বিতরের নামাজে দোয়া মাসুরা পড়ার সময় অনিচ্ছাকৃত কাশি দিলে নামাজ ভঙ্গ হয় কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২/ পাত্র যদি দ্বীনদার হয়, হালাল ইনকাম করে কিন্তু যদি অমুসলিম দেশে থাকে (বিয়ের পর স্ত্রী কে নিয়ে যাবে,কিন্তু ঐ দেশে স্হায়ী ভাবে থাকবে না, নিজের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে একটা সময় দেশে চলে আসব বলে) এমন পাত্রকে কি বিয়ে করা যাবে??
Answer
ফতোয়া: কাশি ও দ্বীনদার পাত্র বিবাহ সংক্রান্ত
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আপনার উত্থাপিত ১ ও ২ নম্বর প্রশ্ন দুটির হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাব থেকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত শরঈ সমাধান নিচে প্রদান করা হলো:
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (বিতর নামাযের শেষ বৈঠকে কাশি দেওয়ার বিধান):
উত্তর: বিতর নামাযের শেষ বৈঠকে দোয়া মাসুরা পড়ার সময় গলায় খুচখুচ করার কারণে অনচ্ছিক বা জোর করে কাশি পড়ে গেলেও আপনার নামায সম্পূর্ণ সহীহ ও সঠিক হয়েছে। আপনাকে এই বিতর নামায আর পুনরায় পড়তে হবে না।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ: ১. ওজরের কারণে কাশি দেওয়া: নামায চলাকালে কফ, গলায় খুচখুচানি, চুলকানি বা কণ্ঠনালীর অস্বস্তির কারণে যদি অনিচ্ছাকৃত বা তীব্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়ে কাশি চলে আসে, তবে ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা শর'ঈ ওজর (ন্যায্য কারণ) বলে গণ্য হয়। এতে নামায ভঙ্গ হয় না এবং নামায ফাসিদ হয় না। ২. শেষ বৈঠকের অবস্থান: যেহেতু ঘটনাটি নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার পর দোয়া মাসুরা পড়ার সময় ঘটেছে, আর শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা নামাযের ফরয। ফরয ও ওয়াজিবিয়্যাত আদায়ের পর দোয়া পড়ার সময় কাশি আসার কারণে নামাযের বৈধতায় বিন্দুমাত্র কোনো ত্রুটি আসেনি।
সংযুক্ত কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর (রেফারেন্স):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৮৮ (অধ্যায়: সালাত, ১ম অনুচ্ছেদ: 'যে সব কারণে সালাত ফাসিদ হয় — ওজর বা গলায় কফ/অস্বস্তির কারণে কাশি দেওয়ার হুকুম')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩১–১৩২ (অধ্যায়: সালাত, 'নামাজে কাশা ও গলা খাঁকার নেওয়া সংক্রান্ত ফিকহী সিদ্ধান্ত')।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৬৩ (পরিচ্ছেদ: 'যে সব কারণে নামায নষ্ট হয়')।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১২৮–১৩০।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (অমুসলিম দেশে অবস্থানরত দ্বীনদার পাত্রকে বিবাহের বিধান):
উত্তর: পাত্র যদি দ্বীনদার হয়, আকীদা সঠিক থাকে এবং তার উপার্জন শতভাগ হালাল হয়, তবে সে অমুসলিম দেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করলেও এমন পাত্রকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ জায়েয ও শরী'আতসম্মত।
শরঈ কারণ ও ফিকহী বিশ্লেষণ: ১. হালাল রুজি ও জীবিকার তাগিদে অমুসলিম দেশে অবস্থান: নিজের বা পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা এবং হালাল জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি অমুসলিম দেশে বসবাস করে এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে আসার নিয়ত রাখে, তবে শরী'আতের দৃষ্টিতে তা বৈধ। ২. ঈমান ও দ্বীনদারীর প্রাধান্য: রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন— "যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীনদারী ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিবাহ দিয়ে দাও।" (সুনানে তিরমিযী)। পাত্রের দ্বীনদারী ও হালাল উপার্জন থাকায় এবং স্থায়ীভাবে সেখানে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকায় এই বিবাহের মাধ্যমে শর'ঈ কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না। ৩. করণীয় ও সতর্কতা: বিবাহের পর উক্ত অমুসলিম দেশে অবস্থানকালে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব হলো নিজেদের ঈমান, আমল, সালাত, পর্দা ও ইসলামী কৃষ্টি-কালচার যথাযথভাবে হেফাজত করা এবং সন্তানদের দ্বীনী পরিবেশে গড়ে তোলার ফিকির রাখা।
সংযুক্ত কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর (রেফারেন্স):
- বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারা (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩১৫–৩১৭ (অধ্যায়: 'অমুসলিম রাষ্ট্রে বসবাস, উপার্জন ও বিবাহের শরঈ ফায়সালা')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৬–৫৭ (কিতাবুন নিকাহ, ৮ম পরিচ্ছেদ: 'বিবাহের উপযুক্ততা ও অমুসলিম দেশে বিবাহের বিবরণ')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৯–৬০ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, 'বিদেশে বা অমুসলিম দেশে বসবাসকারী ব্যক্তির বিবাহের ফতোয়া')।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৮৪–৩৮৬।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।