আরাফাহ রোজা কবে রাখবো?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
আরাফাহ রোজা কবে রাখবেন?
আরাফাহ রোজা ৯ই জিলহজ তারিখে রাখতে হয়। এটি হজে অংশগ্রহণ না করা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি নফল রোজা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "আরাফাহ দিবসের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মোচন করে।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১১৬২)
তারিখ নির্ধারণের পদ্ধতি (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)
-
স্থানীয় চাঁদ দেখা (প্রধান অভিমত): হানাফি মাযহাবের মূলনীতি হলো, প্রতিটি দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখার ভিত্তিতে জিলহজ মাসের তারিখ নির্ধারণ করবে। তাই আপনার এলাকায় জিলহজ মাসের চাঁদ যেদিন দেখা যাবে, তার ৯ম দিনটি আরাফার দিন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের মুসলিমরা সাধারণত স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আরাফার রোজা রাখেন। (রদ্দুল মুহতার, ২/৭০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২০২)
-
সৌদি আরবের তারিখ অনুসরণ (অনুমোদিত বিকল্প): অনেক আলিমের মতে, প্রকৃত আরাফার দিন হলো যেদিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। তাই সৌদি আরবের তারিখ অনুসারে ৯ জিলহজ রোজা রাখাও জায়েজ ও ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে যদি নিজ দেশের চাঁদ দেখা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সৌদি তারিখ অনুসরণ করা উত্তম। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২২৬; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪১২)
গুরুত্বপূর্ণ নোট
- হজরতগণ: যারা হজে আছেন, তাদের জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা মাকরূহ (অপছন্দনীয়), কেননা এতে দুর্বলতা আসতে পারে। (আল-হিদায়া, ১/২৭২)
- রোজার নিয়ত: ফজরের আগে নিয়ত করে রাখবেন। সূর্যাস্তের পর ইফতার করবেন। আরাফার দিনের বিশেষ ফজিলত লাভের জন্য এই রোজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংক্ষেপে: আরাফার রোজা ৯ জিলহজ। আপনার দেশের চাঁদ দেখার তারিখ নির্ভর করবে। সৌদি আরবের তারিখ অনুসরণ করলে সাধারণ জিলহজ্জ এর রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে আরাফার রোযার সওয়াব পাওয়া নিশ্চিত নয়।