ইহরাম অবস্থায় পা ঢাকলে কি কোনো অসুবিধা হবে?

Hajj and Umrah · Hanafi

Question No: 718
Questioner: Notre Daniel
Question Asked: 25 May 2026, 05:33 AM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 05:42 AM
Views: 105
Tokens: 1,588
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি মিনায় এসেছি এবং আমাদেরকে এইখানে গায়ে দেওয়ার যে খাতা দিয়েছে, আমি তা দিয়ে আমার পা ঢেকে শুয়ে পড়ি যেভাবে আমি সাধারনত বাসাতে ঘুমিয়ে থাকি। এতে কি দম দেওয়া লাগবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহ!

উত্তর

দম দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি?

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো: না, এতে কোনো দম দেওয়া লাগবে না।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

হজের ইহরাম অবস্থায় সাধারণত এই বিধানগুলো প্রযোজ্য:

১. ইহরামে পা ঢেকে রাখা জায়েজ – ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ও মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ, কিন্তু পা বা শরীরের অন্যান্য অংশ সাধারণ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখায় কোনো বাধা নেই। তাই আপনি যে চাদর বা কম্বল পেয়েছেন, তা দিয়ে পা ঢেকে ঘুমানো সম্পূর্ণ বৈধ।

২. ঘুমানোর পদ্ধতি – আপনি স্বাভাবিকভাবে যেমন ঘুমান, তেমনই করতে পারেন। ইহরাম অবস্থায় ঘুমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই, যতক্ষণ না আপনি ইহরামের নিষেধাজ্ঞা (যেমন: মাথা ঢাকা, সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা ইত্যাদি) লঙ্ঘন করছেন।

৩. গায়ে দেওয়ার চাদর – হজ কর্তৃপক্ষের দেয়া চাদর বা কম্বল ব্যবহার করায় কোনো সমস্যা নেই। এটি ইহরামের কাপড়ের অতিরিক্ত কিনা, তা বিবেচ্য নয়।

গুরুত্বপূর্ণ নোট

ইহরামের সময় এই বিষয়গুলো মনে রাখবেন:

  • পুরুষদের জন্য ইহরামের কাপড় দুই টুকরা (ইজার ও রিদা) পরা ওয়াজিব
  • অতিরিক্ত চাদর বা কম্বল ব্যবহার করা জায়েজ
  • মাথা ও মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ (পুরুষের জন্য)
  • পা, হাত, ঘাড় ইত্যাদি ঢাকায় কোনো সমস্যা নেই

প্রাসঙ্গিক হাদিস ও ফতোয়া

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহরাম অবস্থায় ঘুমাতেন এবং শরীরের ওপর চাদর ফেলে দিতেন (এতে পা ঢাকা পড়ত)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮২৫)

ফতোয়ায় এসেছে: ইহরাম অবস্থায় চাদর বা কম্বল দিয়ে পা ঢেকে ঘুমানো জায়েজ এবং এর জন্য কোনো দম বা কাফফারা ওয়াজিব হয় না। (ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৪)

সারসংক্ষেপ

আপনি মিনায় ইহরাম অবস্থায় যে চাদর দিয়ে পা ঢেকে ঘুমিয়েছেন, এতে দম দেওয়া লাগবে না। এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং ইহরামের কোনো বিধান লঙ্ঘন হয়নি।

আল্লাহ তাআলা আপনার হজ কবুল করুক। আমিন।


আল্লাহ-ই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.