পিরিয়ড হওয়ার প্রায় ৪/৫ দিন আগে থেকে খুব হালকা লাল/পানি টাইপ ডিসচার্জ দেখা দিলে হুকুম?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 672
Questioner: S.M. Sefat
Question Asked: 24 May 2026, 03:05 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 03:34 PM
Views: 105
Tokens: 5,145
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
একটা বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম।
আমার স্ত্রীর পিরিয়ড হওয়ার প্রায় ৪–৫ দিন আগে থেকে খুব হালকা লাল/পানি টাইপ ডিসচার্জ দেখা যায়। পরে স্বাভাবিক পিরিয়ড হয়। বিয়ের পর থেকে এমন হচ্ছে।
বর্তমানে সহবাস করার এক সপ্তাহ পর থেকে এমন হচ্ছে। বীর্যপাত স্ত্রীঅঙ্গের মধ্যে করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পিরিয়ড পুরোপুরি হয় নি

এ অবস্থায় নামাজ ও রোজার হুকুম কী হবে?
এই হালকা লাল ডিসচার্জ কি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত ধরা হবে, নাকি স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ চালিয়ে যেতে হবে?
কুরআন-হাদিস বা নির্ভরযোগ্য ফিকহ অনুযায়ী জানালে উপকৃত হব।

Answer

উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থাটি বিশ্লেষণ করে হানাফী ফিকহের আলোকে নিম্নোত্তর প্রদান করা হলো:

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

আপনার স্ত্রীর যে হালকা লাল/পানি জাতীয় ডিসচার্জ পিরিয়ড শুরুর ৪-৫ দিন আগে থেকে হয় এবং পরে স্বাভাবিক পিরিয়ড হয়, এটি যদি তার নিয়মিত অভ্যাস হয় (অর্থাৎ প্রতিমাসে এমনটি হয়ে থাকে), এবং ঐ ডিসচার্জ শুরুর থেকে তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে ঐ ডিসচার্জ হায়েজের (মাসিক) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। তাই যেই মুহূর্ত থেকে এই ডিসচার্জ দেখা দেয়, সেই মুহূর্ত থেকে নামাজ ও রোজা বন্ধ করতে হবে। সম্পূর্ণ পিরিয়ড শেষে (সর্বোচ্চ ১০ দিন) গোসল করে নামাজ-রোজা পুনরায় শুরু করতে হবে।

বর্তমানে সহবাসের পর এক সপ্তাহ পর থেকে একই ধরনের ডিসচার্জ হচ্ছে এবং এখনো পূর্ণ পিরিয়ড হয়নি — এটিও যদি তার পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী পিরিয়ডের পূর্ববর্তী ডিসচার্জ হয়, তবে তা-ও হায়েজ বলেই গণ্য হবে। সুতরাং নামাজ-রোজা বন্ধ রাখতে হবে।

বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. হালকা রক্ত/ডিসচার্জ কি হায়েজ?

হানাফী মতে, হায়েজের রক্ত সাধারণত কালো, ঘন ও তীব্র গন্ধযুক্ত হয়। কিন্তু যদি কোনো নারীর অভ্যাস হয় যে, পূর্ণ পিরিয়ডের আগে কয়েকদিন হালকা লাল বা হলুদ স্রাব দেখা দেয় এবং পরে পূর্ন রক্ত আসে, তবে সেই হালকা স্রাবও হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হবে, যদি তা পিরিয়ডের সময়েই হয় (অর্থাৎ অভ্যাস অনুযায়ী) এবং পবিত্রতার কোনো ব্যবধান না থাকে।

দলিল:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন: “ঋতুর সময় যে হলুদ স্রাব দেখা যায়, তা হায়েজেরই অংশ।” (الدر المختار مع رد المحتار، كتاب الحيض، ج 1، ص 290)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে: “পিরিয়ডের সময় বা তার শুরুতে যে হলুদ বা লাল স্রাব দেখা যায়, তা হায়েজ গণ্য হবে; আর পবিত্রতার সময়ে দেখা গেলে তা ইস্তিহাজা (অর্থাৎ অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হবে।” (الفتاوى الهندية، كتاب الحيض، ج 1، ص 38)

