স্বামীর অনুমতি ছাড়া পড়াশোনা ও চাকরি করা কি জায়েজ? স্বামীর অস্পষ্ট বক্তব্য কি নিষেধ হিসেবে গণ্য? বিশেষজ্ঞ না হয়ে ডাক্তারি প্র্যাকটিস করা কি গুনাহ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
হাজব্যান্ড (ডাক্তার) উনি,আমি নিজেও ডাক্তার। তিনি আমাকে বলেছেন, আমার post-graduation এর সমস্ত দায়িত্ব আমার, আমি এখন কি করবো, কিভাবে করব, চাইলে বাইরে হোস্টেলে থেকেও করতে পারি, আমার নাইট ডিউটি, ডে ডিউটি কোন কিছুতেই সে ইনভল্ভ থাকতে চায় না, সে এখানে একটা ক্লিয়ার লাইন দাঁড় করাতে চায়, এবং কোর্স কমপ্লিট করার পর আমি কি করবো পুরোপুরি দায়ভার আমার। সে এখানে কোন দায়িত্ব কোনভাবেই নিতে পারবে না।
মাঝে, একবার ইসলামিক ইউটিউব ভিডিও দেখায় আমাকে বলছিল, তোমার চোখের পর্দা নেই? পরপুরুষ কে দেখছো? কন্ঠের পর্দা কোথায়? অন্য পর পুরুষের কন্ঠ শুনছো?
এটা কি তোমার জন্য জায়েজ কিনা?
তাকে এই রিলেটেড কোন কিছুই বোঝানো সম্ভব না।
তার সাথে এগুলি নিয়ে কথা বলতে গেলে তুলকালাম কান্ড বেঁধে যায়।
বাসায় কাজের মহিলা রাখলে, সেই মহিলা সমস্ত খরচ আমাকে বহন করতে হবে (যদিও সে আগে এগুলি বহন করতো, এখন তার স্যালারি ও কিছুটা কমে গিয়েছে, আসলে এটা আমার কাছে তেমন কোন ফ্যাক্ট না) কিন্তু সে মুখে বলেছে, আমি চাইলে যেকোনো কিছু করতে পারি, এতে সে কখনো কিছুতে বাধা দিবে না। তার এখানে কোন কিছু বলার নেই। এগুলি সে তার পরিবারের সামনে বলেছে। তার পরিবারের মানুষজন চায় আমি ডাক্তারি করি ও দ্বীনদার ডাক্তার হই। কিন্তু,
তার ভাষায় সে এত কিছু করার পরেও -,আমি নাকি তার কনট্রিবিউশন দেখতে পাইনি। যদিও, তার এই ধারণা অনেকাংশে তার মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর জন্য।
উপরোক্ত কথাগুলি কি নেগেটিভ হিসেবে ধরে নিব? ক্লিয়ার কাট কিছু বুঝতে পারছি না.৷ এদিকে তার পরিবার একদিকে আমাকে চাপ দিচ্ছে, আমি যদি পিছিয়ে যাই, কোর্সটা কমপ্লিট না করি (তিন বছরের মত বাকি) তাহলে, তারা ভাববে আমি ভয় পেয়ে পিছিয়ে গিয়েছি, কোর্স কমপ্লিট করতে আমার ভয় আছে. অনেক পড়াশোনা সেজন্য পারবো না. আসলে তেমনটা নয়। তারা বিভিন্ন কথায় আমাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়। আমার স্বামী উল্টো তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে আমার দোষ শুনিয়ে দেয়। এতে করে তারা আরো সুযোগ পায়।
এখন আমার স্বামীর উপরোক্ত কথাগুলি,
এই কথাগুলো কি তার অনুমতি দেয়া নয় ধরে নিব? এ ব্যাপারে তার সাথে আর কোন ক্লিয়ার কাট কথা বলা যাবে না। সে এখানে এবং আমার পোস্ট গ্রাজুয়েশন টপিক নিয়ে পুরোপুরি কথা বলতে নিষেধ করে দিয়েছে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া তো কিছু করা যায় না, বাইরের কোন জব।
