"আমি তোর সাথে থাকবো না" বা "আলাদা হয়ে যাই" বললে কি তালাক হয়?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার স্বামী কিছু থেকে কিছু হলেই বলে আমি তোর সাথে থাকবো না। একসাথে থাকলেই যন্ত্রনা। এজন্যই ভালো বুদ্ধি দিয়েছি রে।চল আলাদা হয়ে যাই।এসব কথায় তালাক হবে কি
Answer
উত্তর (ফতোয়া)
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যগুলো লক্ষ্য করুন:
১. "আমি তোর সাথে থাকবো না" ২. "একসাথে থাকলেই যন্ত্রণা" ৩. "এজন্যই ভালো বুদ্ধি দিয়েছি রে" ৪. "চল আলাদা হয়ে যাই"
এসব কথায় তালাক পতিত হবে না। কারণ এগুলো তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ (সরীহ) নয়, বরং কিনায়া বা ইঙ্গিতমূলক শব্দ। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক তখনই পতিত হয় যখন স্বামী তালাকের নিয়ত করে অথবা পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট (হাল) তালাকের দিকে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। শুধু "আলাদা হয়ে যাই" বা "তোর সাথে থাকবো না" বললে—যদি না তালাকের নিয়ত থাকে—তালাক হয় না।
দলিল:
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"তালাক দুইবার। এরপর হয় সদ্ভাবে রাখা, নয়তো সুন্দরভাবে ছেড়ে দেওয়া।" (সূরা বাকারা: ২২৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা, ভুল এবং তা'আলার উপর জোরপূর্বক কিছু করালে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩)
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে, তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ (সরীহ) হলো: "তালাক", "ফিরাক", "সারাহ" ইত্যাদি। এছাড়া অন্যান্য শব্দ কিনায়া। কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত বা হাল (পরিস্থিতি) প্রয়োজন।
আল্লামা ইবনে আবিদিন শামী (রহ.) বলেন:
"কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হয় না, তবে নিয়ত বা দারুল হাল (পরিস্থিতির প্রমাণ) থাকলে পতিত হয়।" (রাদ্দুল মুহতার: ৩/২৯৮)
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:
"তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে তালাক হয় না, যদি না নিয়ত থাকে।" (ফাতাওয়া উসমানি: ২/৩৭০)
উপরোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ:
- আপনার স্বামীর এসব কথায় তালাক পতিত হয়নি।
- তবে যদি সে অন্তরে তালাকের নিয়ত করে থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।
- শুধু রাগের মাথায় বা অভিমানে এসব বলা হলে তালাক হয় না।
- ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার চেষ্টা করা উচিত।
পরামর্শ: আপনার স্বামী যদি বারবার এ ধরনের কথা বলে, তবে তাকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন যে, এভাবে কথা বলা ঠিক নয় এবং তালাকের শব্দ মুখে আনা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রয়োজনে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।
والله أعلم بالصواب