আমি তোরে ৫ হাজার বার কইলাম শুধু এটা বললে তালাক হবে কি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته।
প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্য “আমি তোরে ৫০০০ বার কইলাম” — এতে তালাকের কোনো শব্দ (তালাক, ফাসখ, ছাড়া ইত্যাদি) নেই, তালাকের কোনো ইঙ্গিতও (কিনায়া) নেই। তাই এতে তালাক পতিত হবে না। স্ত্রী হালালই থাকবে, বিবাহ বহাল থাকবে।
তবে সতর্কতা: রাগের সময় মুখে “তালাক” শব্দ উচ্চারণ করা বা তালাকের ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرَّجْعَةُ»
“তিনটি বিষয়—এর গুরুত্বের সাথে বলা ও ঠাট্টার সাথে বলা সমান (অর্থাৎ ঠাট্টাতেও কার্যকর): বিবাহ, তালাক ও রাজআত।” — (সুনানে আবু দাউদ: ২১৯৪; তিরমিযী: ১১৮৪; ইবনে মাজাহ: ২০৩৯ — হাসান)
হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো—তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট শব্দ (সরীহ) অথবা ইঙ্গিতমূলক শব্দ (কিনায়া) থাকা আবশ্যক।
১. সরীহ শব্দ: “তালাক”, “ফাসখ”, “ছাড়া”, “আযাদ” ইত্যাদি। এগুলো উচ্চারণ করলে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।
২. কিনায়া শব্দ: “যাও”, “বাপের বাড়ি চলে যাও”, “তোমার সাথে সম্পর্ক শেষ” ইত্যাদি। এগুলোতে তালাকের নিয়ত থাকলে তালাক হয়, নিয়ত না থাকলে হয় না।
৩. যা তালাকের শব্দও নয়, ইঙ্গিতও নয়: যেমন “আমি তোরে ৫০০০ বার কইলাম” — এটি তালাকের কোনো অর্থই বহন করে না। তাই তালাক হবে না।
ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন—
«وَلَا يَقَعُ الطَّلَاقُ إِلَّا بِصَرِيحٍ أَوْ كِنَايَةٍ مَعَ النِّيَّةِ أَوْ دَلَالَةِ الْحَالِ»
“তালাক কেবল সরীহ শব্দ দ্বারা, অথবা কিনায়া শব্দের সাথে নিয়ত বা অবস্থার দলীল থাকলে পতিত হয়।” — (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২৩০-২৩৫, কিতাবুত তালাক)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
«الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ»
“তালাক দুইবার; অতঃপর যথাবিধি সংসার চালিয়ে যাওয়া, অথবা সদ্ভাবে ছেড়ে দেওয়া।” — (সূরা বাকারা: ২২৯)