এটা কি তার অনুমতি না দেয়া ধরে নিব? জয়েন করলে, তাহলে কি আমি গুনাহগার হবো? নাকি অনুমতি দেয়া ধরে নিব? অথবা এখন আমার কি করা উচিত? ইস্তেখারা করছি কিছু বুঝতে পারছি না। আমার স্বামীর কথাগুলো কি আমি নেগেটিভ ধরে নিব? নাকি কন্টিনিউ করব? আমার স্বামী তার ভাই বোনের উপরে কোন কথা বলতে পারেন না. সেজন্য ক্যারিয়ারের বিষয়ে তারা কিছু বললেও, উনি সরাসরি কখনোই না বলতে পারেন না। আবার ওনার ভাই বোনের কথা না শুনলেও বলেন, তার বোন আলমের ফতোয়া এনে দিলেও আমি সেটা গ্রহণ করি না। এক্ষেত্রে তার উক্ত কথাগুলিকে আমি কিভাবে ধরে নিব? তার অনুমতি দেয়া নাকি না দেয়া? এক্ষেত্রে আমি গুনাগার হব কিনা? স্বামীর হুকুম মানা যেহেতু ওয়াজিব। এখানে আমার কি গুনাহগার হওয়ার কোন চান্স আছে। তার কথাগুলি দয়া করে উপরের দিকে লিখা হয়েছে। কাইন্ডলি চেক করে জানাবেন। ক্লিয়ারলি উনি বলেন নাই আমার ক্যারিয়ারে ওনার অসম্মতি আছে, কিন্তু, উনি আমার ক্যারিয়ারের সম্পর্কে কিছুই শুনতে চান না, কোনরকম কিছুতে উনি সাহায্য করতে পারবেন না। উনি কেবল আমার ভরণপোষণ দিবেন। আমার পড়াশোনা, আমার জব (গাইনিতে চাকরি অবশ্যই দীনের খাতিরে করা, আমি মাঝখানে গ্যাপ নিয়েছিলাম, অনেক বেশি দীনের বুঝ আসায় । ভাবছিলাম সাহাবাদের মত জিন্দেগি লিড করব, কিন্তু পারিপার্শ্বিক আচরণ, বারবার মনে করায় দিচ্ছে, এবং বিভিন্নভাবে অবহেলিত ও ছোট হচ্ছিলাম। ডিপ্রেশনে কিছুটা ভর করেছিল। আমার ননাসের ভাষায়, আমি যদি মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে পড়াশোনা শেষ করি সেক্ষেত্রে, নিজের একটা পরিচয় হবে যার মাধ্যমে দ্বীনের কাজ করাটা সহজ হবে। আমি নিজেও ডিপ্রেশনের পড়ব না হয়তো ইনশাআল্লাহ। এমতাবস্থায় স্বামীর উক্ত কথাগুলোর প্রেক্ষিতে আমি কোনটিকে ধরে নিব? অনুমতি দেয়া নাকি না দেয়া? গুনাগার হব কিনা যদি কন্টিনিউ করি?
২।কাইন্ডলি আমার আরেকটা প্রশ্ন রয়েছে,
উনার এবং উনার বড় বোনের ধারণা, হয়তো তারা কোথাও পড়েছে,
"কোন একটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না হয়ে কেউ পেশেন্ট ট্রিট করতে পারবেনা। এর জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবে। এমতাবস্থায় এই হাদিসটা কি, আমার জন্য কার্যকর হবে, যে এমবিবিএস পাশ করার পর, দুই বছর রেসিডেন্সি ট্রেনিং করেছি, এখন যদি জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে প্র্যাকটিস করতে চাই, সে ক্ষেত্রে কি আমি গুনাগার হবো? আমি তো বিশেষজ্ঞ নই. এই হাদিসের সত্যতা কতটুকু?বিশেষজ্ঞ না হলে এমবিবিএস পাশ করার পর সাধারণত সব রোগী দেখতে পারা যায়। হাদিস অনুযায়ী এক্ষেত্রে কি কোন বাধ্যবাধকতা আছে? অবশ্যই সবাইকে বিশেষজ্ঞ হয়ে তারপর রোগী দেখতে হবে?
