয় না। তাই আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকুন।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ১৭ (অনুচ্ছেদ: 'উচ্ছশিষ্টের বিধান — বিড়ালের মুখের ও শরীরের শরঈ হুকুম')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৭ ও ১৬১–১৬২ (পরিচ্ছেদ: 'বিড়ালের ঝুটা ও গৃহপালিত প্রাণীর স্পর্শের ফতোয়া')।
- কাওয়াইদুল ফিক্বহ: পৃষ্ঠা: ১২১ (ফিকহী কায়দা: 'অবশ্যম্ভাবী সন্দেহ পরিত্যাগ করা ওয়াজিব')।
আপনার জন্য বিশেষ মানসিক পরামর্শ:
শয়তান আপনাকে মানসিকভাবে কাবু করার জন্য এবং ইবাদত ও সংসার থেকে ক্লান্ত করে তোলার জন্য এসব ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে। যখনই মনে এসব অহেতুক সন্দেহ আসবে, মনে মনে বলুন— "শরীয়তে অনুমানে নাপাক হয় না, আমার সবকিছুই পাক।" এরপর আর কোনো জিনিস দ্বিতীয়বার ধুতে যাবেন না। বেশি বেশি "আ'ঊজু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম" এবং "লা-হাউলা ওয়া লা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পাঠ করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক ফিকহি বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।
আল্লাহ ভালো জানেন।