দেড় লাখ টাকার মত নগদ সঞ্চয় এবং ৮ আনার মতন সোনা আছে, আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার বর্তমান নগদ সঞ্চয় (প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা) এবং ৮ আনা সোনার (প্রায় ৫.৮৩ গ্রাম) স্বর্ণ এবং নগদ সঞ্চিত টাকা সম্মিলিতভাবে ৫২.৫ রুপার সমমূল্য। তাই কুরবানি ওয়াজিব হবে। সুতরাং তাই আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
প্রমাণ ও ফিকহি বিশ্লেষণ:
১. কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হয় সেই ব্যক্তির ওপর যে:
- মুসলিম,
- প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক,
- মুকিম (মুসাফির নয়),
- এবং নিজের মৌলিক প্রয়োজন (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, যানবাহন ইত্যাদি) পূরণের পর ঈদের দিন (১০ জিলহজ) ভোরে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়। চায় ক্রমবর্ধমান হোক বা অক্রমবর্ধমান হোক।
২. নেসাবের পরিমাণ:
হানাফি ফিকহে কোরবানির নেসাব হলো সাড়ে বায়শ তোলা রুপা (৬১২.৩৬ গ্রাম) বা সমমূল্যের সোনা বা নগদ অর্থ।
উল্লেখ্য, কোরবানির নেসাব জাকাতের নেসাবের সমান। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১৯৬; রদ্দুল মুহতার, ৬/৩১২)
৩. আপনার সম্পদের মূল্যায়ন:
- নগদ সঞ্চয়: ১,৫০,০০০ টাকা
- ৮ আনা সোনা = ০.৫ তোলা = প্রায় ৫.৮৩ গ্রাম
(বর্তমান বাজারমূল্য ধরে নিলে: ৫.৮৩ × ১৩,৪৮০ টাকা/গ্রাম = প্রায় ৭৮,৫৮৮ টাকা) - মোট সম্পদ: ১,৫০,০০০ + ৭৮,৫৫৮ = প্রায় ২,২৮,৫৮৮ টাকা
৪. নেসাবের তুলনায় আপনার অবস্থা:
বর্তমানে রুপার নেসাব (৬১২.৩৬ গ্রাম) এর বাজারমূল্য প্রায় ১,৭০,০০০ টাকা । আপনার মোট সম্পদ ( ২,২৮,৫৮৮ টাকা) তা থেকে অনেক বেশি। তাই আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- ঋণ থাকলে: আপনার ওপর যদি কোনো ঋণ থাকে যা আপনার নগদ সঞ্চয় ও সোনার সমমূল্য বা তার বেশি হয়, তাহলে সেই ঋণ বাদ দিয়ে নেসাব গণনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যদি নেসাব না থাকে, কোরবানি ওয়াজিব হবে না।
- মূল প্রয়োজন: আপনার যদি মৌলিক প্রয়োজন (যেমন: ঘর, গাড়ি, ব্যবসার পুঁজি) পূরণ না হয়ে থাকে, তবে সেগুলো বাদ দিয়ে নেসাব গণনা করতে হবে। তবে আপনি চাকুরিজীবী এবং এ ধরনের প্রয়োজন উল্লেখ করেননি।
নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাবের উল্লেখ:
- রদ্দুল মুহতার (৬/৩১২): "কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব হলো জাকাতের নেসাবের সমান।"
- ফতোয়ায়ে শামী (৬/৩৩৪): "ঋণমুক্ত ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব।"
- ফতোয়ায়ে উসমানী (২/১৫৩): "নগদ অর্থ, সোনা-রুপা ও ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য একত্রিত করে নেসাব পূর্ণ হলে কোরবানি ওয়াজিব।"
সুতরাং আপনার করণীয়:
আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তাই আপনাকে অবশ্যই কোরবানি করতে হবে। যদি নিজে কোরবানি না দিতে পারেন, তবে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিন। কোরবানির সময় হলো ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
আল্লাহ তাআলা আপনার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।