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আপনার সার্বিক পরিস্থিতি, স্বামীর মনোভাব এবং ক্যারিয়ার ও দ্বীনী অবদানের বিষয়ে আপনার গভীর চিন্তা ও অনুভূতি মনোযোগের সাথে অনুধাবন করলাম। একজন চিকিৎসক হিসেবে উম্মতের খেদমত এবং নিজের দ্বীনদারী বজায় রাখার যে মানসিকতা আপনার মধ্যে রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা তাতে বরকত দান করুন।
আপনার উত্থাপিত প্রতিটি প্রশ্ন ও জটিলতার ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য কিতাব থেকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত শরঈ সমাধান নিচে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো:
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:
আপনার স্বামী আপনাকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন করতে সরাসরি নিষেধ করেননি; বরং তিনি বলেছেন— "তুমি চাইলে যেকোনো কিছু করতে পারো, এতে আমি কখনো বাধা দেব না, আমার এখানে কিছু বলার নেই।" ফিকহে হানাফীর দৃষ্টিতে এটি একটি অনাপত্তি ও ইজাজত (অনুমতি) হিসেবে গণ্য। সুতরাং, আপনি যদি শর'ঈ পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করে আপনার পোস্ট-গ্রাজুয়েশন (গাইনি কোর্স) কন্টিনিউ করেন, তবে আপনি ফিকহের দৃষ্টিতে বিন্দুমাত্র গুনাহগার হবেন না এবং স্বামীর অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবেন না।
বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ:
১. স্বামীর বক্তব্যকে কি অনুমতি নাকি অসম্মতি হিসেবে ধরে নেবেন?
- অনুমতি সাব্যস্ত হওয়া: ফিকহে হানাফীর মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো কাজের বিষয়ে স্বামী যদি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বা বারণ না করে বলেন যে— "তুমি চাইলে করতে পারো, আমি বাধা দেব না, এতে আমার কিছু বলার নেই" এবং কেবল এ কথা জানান যে পড়ালেখার খরচ ও দায়িত্ব আপনাকে নিজেকে নিতে হবে, তবে এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে 'ইজাজত বিদ্দালালাহ' (অনাপত্তি ও বাহ্যিক অনুমতি) হিসেবে বিবেচিত হয়।
- কথা না বলা বা নিষেধ না করা: তিনি যেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে আর কোনো আলোচনা করতে চান না এবং বাধা দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাই এটিকে 'অসম্মতি' বা 'নিষেধ' ভাবার কোনো শর'ঈ কারণ নেই।
২. কোর্স কন্টিনিউ করলে আপনি গুনাহগার হবেন কি না?
