সাহরি শেষ সময় ৩:৪১ মিনিট অথচ আমি ৩:৪২ মিনিট পর্যন্ত খেয়েছি, আমার রোজা কি হবে?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 716
Questioner: FA Munni pathan (Munni)
Question Asked: 25 May 2026, 04:02 AM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 04:39 AM
Views: 94
Tokens: 2,939
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার মোবাইলে ঢাকার লোকেশন দেওয়া ছিল সে হিসাবে সাহরির শেষ সময় ৩:৪২ ফজর ৩:৪৭ আমি ৩:৪২ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত খেয়েছি কিন্তু হবিগঞ্জের মাধব পুরের সাহরি শেষ সময় ৩:৪১ মিনিট রোজা হবে?আমি জানতাম না!

Answer

প্রশ্নের উত্তর:

আপনার প্রশ্নটি রোযার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলার সাথে সম্পর্কিত: সাহরির শেষ সময় বা সুবহে সাদিকের পর খাওয়া-দাওয়া করলে রোযার কী হুকুম হয়? নিচে হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

আপনার রোযাটি শুদ্ধ হয়নি। আপনাকে এই রোযার ক্বাযা (এক দিনের রোযা) আদায় করতে হবে। তবে যেহেতু আপনি অজান্তে এবং আপনার ফোনের ভুল লোকেশনের কারণে এমনটি করেছেন, তাই আপনার উপর কাফফারা (৬০ দিন রোযা বা অন্য কোনো শাস্তি) ওয়াজিব নয়

বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল:

১. রোযার মূল শর্ত: সুবহে সাদিকের পর পানাহার না করা

রোযার জন্য আবশ্যক হলো সুবহে সাদিক (প্রভাতের সত্যিকারের ভোর) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

«وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ»
"আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা (সুবহে সাদিক) কালো রেখা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়।" (সূরা বাকারা: ১৮৭)

এই আয়াত থেকে প্রমাণিত যে, সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার পর পানাহার করা হারাম এবং তাতে রোযা ভেঙে যায়।

২. আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ

  • আপনি ঢাকার লোকেশন অনুসারে সাহরির শেষ সময় ৩:৪২ মিনিট ধরেছেন এবং ৩:৪২ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত খেয়েছেন।
  • অথচ হবিগঞ্জের মাধবপুরের প্রকৃত সুবহে সাদিকের সময় ছিল ৩:৪১ মিনিট
  • অর্থাৎ আপনি প্রকৃত সুবহে সাদিকের ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর পানাহার করেছেন। তাই আপনার রোযা ভেঙে গেছে।

৩. অজ্ঞতা বা ভুলের কারণে কী রোযা শুদ্ধ হবে?

হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মতামত হলো: যদি কেউ প্রকৃত সুবহে সাদিকের পর পানাহার করে, তবে সে সন্দেহবশত বা অজ্ঞতাবশত করলেও তার রোযা শুদ্ধ হবে না। তবে এর জন্য কাফফারা ওয়াজিব হবে না, শুধু ক্বাযা ওয়াজিব হবে। কারণ কাফফারা তো কেবল ইচ্ছাকৃত ও স্মরণ থাকা অবস্থায় রোযা ভাঙলেই ওয়াজিব হয়। (দ্রষ্টব্য: রদ্দুল মুহতার, ২/৪০৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৩১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৮৫)

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) এ লেখা আছে:

"ولو أكل بعد طلوع الفجر ظاناً أنه ليل لم يصح صومه وعليه القضاء دون الكفارة."
"যদি কেউ ফজর উদয়ের পর খায় এই ধারণায় যে এখনো রাত আছে, তাহলে তার রোযা সহীহ হবে না; ক্বাযা ওয়াজিব হবে, কিন্তু কাফফারা নয়।" (আল-বাহরুর রায়েক, ২/২৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২০৪)

সুতরাং আপনার ক্ষেত্রেও একই হুকুম: রোযা ভেঙে গেছে, শুধু ক্বাযা করবেন।

৪. আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  • ওয়াক্ত নির্ধারণে আধুনিক পদ্ধতি: মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে সময় নেওয়া জায়েজ, তবে সঠিক লোকেশন এবং নির্ভরযোগ্য সোর্স ব্যবহার করা জরুরি। আপনার ফোনে ঢাকার লোকেশন দেওয়া ছিল, কিন্তু আপনি হবিগঞ্জে ছিলেন—এতে সময়ের পার্থক্য হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে নিজের অবস্থানের সঠিক সময় মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
  • সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: যদি প্রকৃত সুবহে সাদিক নিয়ে সন্দেহ হয়, তাহলে ইশতিবাহ (সতর্কতা) গ্রহণ করে সাহরির শেষ সময়ের ২-৩ মিনিট আগেই খাওয়া বন্ধ করা উত্তম। হাদিসে এসেছে: "তোমরা সুবহে সাদিক হওয়া পর্যন্ত খেতে থাকো, কিন্তু সুবহে সাদিক হলে বিরত হও।" (বুখারি ও মুসলিম)

আপনার করণীয়:

১. এই রোযাটি ভেঙে গেছে, তাই বাকি দিনটিতে আপনাকে সাধারণভাবে (রোযা না রেখে) থাকতে হবে।
২. রমজানের পর এক দিনের রোযা (ক্বাযা) আদায় করবেন।
৩. আল্লাহর কাছে তওবা করবেন এবং ভবিষ্যতে সঠিক সময় মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

মনে রাখবেন: রোযার ক্ষেত্রে সময়ের ব্যাপারে সতর্কতা জরুরি। প্রকৃত ফজরের সময় জানতে স্থানীয় মসজিদের সময়সূচী বা বিশ্বস্ত ইসলামিক অ্যাপ ব্যবহার করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.