"আমাকে ছেড়ে যাওগা" — এই শব্দে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6883
Questioner: Tawheed
Question Asked: 14 Oct 2026, 05:38 AM
Reviewed & Published: 14 Oct 2026, 06:15 AM
Views: 11
Tokens: 3,389
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amake chere jaoga.
Amar stri amake bole eta bolechilam prai jhograr shomoy, amar mone ashtsena kokhon bolechi ba ghotona mone nei, tobe shey jehetu boleche tahole bolechi
Ami bolleo tokhon kenaya shomporke jantamna , raag hotasha ba khob thekei bolechi. Akhon ki talaq hobe.
R hanafi madhab onujayi eku janayen.

Answer

উত্তর: "আমাকে ছেড়ে যাওগা" — কেনায়া শব্দ না কি সরাসরি তালাক?

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

স্বামী বলেন: "আমাকে ছেড়ে যাওগা" (এটি স্ত্রীকে বলা হয়েছে)। তিনি বলেন — ঝগড়ার সময় বলেছিলাম, কখন বলেছি মনে নেই, ঘটনাও মনে নেই; তবে স্ত্রী যেহেতু বলছে তাহলে বলেছি। বলার সময় কেনায়া সম্পর্কে জানতাম না, রাগ-হতাশা বা ক্ষোভ থেকে বলেছি। এখন কি তালাক হবে?


প্রথম কথা: "আমাকে ছেড়ে যাওগা" — এটা কার প্রতি বলা?

প্রশ্নে অস্পষ্টতা আছে। "আমাকে ছেড়ে যাওগা" — যদি স্ত্রীকে বলা হয়, তাহলে এর অর্থ হয় "তুমি আমাকে ছেড়ে যাও" বা "তুমি আমার কাছ থেকে চলে যাও"। আর যদি নিজেকে বলা হয় ("আমি তোমাকে ছেড়ে যাব") তাহলে ভিন্ন।

যেহেতু প্রশ্নে বলা হয়েছে "আমার স্ত্রী আমাকে বলে" — অর্থাৎ স্ত্রী স্বামীকে বলেছে যে স্বামী তাকে (স্ত্রীকে) "আমাকে ছেড়ে যাওগা" বলেছিল। তাহলে বাক্যটি স্ত্রীর প্রতি বলা হয়েছে, অর্থ: "তুমি আমাকে ছেড়ে দাও / তুমি আমার কাছ থেকে চলে যাও।"


কেনায়া তালাকের মূলনীতি

কেনায়া (كِنَايَة) হলো এমন শব্দ যা তালাকের জন্য সরাসরি নয়, তবে তালাকের নিয়ত বা পরিস্থিতির কারণে তালাক বোঝাতে পারে।

মূল নিয়ম (হাদিস ও ফিকহ থেকে):

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা, যতক্ষণ না সে তা বলে বা করে, ক্ষমা করে দিয়েছেন।" — সহীহ বুখারী (৫২৬৯), সহীহ মুসলিম (১২৭)

আর তালাকের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো নিয়ত (intention) অথবা পরিস্থিতির قرينة (সূচক)।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: "কেনায়া শব্দে তালাক সংঘটিত হয় না, যতক্ষণ না নিয়ত বা পরিস্থিতি তা প্রমাণ করে।" (ইগাসাতুল লাহফান)


আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ

১. আপনি কেনায়া সম্পর্কে জানতেন না

আপনি বলেছেন: "আমি বললেও তখন কেনায়া সম্পর্কে জানতাম না।" — এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেনায়া তালাকের জন্য নিয়ত শর্ত। আপনি যদি তালাকের নিয়ত না করে থাকেন, এবং জানতেনও না যে এই শব্দে তালাক হয়, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে না।

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: "কেনায়া শব্দে তালাক হয় না, যদি না স্বামী তালাকের নিয়ত করে অথবা পরিস্থিতি তা প্রমাণ করে।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/১৩০)

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী

আপনি হানাফি মাযহাব অনুযায়ী জানতে চেয়েছেন:

হানাফি মাযহাবে কেনায়া শব্দ দুই প্রকার:

  1. ظاهر (স্পষ্ট) — যেমন "اذهبي" (যাও), "قومي" (উঠো), "اخرجي" (বের হও) — এগুলোতে নিয়ত ছাড়াই তালাক হয় না, তবে সন্দেহ থাকলে তালাক হয় না।
  2. خفي (গোপন) — যেমন "أنت علي حرام" — এগুলোতে নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না।

"اتركيني" বা "خليني" — হানাফি মাযহাবে এটি ظاهر বা خفي — উভয় দিকেই এটি কেনায়া। নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না।

আল-হিদায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: "কেনায়া শব্দে তালাক হয় না, যদি না নিয়ত থাকে অথবা পরিস্থিতি তা প্রমাণ করে।"


চূড়ান্ত ফতোয়া

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. আপনি তালাকের নিয়ত করেননি
  2. আপনি কেনায়া সম্পর্কে জানতেন না
  3. আপনি রাগ-হতাশা থেকে বলেছেন
  4. আপনি কখন বলেছেন তা মনে নেই

উপরোক্ত কারণগুলো বিবেচনা করে: আপনার তালাক সংঘটিত হয়নি। আপনার স্ত্রী এখনও আপনার বৈধ স্ত্রী।

তবে সতর্কতা: যদি আপনি নিশ্চিত হন যে আপনি তালাকের নিয়ত করেছিলেন (অন্তরে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল), তাহলে এক তালাক রজয়ী (ফিরিয়ে আনা যায়) হবে। কিন্তু আপনি যেহেতু বলেছেন নিয়ত ছিল না এবং জানতেন না — তাই তালাক নেই।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.