- গুনাহগার না হওয়া: স্ত্রীর জন্য স্বামীর কথা মানা তখনই ওয়াজিব এবং অবাধ্যতা (নুশূয) তখনই গুনাহের কারণ হয়, যখন স্বামী স্পষ্ট ও সরাসরি কোনো বৈধ কাজে স্ত্রীকে বারণ করে। যেহেতু আপনার স্বামী আপনাকে স্পষ্ট নিষেধ করেননি, বরং নিজের দায়িত্ব না নেওয়ার কথা বলে আপনাকে ছাড় দিয়েছেন, তাই এই কোর্স কন্টিনিউ করলে বা চাকরি বজায় রাখলে আপনার কোনো গুনাহ হওয়ার সুযোগ নেই।
৩. পড়ালেখা ও বুয়ার খরচের শরঈ বিধান:
- পড়ালেখার খরচ: স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য মৌলিক খোর-পোশ (আহার, পোশাক, বাসস্থান ও সাধারণ চিকিৎসা) বহন করা শর'ঈভাবে ওয়াজিব। তবে স্ত্রীর উচ্চতর পোস্ট-গ্রাজুয়েশন বা ক্যারিয়ারের খরচ বহন করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব নয়। তাই স্বামী যদি বলেন যে আপনার পড়ালেখার দায়িত্ব আপনাকে নিজেকে নিতে হবে, তবে এতে স্বামীর ওপর শর'ঈ কোনো বকেয়া থাকে না এবং আপনি নিজ খরচে পড়ালেখা করলে কোনো সমস্যা নেই।
- গৃহপরিচারিকা (বুয়া)-র খরচ: স্বামী যদি সচ্ছল হন এবং স্ত্রী চিকিৎসকের মতো ব্যস্ত পেশায় নিয়োজিত থাকেন, তবে পরিবারিক কাজে বুয়া রাখা বা সহযোগিতা করা উত্তম। তবে স্বামী যদি আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বা বেতনের ঘাটতির কারণে বুয়ার খরচ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন, তবে স্ত্রী নিজের সুবিধার্থে নিজ খরচে বুয়া রাখলে তাও শরীয়তসম্মত।
৪. গাইনি চিকিৎসায় আপনার কোর্সের দ্বীনী গুরুত্ব:
- উম্মতের বিশেষ প্রয়োজন (ফরযে কিফায়াহ): মুসলিম নারীদের প্রসূতি ও জটিল স্ত্রীরোগ চিকিৎসার জন্য অভিজ্ঞ নারী চিকিৎসক (গাইনোকোলজিস্ট) থাকা শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জরুরি ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। আপনি যদি সহীহ নিয়তে, ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত থেকে উম্মতের বোনদের সতর ও ইজ্জত হেফাজতের জন্য এই কোর্স সম্পন্ন করেন, তবে এটি আপনার জন্য অনেক বড় সদকায়ে জারিয়াহ ও দ্বীনী খিদমত হিসেবে গণ্য হবে।
আপনার জন্য চূড়ান্ত পরামর্শ:
১. কোর্স কন্টিনিউ করুন: স্বামীর কথাগুলোকে নেতিবাচক বা 'নিষেধ' হিসেবে না ধরে, অনাপত্তি হিসেবে গ্রহণ করুন এবং নিজের কোর্সটি সম্পন্ন করুন। ২. মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন: স্বামীর সাথে এই টপিক নিয়ে অহেতুক তর্ক বা আলোচনা না করে, নিজের মতো করে পড়ালেখা ও দায়িত্ব চালিয়ে যান। ৩. পর্দার প্রতি যত্নশীল হোন: হাসপাতালে ডিউটিকালীন যতটুকু সম্ভব শালীন পোশাক ও হিজাব বজায় রেখে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করুন।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৪৫–৫৪৭ (কিতাবুন নিকাহ, 'নাশিযাহ ও স্বামীর অবাধ্যতার সীমা')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৪৭–৫৪৮ (কিতাবুন নিকাহ, 'স্ত্রীর নাফাকা ও খোরপোষের বিবরণ')।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৬০–২৬২ (অনুচ্ছেদ: 'স্ত্রীর নাফাকা ও প্রয়োজনীয় খরচের সীমানা')।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৮৩–৩৮৪ এবং পৃষ্ঠা: ৫০–৫২ (অধ্যায়: 'আধুনিক চিকিৎসা, নারী ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তা ও সতর হেফাজত')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১০২ (অধ্যায়: 'বাবুন নাফাক্বাহ')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৯তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮১–১৮২ (অধ্যায়: 'স্বামীর আনুগত্যের সীমানা') এবং পৃষ্ঠা: ১৮৫–১৮৭ (অধ্যায়: 'বাবুল হিজাব ও নারীদের চিকিৎসা সেবা')।
২. "বিশেষজ্ঞ না হয়ে রোগী দেখা" — হাদিসের সত্যতা ও ফিকহি বিধান
(ক) হাদিসটি
আপনার স্বামী ও তার বোন যে হাদিসের কথা বলেছেন, সম্ভবত তারা ইবনে মাজাহ ও আবু দাউদের একটি হাদিসের কথা বলছেন:
«مَنْ تَطَبَّبَ وَلَمْ يَكُنْ بِالطِّبِّ مَعْرُوفًا فَهُوَ ضَامِنٌ» — "যে ব্যক্তি চিকিৎসা করে অথচ চিকিৎসাবিদ্যায় সুপরিচিত নয়, সে (ক্ষতির) দায়ী থাকবে।" (আবু দাউদ ৪৫৮৬; ইবনে মাজাহ ৩৪৬৬; তিরমিজি ২০৮১—হাসান)
এই হাদিসটি সহিহ/হাসান পর্যায়ের এবং ফিকহে গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ: অযোগ্য ব্যক্তি চিকিৎসা করলে ক্ষতির দায় তার উপর। এটি ইসলামি চিকিৎসা নীতির মূল ভিত্তি।
(খ) "বিশেষজ্ঞ" (متخصص) হওয়ার অর্থ কী?
