নামাজের পায়জামায় স্রাবের দাগ লাগলে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6912
Questioner: guraba
Question Asked: 14 Oct 2026, 10:07 PM
Reviewed & Published: 15 Oct 2026, 06:37 AM
Views: 38
Tokens: 6,020
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি নামাজের জন্য আলাদা পায়জামা ব্যবহার করি। যেটা শুধু নামাজ পড়ার সময় পরি। বাকি সময় খুলে রেখে দেই। সেই পায়জামা পরে আসরের নামাজ পড়ার পর পায়জামাতে স্রাবের কোনো দাগ লেগেছে কিনা কোনো রকমে চেক করেছিলাম। তখন কোনো দাগ দেখি নাই। তাই মাগরিবের নামাজ শুরুর আগে পায়জামায় কোনো দাগ ছিল কিনা চেক করা হয়নি। মাগরিব ও এশার নামাজ একই অজুতে শেষ করে ভালো করে চেক করে দেখি পায়জামাতে ১ দিরহামের বেশি অংশ জুড়ে সাদা কি লেগে আছে। সাদা স্রাব কিনা তাও নিশ্চিত না। কারণ নামাজ আদায় করার পর লজ্জাস্থান চেক করা সময় বুঝতে পারি যে লজ্জাস্থান সম্পূর্ণ শুকনো। আবার আসরের সময় স্রাব লেগেছে কি না তাও বুঝতেছি না। এখন কি স্বলাত গুলো পূনরায় আদায় করতে হবে? এমতাবস্থায় কি করনীয়?
এই পায়জামা কি নাপাক হয়ে গেছে? উক্ত পায়জামা পরে কি পরবর্তী স্বলাত আদায় করা যাবে?

Answer

উত্তর: স্রাবের দাগ সম্পর্কে বিস্তারিত মাসআলা

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী মাগরিব ও এশার নামাজ পুনরায় আদায় করা আপনার উপর আবশ্যক (ওয়াজিব)। কারণ আপনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, মাগরিব ও এশার নামাজ শেষ করার পর পায়জামায় ১ দিরহামের বেশি পরিমাণে সাদা দাগ পাওয়া গেছে। যেহেতু আসরের পর চেক করার সময় কোনো দাগ পাননি, কিন্তু মাগরিব-এশার পর দাগ পেয়েছেন — এতে প্রবল ধারণা হয় যে, দাগটি মাগরিব বা এশার কোনো এক সময়ে লেগেছে। আর যেহেতু আপনি আসরের পর চেক করে দাগমুক্ত ছিলেন, তাই আসরের নামাজ সন্দেহমুক্ত।

এমতাবস্থায় মাগরিব আর ঈশার নামাজ পবিত্র কাপড়ে সতর্কতা মূলক পুনরায় আদায় করবেন।

পায়জামাটি নাপাক হয়ে গেছে — যদি দাগটি স্রাব বা নাজাসাত হয়। সাদা স্রাব (মযী বা ওয়াদী) সাধারণত নাপাক (নাজিস) হিসেবে গণ্য, যা নামাজ ভঙ্গের কারণ।


হাদিস: আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মযী বেশি নির্গত হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পেতাম। তাই আমি মিকদাদ (রাঃ)-কে পাঠালাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: 'সে (মযী) থেকে ওজু করতে হবে।'"
— সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩০৩

হাদিস: ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "মযী নির্গত হলে লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে এবং নামাজের ওজুর মতো ওজু করবে।"
— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৬; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং ১৫৭

নাজাসাতের পরিমাণ ও নামাজের হুকুম

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নাজাসাতে গলিজা (ভারী অপবিত্রতা) যদি ১ দিরহামের বেশি পরিমাণে কাপড়ে লাগে, তাহলে সেই কাপড়ে নামাজ পড়া জায়েয নয়।

ফিকহের মূলনীতি:
"নাজাসাতে গলিজা যদি ১ দিরহাম পরিমাণ বা তার বেশি হয়, তবে তা নামাজে বাধা সৃষ্টি করে। আর যদি ১ দিরহামের কম হয়, তবে তা ক্ষমাযোগ্য (মাফ)।"
— রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৫-৩১৬
— আল-হিদায়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৪
— ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৮

১ দিরহামের পরিমাণ: হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, ১ দিরহাম = প্রায় ৩.৩৩ গ্রাম (কিছু মতে ২.৯৭ গ্রাম)। তবে কাপড়ে ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় এর পরিমাণ নির্ণয় করতে হয় — যদি দাগটি এক দিরহাম বা তার চেয়ে বড় হয়, তবে তা মাফ নয়।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.