প্রথমে বেশি রোজার মান্নত করে পরে কমিয়ে দিলে কী হবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
উত্তর (ফতোয়া)
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, আপনি পরবর্তীতে কমিয়ে যে সংখ্যা ধরেছেন, সেটাই পূরণ করলে মান্নত আদায় হবে না। মান্নতের ক্ষেত্রে যে সংখ্যা প্রথমে নির্ধারণ করেছিলেন, সেটাই আদায় করা ওয়াজিব। পরবর্তীতে কমিয়ে নেওয়া বা বাড়িয়ে নেওয়া—কোনোটিই মান্নতের বাধ্যবাধকতা পরিবর্তন করে না। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি প্রথমে যে সংখ্যা মান্নত করেছিলেন তার চেয়ে বেশি রোজা রাখেন, তাহলে তা জায়েয এবং উত্তম; কিন্তু কম রাখলে মান্নত আদায় হবে না।
উল্লেখ্য, আপনি যেই বিষয়ে মান্নত করেছেন,তাহা পূরন হলেই কেবল মান্নত আদায় করা আবশ্যক হবে। অন্যথায় নয়।
মান্নত (নযর) হলো এমন একটি ইবাদত যা ব্যক্তি নিজের উপর ওয়াজিব করে নেয়। মান্নত পূর্ণ হওয়ার শর্ত হলো—যে বিষয়ের উপর মান্নত করা হয়েছে তা সংঘটিত হওয়া। আর মান্নত একবার করলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব হয়ে যায়; ইচ্ছেমতো কমানো-বাড়ানোর অধিকার থাকে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ
"আর তারা যেন তাদের মান্নতসমূহ পূর্ণ করে।"
(সূরা আল-হজ: ২৯)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ
"তারা মান্নত পূর্ণ করে।"
(সূরা আল-ইনসান: ৭)
হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ
"যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মান্নত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৯৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৫০)
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
মান্নতের ক্ষেত্রে সংখ্যা নির্ধারণ করলে সেই সংখ্যাই ওয়াজিব হয়। পরবর্তীতে তা কমিয়ে দেওয়া বা বাড়িয়ে দেওয়া—উভয়ই মান্নতের হুকুম পরিবর্তন করে না। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:
النذر يلزم بشرط وجود المعلق عليه، ولا يسقط بتغيير العدد
"মান্নত তার শর্ত পূর্ণ হলে ওয়াজিব হয়ে যায়; সংখ্যা পরিবর্তনের দ্বারা তা সাকিত হয় না।"
(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৭৩২-৭৩৪, দারুল ফিকর)
আল-হিদায়ায় এসেছে:
وإذا نذر صوم أيام معلومة لزمه ذلك العدد بعينه
"যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের রোজার মান্নত করে, তবে সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাই তার উপর ওয়াজিব হয়।"
(আল-হিদায়া, কিতাবুস সাওম, বাবুল নযর)
ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে আছে:
ولو قال: لله عليّ صوم شهر، ثم قال: بل نصفه، لم يقبل قوله، ويلزمه الشهر
"যদি বলে—আল্লাহর জন্য এক মাস রোজা রাখব; পরে বলে—না, অর্ধেক রাখব; তবে তার পরের কথা গ্রহণযোগ্য নয়, পুরো মাসই ওয়াজিব।"
(ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ২১০)