২. অভ্যাসের গুরুত্ব:

যদি কোনো নারীর নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে (যেমন: ৪-৫ দিন হালকা স্রাব, তারপর ৫-৭ দিন পূর্ণ পিরিয়ড), তাহলে সেই অভ্যাসকে ‘আদাত’ বলে গণ্য করা হয়। হানাফী ফিকহে ‘আদাত’ (habits) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ভিত্তিতে হায়েজের শুরু ও শেষ নির্ধারণ করা হয়।

রেফারেন্স:

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/১২৭)
  • বেহেশতি জেওর (মাসিক সংক্রান্ত অধ্যায়)

৩. সহবাসের প্রভাব:

সহবাসের পর এই ডিসচার্জ দেখা দিলেও, যদি তা তার স্বাভাবিক পিরিয়ডের পূর্ববর্তী স্রাবের মতো হয় (এবং কোনো রোগ বা অন্য কারণ না থাকে), তাহলে তাকে হায়েজ হিসেবেই ধরা হবে। সহবাস হায়েজের সংঘটনে কোনো পরিবর্তন আনে না, বরং কখনো কখনো স্রাবকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

৪. পূর্ণ পিরিয়ড না হলে কী করবেন?

যেহেতু এই হালকা ডিসচার্জটি তার অভ্যাস অনুযায়ী পিরিয়ডের সূচনা, তাই ডিসচার্জ দেখার সাথেসাথেই নামাজ ও রোজা বন্ধ করতে হবে। পূর্ণ পিরিয়ড শেষে (অর্থাৎ রক্ত সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর) গোসল করে নামাজ শুরু করবেন। যদি এভাবে ১০ দিনের বেশি রক্ত চলতে থাকে, তবে তা ইস্তিহাজা হবে (অর্থাৎ প্রথম অভ্যাসের দিনগুলো হায়েজ, বাকি দিনগুলো ইস্তিহাজা)।

নামাজ ও রোজার হুকুম:

  • নামাজ: যতক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের স্রাব চলবে (অভ্যাস অনুযায়ী পিরিয়ডের দিন), ততক্ষণ নামাজ পড়া হারাম। পিরিয়ড শেষে গোসল করে কাযা করতে হবে না (কারণ হায়েজে নামাজ মাফ)।
  • রোজা: হায়েজের দিনগুলোতে রোজা রাখা হারাম। পরবর্তীতে সেই রোজাগুলো কাযা করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  1. যদি কোনো কারণে এই ডিসচার্জ তার স্বাভাবিক অভ্যাসের বিপরীত হয় (যেমন: অন্য সময়ে দেখা দেয় বা অন্য রকম হয়), তাহলে সেটি ইস্তিহাজা হতে পারে। সেক্ষেত্রে নামাজ-রোজা চালিয়ে যেতে হবে, তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন ওযু করতে হবে।
  2. আপনার স্ত্রী যদি আগে থেকে সুনির্দিষ্ট অভ্যাস নির্ধারণ করে না থাকে (যেমন: অনিয়মিত পিরিয়ড), তাহলে তাকে ‘মুস্তাহাজা’ (ইস্তিহাজায় আক্রান্ত) এর বিধান মানতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো বিশেষজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) – ১/২৯০-২৯২
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া – ১/৩৮
  • ফাতাওয়া উসমানী – ২/৩৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া – ২/১২৭
  • বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী) – মাসিক অধ্যায়

সর্বশেষ: আপনার স্ত্রীর ক্ষেত্রে যেহেতু বিয়ের পর থেকে এ অভ্যাস, এবং বর্তমানে সহবাসের পর একই ধরনের ডিসচার্জ, তাই এটি তার হায়েজের সূচনা ধরে নামাজ ও রোজা বন্ধ করবেন। পিরিয়ড শেষে গোসল করে সব কিছু স্বাভাবিক করবেন। প্রয়োজনে স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত আলেমের থেকে সরাসরি পরামর্শ নিতে পারেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.