রাগ করে অশালীন কথা বললে কি কুফর হয়

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7426
Questioner: Ch Rafi
Question Asked: 27 Oct 2026, 06:04 AM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 06:48 AM
Views: 10
Tokens: 3,735
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক স্বামী প্রায়ই তার স্ত্রী কে ফজরের সময় ডাকে, বার বার স্ত্রী কে ডাকতে হয় , বলতে হয় আর ১০ মিনিট আছে, ৮ মিনিট আছে,

একদিন স্বামী রাগ করে বলে "ডেলি এই শাওয়ার আলাপ ভালা লাগে না"

তার পর স্বামীর খেয়াল করলো সে নামাজের জন্যই তো ডাকে এই ডাকাকে সে একটি অশ্লীল শব্দ দ্বারা সম্বোধন করেছে।

স্বামীর কি কুফর হয়েছে?

Answer

রাগ করে ভালো কাজকে অশ্লীল শব্দে সম্বোধন করার বিধান

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, এতে কুফর হয়নি। তবে এটি গুনাহ, অনুচিত ও আদববিরোধী কথা। তাওবা ও ইস্তিগফার জরুরি। কুফরের জন্য প্রয়োজন দ্বীনের কোনো অপরিহার্য বিষয়কে (যেমন নামাজের ফরজিয়াত) অস্বীকার করা বা অবহেলা করা; শুধু রাগের মুহূর্তে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা—যদিও তা গর্হিত—কুফর হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না সে নামাজ বা এর বিধানকে অস্বীকার করে।

দলিল ও ব্যাখ্যা

১. কুফরের সংজ্ঞা ও শর্ত

কুফর হলো দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়কে (যার অপরিহার্যতা কাত'ঈ দলিলে প্রমাণিত) অস্বীকার করা বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা। রাগের বশে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা—যদি তাতে দ্বীনের কোনো বিধানকে অস্বীকার বা বিদ্রূপ না থাকে—তাহলে তা কুফর নয়, বরং গুনাহ।

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৪, কিতাবুল জিহাদ, "باب المرتد" — মুফতি বলেন, কুফরের মূল হলো ইমানের বিপরীত বিশ্বাস বা দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়কে অস্বীকার/বিদ্রূপ করা। শুধু গালি বা অশালীন শব্দ ব্যবহার—যদি তাতে আকিদা-বিরোধী কিছু না থাকে—কুফর নয়।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল জিহাদ, বাবুর রিদ্দা — কুফরের শর্তসমূহ বর্ণিত হয়েছে; অশালীন শব্দমাত্রই কুফর নয়।

২. নামাজের ফরজিয়াত অস্বীকার করলে কুফর

যদি কেউ নামাজকে "বাজে কাজ" বা "অপ্রয়োজনীয়" বলে অবহেলা করে, তাহলে তা কুফর। কিন্তু এখানে স্বামী নামাজের জন্যই ডাকছেন; রাগে শব্দটি অশালীন হয়েছে, নামাজকে অস্বীকার করেননি।

  • মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শাফি), সূরা আন-নিসা ৪:৪৮-এর তাফসির — শিরক ও কুফর হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত বিষয়; গুনাহমাত্রই কুফর নয়।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী), খণ্ড ৪ — রাগের বশে মুখ থেকে বের হওয়া কঠোর কথা—যদি আকিদা-বিরোধী না হয়—কুফর নয়; তবে তাওবা করতে হবে।

৩. অশালীন শব্দ ব্যবহারের হুকুম

মুসলিমের মুখ অশালীন শব্দ থেকে পবিত্র থাকা কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا اللَّعَّانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَذِيءِ» — তিরমিজি, হাদিস ১৯৭৭; মুসনাদে আহমাদ — "মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী বা অশালীন হয় না।"

  • বেহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী), তৃতীয় খণ্ড, "জিহ্বার হিফাজত" অধ্যায় — অশালীন কথা বলা গুনাহ; তাওবা জরুরি।
  • শরহু মাআনিল আসার (ইমাম তাহাবি) — মুমিনের আদব ও ভাষার পবিত্রতা সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।

৪. রাগ নিয়ন্ত্রণ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْكُتْ» — মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২১৩৭ — "যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়, সে যেন চুপ করে যায়।"

  • আল-হিদায়া, কিতাবুল আদব — রাগের সময় সংযত থাকা সুন্নত।

ফিকহি সিদ্ধান্ত (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

  1. কুফর হয়নি — কারণ নামাজের ফরজিয়াত বা দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় অস্বীকার বা বিদ্রূপ করা হয়নি; শুধু রাগের বশে অশালীন শব্দ ব্যবহার হয়েছে।
  2. গুনাহ হয়েছে — অশালীন শব্দ ব্যবহার ও স্ত্রীর প্রতি দুর্ব্যবহার গুনাহ। তাওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে।
  3. নিকাহ বহাল আছে — কুফর না হওয়ায় নিকাহ পুনরায় করতে হবে না।
  4. সতর্কতা — ভবিষ্যতে রাগের সময় চুপ থাকা ও নামাজের দাওয়াত আদবের সাথে দেওয়া কর্তব্য।

উপসংহার

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় স্বামীর কুফর হয়নি; বরং এটি গুনাহ ও আদববিরোধী কাজ। তাওবা-ইস্তিগফার করাই কর্তব্য। তবে সতর্ক থাকা জরুরি—কেউ যদি নামাজ বা দ্বীনের অপরিহার্য বিধানকে অস্বীকার বা বিদ্রূপ করে, তাহলে কুফরের আশঙ্কা থাকে; এমন পরিস্থিতিতে আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.