ফিকহি দৃষ্টিতে "বিশেষজ্ঞ" মানে সেই বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা—যা সাধারণত ডিগ্রি, রেসিডেন্সি, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা দ্বারা অর্জিত হয়। ইবনে আবিদিন «رد المحتار»-এ «الطب» অধ্যায়ে এবং «الفتاوى الهندية»-এ উল্লেখ আছে যে, চিকিৎসককে নিজের বিষয়ে দক্ষ হতে হবে; অদক্ষ চিকিৎসক ক্ষতির দায়ী।
আপনার ক্ষেত্রে: আপনি MBBS পাশ করেছেন এবং দুই বছর রেসিডেন্সি ট্রেনিং করেছেন। এটি সাধারণত জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে প্র্যাকটিস করার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হয়—বিশেষত বাংলাদেশ/ভারতের মেডিকেল কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী। আপনি যদি নিজের যোগ্যতার সীমার মধ্যে (যেমন জটিল রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা) প্র্যাকটিস করেন, তবে ইনশাআল্লাহ গুনাহগার হবেন না।
(গ) তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
হাদিসের মূল শিক্ষা হলো: নিজের যোগ্যতার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করা নিষেধ। আপনি যদি জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে প্র্যাকটিস করেন এবং জটিল রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করেন, তবে তা শরীয়তসম্মত। কিন্তু আপনি যদি নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি করে এমন চিকিৎসা করেন যা আপনার যোগ্যতার বাইরে—তাহলে ক্ষতির দায় আপনার উপর আসবে।
সারসংক্ষেপ: দুই বছর রেসিডেন্সির পর জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে প্র্যাকটিস করা শরীয়তসম্মত; এতে গুনাহ নেই—ইনশাআল্লাহ। তবে নিজের সীমা জানা ও প্রয়োজনে রেফার করা আবশ্যক।
৩. আপনার করণীয় (ব্যবহারিক পরামর্শ)
- ইস্তেখারা চালিয়ে যান—আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। «وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ» (তালাক ৩)।
- স্বামীর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করুন—তার সাথে তর্ক নয়, বরং ভালোবাসা ও নরম ভাষায় কথা বলুন। «وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا» (বাকারা ৮৩)।
- পর্দার বিধান মেনে ডাক্তারি করুন—এ বিষয়ে স্বামীর কথা শরীয়তসম্মত; তার সাথে একমত হোন।
- পারিবারিক চাপে বিভ্রান্ত হবেন না—আপনার স্বামীর পরিবারের কথা ও আপনার স্বামীর কথা আলাদা করে বুঝুন। তাদের চাপ আপনার সিদ্ধান্তের মাপকাঠি নয়; শরীয়ত ও আপনার স্বামীর স্পষ্ট বক্তব্যই মাপকাঠি। 5.ডিপ্রেশনের বিষয়ে—প্রয়োজনে একজন মুসলিম কাউন্সেলর বা ডাক্তারের সাহায্য নিন; এটি শরীয়তসম্মত।
والله أعلم بالصواب